খুঁজুন
, ,

নান্দনিক রাউজানের নন্দিত জননেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 November, 2023, 8:53 pm
নান্দনিক রাউজানের নন্দিত জননেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী

মহিউদ্দিন ইমনঃ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ভালোবাসার ঠিকানা। যিনি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের জনগনের সেবা করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকান্ড সহ
ফুলে ফলে সুসজ্জিত বাগান তৈরী করে একটি উন্নত, আধুনিক, শান্তিময় উপজেলা হিসেবে সমাদৃত করেছেন নান্দনিক রাউজানের নন্দিত জননেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। যার তুলনা তিনি নিজেই।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে যিনি আরামের ঘুমকে হারাম করে দিনরাত পরিশ্রম করে সুন্দর, সমৃদ্ধ রাউজান তৈরি করেছেন। মেধা ও মননে, শয়নে স্বপনে, একাকি নির্জনে ধ্যানে জ্ঞানে, চিন্তায় চেতনে যিনি প্রতিনিয়ত রাউজান কে ধারণ করেন তিনিই ফজলে করিম চৌধুরী।

যিনি স্বপ্ন দেখেন আবার সে স্বপ্নের বাস্তবায়নও করেন। যিনি হাসলে হাসে রাউজান, যিনি এগিয়ে গেলে রাউজান এগিয়ে যায়, যিনি জাগ্রত থাকলে রাউজানের মানুষ নিরাপদে থাকে। একজন ফজলে করিম চৌধুরি শুধু একজন এমপি নই, পুরো একটি অন্ধকার জনপদকে আলোয় আলোয় সাজিয়ে দেওয়ার সপ্নদ্রষ্টা…

যারঁ ছোঁয়ায় আজ রাউজান সুভাসিত, শৃঙ্খলিত।
সাতাশ বছর ধরে যে মানুষটি রোদ-বৃষ্টি, ঝড় -ঝঞ্চা উপেক্ষা করে, আপন সংসার-সন্তানদের মায়া ত্যাগ করে, সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে, আনন্দে-বিষাদে,দৈব-দুর্বিপাকে ছাঁয়ার মত রাউজানের মানুষের পাশে ছিলেন।

সন্ত্রাস কবলিত, অনুন্নত, অনগ্রসর একটি জনপদকে যিনি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে সবুজে, সুন্দরে, শান্তিতে নিরাপত্তায় একটি অনন্য জনপদে পরিণত করেছেন। নিজ এলাকার বাইরে গিয়েও যিনি মানব কল্যাণে পিছপা হননি কোনোদিন। হাজার হাজার কর্মহীন যুবকের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন যিনি, রাউজানের মানুষের কল্যাণই যাঁর ভাবনার কেন্দ্র বিন্দু, তিনিই রাউজানের গণমানুষের প্রিয় নেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী।

১৯৯৬ সাল থেকে যাঁর হাত ধরে পরিবর্তিত হয়েছে অজস্র পরিবারের ভাগ্য, যে মানুষটা জীবনের অধিক সময় রাউজানের প্রতিটা মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন, যিনি নিজেকে কাজের মাধ্যমে রাউজানের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, যার দক্ষ নেতৃত্বে রাউজানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠন সমূহ ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক ঘোষিত সকল সভা, সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করেছেন, ঝড়, বৃষ্টি, রৌদ্র উপেক্ষা করে যে মানুষটা সবার আগে রাউজানে উপস্থিত হয়ে থাকেন।

যিনি রাউজানে উপজেলায় প্রতিটা ইউনিয়ন, পৌরসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল, আওয়ামী লীগের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় গড়ে তুলেছেন, যিনি রাউজানকে হরতালমুক্ত ঘোষণা করছেন। দুষ্টের দমন শিষ্টের লালন করেছেন। সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতার বিপক্ষের ঘাঁটি খ্যাত রাউজানকে তিনি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করেছেন, রক্তাক্ত রাউজানকে যিনি শান্তির রাউজানে পরিণত করেছেন।

