খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নান্দনিক রাউজানের নন্দিত জননেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
নান্দনিক রাউজানের নন্দিত জননেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী

মহিউদ্দিন ইমনঃ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ভালোবাসার ঠিকানা। যিনি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের জনগনের সেবা করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকান্ড সহ
ফুলে ফলে সুসজ্জিত বাগান তৈরী করে একটি উন্নত, আধুনিক, শান্তিময় উপজেলা হিসেবে সমাদৃত করেছেন নান্দনিক রাউজানের নন্দিত জননেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। যার তুলনা তিনি নিজেই।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে যিনি আরামের ঘুমকে হারাম করে দিনরাত পরিশ্রম করে সুন্দর, সমৃদ্ধ রাউজান তৈরি করেছেন। মেধা ও মননে, শয়নে স্বপনে, একাকি নির্জনে ধ্যানে জ্ঞানে, চিন্তায় চেতনে যিনি প্রতিনিয়ত রাউজান কে ধারণ করেন তিনিই ফজলে করিম চৌধুরী।

যিনি স্বপ্ন দেখেন আবার সে স্বপ্নের বাস্তবায়নও করেন। যিনি হাসলে হাসে রাউজান, যিনি এগিয়ে গেলে রাউজান এগিয়ে যায়, যিনি জাগ্রত থাকলে রাউজানের মানুষ নিরাপদে থাকে। একজন ফজলে করিম চৌধুরি শুধু একজন এমপি নই, পুরো একটি অন্ধকার জনপদকে আলোয় আলোয় সাজিয়ে দেওয়ার সপ্নদ্রষ্টা…

যারঁ ছোঁয়ায় আজ রাউজান সুভাসিত, শৃঙ্খলিত।
সাতাশ বছর ধরে যে মানুষটি রোদ-বৃষ্টি, ঝড় -ঝঞ্চা উপেক্ষা করে, আপন সংসার-সন্তানদের মায়া ত্যাগ করে, সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে, আনন্দে-বিষাদে,দৈব-দুর্বিপাকে ছাঁয়ার মত রাউজানের মানুষের পাশে ছিলেন।

সন্ত্রাস কবলিত, অনুন্নত, অনগ্রসর একটি জনপদকে যিনি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে সবুজে, সুন্দরে, শান্তিতে নিরাপত্তায় একটি অনন্য জনপদে পরিণত করেছেন। নিজ এলাকার বাইরে গিয়েও যিনি মানব কল্যাণে পিছপা হননি কোনোদিন। হাজার হাজার কর্মহীন যুবকের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন যিনি, রাউজানের মানুষের কল্যাণই যাঁর ভাবনার কেন্দ্র বিন্দু, তিনিই রাউজানের গণমানুষের প্রিয় নেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী।

১৯৯৬ সাল থেকে যাঁর হাত ধরে পরিবর্তিত হয়েছে অজস্র পরিবারের ভাগ্য, যে মানুষটা জীবনের অধিক সময় রাউজানের প্রতিটা মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন, যিনি নিজেকে কাজের মাধ্যমে রাউজানের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, যার দক্ষ নেতৃত্বে রাউজানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠন সমূহ ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক ঘোষিত সকল সভা, সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করেছেন, ঝড়, বৃষ্টি, রৌদ্র উপেক্ষা করে যে মানুষটা সবার আগে রাউজানে উপস্থিত হয়ে থাকেন।

যিনি রাউজানে উপজেলায় প্রতিটা ইউনিয়ন, পৌরসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল, আওয়ামী লীগের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় গড়ে তুলেছেন, যিনি রাউজানকে হরতালমুক্ত ঘোষণা করছেন। দুষ্টের দমন শিষ্টের লালন করেছেন। সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতার বিপক্ষের ঘাঁটি খ্যাত রাউজানকে তিনি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করেছেন, রক্তাক্ত রাউজানকে যিনি শান্তির রাউজানে পরিণত করেছেন।

বঙ্গবন্ধুরর আদর্শ বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় ৯৬ সাল হতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যিনি ২০০১, ২০০৭ সালে রাজনীতিতে চরম দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, নেতাকর্মীরা বিপদে আপদে পাশে পেয়েছেন তাঁকে,তৃনমুলের কর্মীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রয়েছে তাঁর।

