খুঁজুন
, ,

নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সিএমপি : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 January, 2020, 9:40 pm
নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সিএমপি : সুজন

নগরীর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃংখলা ফিরিয়ে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ(সিএমপি) সক্ষম হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ রবিবার (৫ জানুয়ারী) বিকেলে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদ খান এর সাথে তার দপ্তরে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় কালে উপরোক্ত মত প্রকাশ করেন।

এ সময় সুজন বলেন চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ভৌগলিক দিক থেকেও এ শহরের গুরুত্ব অত্যধিক। বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বিপুল সংখ্যক জনগনের বসবাস। এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দেওয়া এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আর এ চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দূর্নীতি এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টরালেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

তিনি বলেন,ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এ অগ্রযাত্রায় সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করছে চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে একটি উন্নততর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে মেধা, মনন ও প্রশিক্ষণের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। জনগনের যে কোন বিপদে আপদে পুলিশ বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় থানাগুলো জনগনের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আইন শৃংখলার পাশাপাশি নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃংখলা ফিরিয়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

সুজন নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সয়ংক্রিয় এবং আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদ খান নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং বিশ্বস্ততার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে পুলিশের প্রতিটি সদস্য।

সন্ত্রাস, দূর্নীতি এবং মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সবসময়ই অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে সুশাসন নিশ্চিত করাই পুলিশ বাহিনীর লক্ষ্য। তিনি জনগনকে নিরাপদে নির্ভয়ে পুলিশ বাহিনীকে সহযোগিতা করারও আহবান জানান। নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তাছাড়া জেব্রা ক্রসিং এবং গাড়ী পার্কিং এর জায়গা চিহ্নিত করণের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি শৃংখলায় নিয়ে আসার জন্য নগরবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সুশৃংখল ভাবে মেনে চলার জন্য চট্টগ্রামের নগরবাসী সহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে সুজন পুলিশ সপ্তাহ ২০২০ উপলক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদ খান কে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা অর্পন করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডিসি (নগর বিশেষ শাখা) কাজেমুর রশীদ কাজল, আব্দুর রহমান মিয়া, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, নুরুল কবির, মোরশেদ আলম, অনির্বাণ দাশ বাবু, রকিবুল আলম সাজ্জী প্রমূখ।

Feb2
Feb2

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 8:07 am
ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং সেখানকার ইহুদি জনগণের প্রতি নিজের অটল সমর্থন আবারও স্পষ্ট করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (ইহুদিবাদী) রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আর্জেন্টিনার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত সোমবার স্থানীয় য়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলেই তার কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন মিলেই। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি-জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি- আসলে তাওরাত (তোরাহ) ও বাইবেলের ‘দশটি আদেশের’ (টেন কমান্ডমেন্টস) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো: চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস বা মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের কাহিনীর মধ্যেই স্বাধীনতার মূল ধারণা গভীরভাবে নিহিত রয়েছে। প্রথম আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। নিয়মিত বিভিন্ন র‍্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) পরামর্শও নিয়ে থাকেন তিনি।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না এবং এই মূল্যবোধগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে মিলেই ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, সামগ্রিক সব বিষয়ের জন্য কোনো নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ হতে পারে না; বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

২০২৩ সালের শেষভাগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন বা রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি ইসরায়েল যান। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেয়ালে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।