বঙ্গবন্ধুরর আদর্শ বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় ৯৬ সাল হতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যিনি ২০০১, ২০০৭ সালে রাজনীতিতে চরম দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, নেতাকর্মীরা বিপদে আপদে পাশে পেয়েছেন তাঁকে,তৃনমুলের কর্মীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রয়েছে তাঁর।

তিনি বিগত সময়ে বিএনপি-জামাত জোটের যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জাতীয় নির্বাচন ২০০৯ বানচাল করার ষড়যন্ত্র, ত্বরিকতের নামে নৈরাজ্য , হেফাজতের তান্ডব, জালাও পোড়াও পেট্রোল সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা রাজনীতির বিপরীতে তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিরোধ করেছেন । এই অবস্থানে আসার পথ মসৃণ ছিল না। অনেক ত্যাগ ও মাসূল দিয়ে এরকমভাবে উঠে আসা রাজনীতির মাঠে বিরল।

তিনি গ্রীন, ক্লিন, পিংক রাউজানে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি রাউজানের মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কে চার লেইন উপহার, রাউজানে পিংক সিটি-১, পিংক সিটি-২ গড়ে তুলেছেন, রাউজানের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য অত্যাধুনিক ট্রমা সেন্টার, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম সেন্টার, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলছেন রাউজানের মানুষের কর্মসংস্থান এর কথা বিবেচনা করে শিল্পনগর গড়ে তুলেছেন।

যিনি নিজে পায়ে হেঁটে হেঁটে পুরা রাউজানের মানুষের কথা শুনেছেন, দেখেছেন এবং সেটা তাৎক্ষণিক সমাধান করেছেন। রাউজানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণ, এমপিওভুক্তকরণ ও নতুন নতুন ভবন উপহার দিয়েছেন। রাউজানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গোলাপি রাউজান হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন।

করোনাকালীন সময়ে রাউজানের মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য,স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী গুলো সুষ্টভাবে বিতরন করেছেন। তাঁরই সার্বক্ষণিক তদারকিতে হেল্পডেক্স টিমের মাধ্যমে করোনায় মৃত ব্যাক্তিদের দাফন কাফন,সৎকার এর ব্যবস্থা করছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাউজান উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ভূমি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মধ্যে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গৃহহীন মানুষের জন্য জায়গাসহ ঘর উপহার দিয়েছেন। রাউজানের কৃষকদের জন্য প্রতিনিয়ত বিনামূল্যে বীজ, সার উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সকল ভাতা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

রাউজানকে অসাম্প্রদায়িক রাউজান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। রাউজানের মানুষ আজ নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করে যাচ্ছেন। তরুণদের খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে খেলা মাঠ তৈরি ও উন্নতমানের দর্শক গ্যালারী উপহার দিয়েছেন। রাউজানে যুবকদের জন্য ডিজিটাল কম্পিউটার সেন্টার ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উপহার দিয়েছেন। রাউজানের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স, শেখ কামাল কমপ্লেক্স, মার্স্টার দা সূর্যসেন কমপ্লেক্স গড়ে তুলছেন। রাউজানে অসংখ্য অসংখ্য নতুন নতুন রাস্তাঘাট, ব্রিজ গড়ে তুলছেন এবং সংস্কার করেছেন।

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বুদ্ধিমত্তা, ধের্য্যর সাথে এগিয়ে চলা, সিদ্ধান্তে অবিচলতা, প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার অতুলনীয় শক্তি ও সাহস,কর্মীর সঠিক মূল্যায়নের ক্ষমতা, অসীম সাহসীকতা, মানবিকতা, ও আত্মপ্রত্যয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব৬ পালন। যিনি কর্মে, শ্রমে,অবস্থানে, দক্ষতায়, নৈপুণ্যে সব দিক থেকে এগিয়ে অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন তিনি।

স্মার্ট রাউজানের রূপকার এ বি এম
ফজলে করিম চৌধুরীর রাজনীতিতে একজন পরিক্ষিত, ত্যাগী, কর্মপরায়ণ, ব্যাক্তিগত জীবনের একজন সাহসী মানুষ হিসেবে পরিচিত ও সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছেন।