তিনি বিগত সময়ে বিএনপি-জামাত জোটের যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জাতীয় নির্বাচন ২০০৯ বানচাল করার ষড়যন্ত্র, ত্বরিকতের নামে নৈরাজ্য , হেফাজতের তান্ডব, জালাও পোড়াও পেট্রোল সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা রাজনীতির বিপরীতে তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিরোধ করেছেন । এই অবস্থানে আসার পথ মসৃণ ছিল না। অনেক ত্যাগ ও মাসূল দিয়ে এরকমভাবে উঠে আসা রাজনীতির মাঠে বিরল।

তিনি গ্রীন, ক্লিন, পিংক রাউজানে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি রাউজানের মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কে চার লেইন উপহার, রাউজানে পিংক সিটি-১, পিংক সিটি-২ গড়ে তুলেছেন, রাউজানের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য অত্যাধুনিক ট্রমা সেন্টার, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম সেন্টার, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলছেন রাউজানের মানুষের কর্মসংস্থান এর কথা বিবেচনা করে শিল্পনগর গড়ে তুলেছেন।

যিনি নিজে পায়ে হেঁটে হেঁটে পুরা রাউজানের মানুষের কথা শুনেছেন, দেখেছেন এবং সেটা তাৎক্ষণিক সমাধান করেছেন। রাউজানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণ, এমপিওভুক্তকরণ ও নতুন নতুন ভবন উপহার দিয়েছেন। রাউজানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গোলাপি রাউজান হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন।

করোনাকালীন সময়ে রাউজানের মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য,স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী গুলো সুষ্টভাবে বিতরন করেছেন। তাঁরই সার্বক্ষণিক তদারকিতে হেল্পডেক্স টিমের মাধ্যমে করোনায় মৃত ব্যাক্তিদের দাফন কাফন,সৎকার এর ব্যবস্থা করছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাউজান উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ভূমি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মধ্যে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গৃহহীন মানুষের জন্য জায়গাসহ ঘর উপহার দিয়েছেন। রাউজানের কৃষকদের জন্য প্রতিনিয়ত বিনামূল্যে বীজ, সার উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সকল ভাতা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

রাউজানকে অসাম্প্রদায়িক রাউজান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। রাউজানের মানুষ আজ নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করে যাচ্ছেন। তরুণদের খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে খেলা মাঠ তৈরি ও উন্নতমানের দর্শক গ্যালারী উপহার দিয়েছেন। রাউজানে যুবকদের জন্য ডিজিটাল কম্পিউটার সেন্টার ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উপহার দিয়েছেন। রাউজানের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স, শেখ কামাল কমপ্লেক্স, মার্স্টার দা সূর্যসেন কমপ্লেক্স গড়ে তুলছেন। রাউজানে অসংখ্য অসংখ্য নতুন নতুন রাস্তাঘাট, ব্রিজ গড়ে তুলছেন এবং সংস্কার করেছেন।

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বুদ্ধিমত্তা, ধের্য্যর সাথে এগিয়ে চলা, সিদ্ধান্তে অবিচলতা, প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার অতুলনীয় শক্তি ও সাহস,কর্মীর সঠিক মূল্যায়নের ক্ষমতা, অসীম সাহসীকতা, মানবিকতা, ও আত্মপ্রত্যয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব৬ পালন। যিনি কর্মে, শ্রমে,অবস্থানে, দক্ষতায়, নৈপুণ্যে সব দিক থেকে এগিয়ে অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন তিনি।

স্মার্ট রাউজানের রূপকার এ বি এম
ফজলে করিম চৌধুরীর রাজনীতিতে একজন পরিক্ষিত, ত্যাগী, কর্মপরায়ণ, ব্যাক্তিগত জীবনের একজন সাহসী মানুষ হিসেবে পরিচিত ও সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছেন।

মানুষের প্রাপ্য সম্মান থেকে তাঁকে কোন ভাবেই উচিত নয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা, সফল রাষ্টনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ড কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র, শোষণ মুক্ত স্বনির্ভর সোনার বাংলা বিনার্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ সারথি হিসেবে একজন কর্মোদ্যম, সৎ,যোগ্য,করিৎকর্মা জননেতা জনাব এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা বান্ধব শান্তি সমৃদ্ধি আধুনিক রাউজানের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে এটাই কামনা করছি।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।