মানুষের প্রাপ্য সম্মান থেকে তাঁকে কোন ভাবেই উচিত নয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা, সফল রাষ্টনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ড কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র, শোষণ মুক্ত স্বনির্ভর সোনার বাংলা বিনার্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ সারথি হিসেবে একজন কর্মোদ্যম, সৎ,যোগ্য,করিৎকর্মা জননেতা জনাব এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা বান্ধব শান্তি সমৃদ্ধি আধুনিক রাউজানের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে এটাই কামনা করছি।

Feb2
Feb2

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 12:59 pm
হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে দুই অভিযুক্ত খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এদিন বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। পরে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়।

গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে এ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

নিহতদের মুখ ঝলসানো

এদিকে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার চারজনের মুখই ঝলসানো ছিল। তাদের মুখমণ্ডল থেকে দাহ্য (তরল) পদার্থ পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো রাসায়নিক কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল।

সুমিত চৌধুরী বলেন, নিহতদের মুখ প্রাথমিক অবস্থায় বীভৎস বা ঝলসানো ছিল। মুখের কাছে কিছু তরল পড়ে ছিল। তাতে আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিলাম, কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না। যে চিকিৎসক ফরেনসিক করবেন, তাকে আমরা এ ব্যাপারে বলেছি। তাদের শরীরে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলে এটা নিশ্চিত হতে পারব।

রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাতে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ শ্মশানে দাহ করা হয়। এ সময় স্বজনেরা চারজনের মুখমণ্ডল ঝলসানো দেখতে পান।

প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সন্ধ্যায় মরদেহগুলো হস্তান্তরের পর আমরা দেখতে পাই, তাদের মুখগুলো ঝলসানো। এর আগে পুলিশ আমাদের মরদেহের কাছে যেতে দেয়নি।

তবে মরদেহের ময়নাতদন্তকারী রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক মেডিসিনের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, মরদেহগুলো পঁচে যাবার কারণে দেখতে এমন মনে হচ্ছে, কোনো এসিডে ঝলসানোর ঘটনা নেই।

মামলার এজাহারে যা আছে

এদিকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় রোববার কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড়ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মোবাইল ফোন থেকে তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবারও বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় রাতে স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।

বাড়িটি তখন অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার তালা ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি দেখেন, জিনিসপত্র এলোমেলো। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

এক মাস আগে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী

রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় এক মাস আগে গণপতি চক্রবর্তী তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করবেন বলে তিনি এই টাকা তুলেছিলেন। তবে সেই তিনি টাকা ব্যাংকে রেখেছিলেন নাকি বাড়িতে, তা বলতে পারব না।

গণপতির বড় ভাই ও মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, গণপতি নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করার কথা ছিল তার।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, ব্যাংকে খোঁজ নিলে এ টাকার তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা এখনো খোঁজ নিতে পারিনি।

বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন, বাধা দেয়ায় হত্যাকাণ্ড

এদিকে, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় ওই শিক্ষকের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার পর তারা হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। সম্পর্কে তারা আত্মীয় এবং দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়। রোববার ভোরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই খুনি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে আসে। তারা ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের চিৎকারে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিরা জানিয়েছে- গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরার পরও প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হচ্ছিল না, প্রায় চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময় তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। সর্বশেষে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সেগুলো নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। অভিযুক্তদের দেখানো মতে সেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে, যাতে পুলিশ এটিকে ডাকাতি বলে মনে করে। এছাড়া আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে সেজন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় বলেও জানান তিনি।

কিছু বিষয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কাকতালীয়ভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের চারজন, অভিযুক্ত দুই আসামি, আসামি গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেয়া পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবাই একই ধর্মাবলম্বী হওয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। এমনকি এক আসামির পরনের শার্ট এবং গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে থাকা শার্ট একই রকম হওয়ায়, অনেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন।