খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানায় রেকার চাপায় দিনমজুরের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 14 January, 2024, 8:48 pm
মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানায় রেকার চাপায় দিনমজুরের মৃত্যু

মিরসরাই প্রতিনিধি::::চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানায় স্ক্রাপ আলোড় করার সময় রেকারের চাকার নিচে পৃষ্ঠ হয়ে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সুজন চন্দ্র নাথ (৩০)।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকায় বিএসআরএম কারখানার অব্যন্তরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র নাথের ছেলে।

বিশ্বস্থ সুত্রে জানাযায়, লোহার দরপতন ও স্ক্রাপ জাহাজ কাটা বন্ধ থাকায় গত দুই মাস বন্ধ ছিল বিএসআরএম কারখানায় স্ক্রাপ আনলোডিং এর কাজ। দীর্ঘ ২ মাস বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার ১৪ জানুয়ারি পুনরায় শুরু হয় লরি থেকে স্ক্রাপ আনলোডিং এর কাজ। ২ মাসের বেকারত্ব শেষে অন্যান্য দিনমজুরের সাথে কাজে যোগ দেন এতিম সুজন। কাজের ফাঁকে লরি থেকে স্ক্রাপ রিসিভ করে মোভ করার সময় বিএসআরএম কারখানায় একটি নিজ্বস্ব রেকারের সামনের চাকার নিচে পৃষ্ঠ হন সুজন। এতে রেকারের চাকার চাপে অন্ডকোষ ফেটে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। নিহত সুজন হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি শ্রমিক সাপ্লাইয়ার এজেন্টের মাধ্যমে বিএসআরএম কারখানায় অন্যান্যদের মতোই দিন মজুর হিসেবে কাজ করতেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিএসআরএম এর স্ক্রাপ আনলোডিং এর মতো ঝুঁকি পূর্ণ কাজ করলেও নিহত সুজনদের মতো কয়েক হাজার দিনমজুর কেউ বিএসআরএম কারখানার নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক কিংবা দিনমজুর নয়। ফলে এখানে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় বহু শ্রমিক মারা গেলেও তাদের দায় এড়িয়ে যায় এই বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি।

শ্রমিক মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, শ্রমিকটি বিএসআরএম কারখানার অভ্যন্তরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তবে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক মৃত্যুতে ক্ষতি পুরনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন শ্রমিকরা বিএসআরএম কারখায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত নয় তাই তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তারা সাপ্লাইয়ারদের মাধ্যমে কারখানায় কাজ করে তবুও কেই ক্ষতিগ্রস্ত হলে যতটুক সম্ভব সহায়তা করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, বিএসআরএম কারখানায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। নিহতের মৃতদেহ তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।
বাংলাদেশ শিল্প ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কুসুম আক্তার সোমা জানান, যে কোন কলকারখানায় শ্রমিক দুর্ঘটনা কিংবা নিহতসহ নিরাপত্তা জনিত যে কোন ঘটনার তথ্য আমাদেরকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত বিএসআরএম কারখানায় যেকোন দূর্ঘটনার তথ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়না। আজকের ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে যাচাই করে দেখা হবে নিরাপত্তার কোন ঘাটতির কারনে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে কিনা।

স্থানীয় ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার জানান, বিএসআরএম কারখানায় তার ঠিকাদারি কাজ না থাকায় কারখানার অভ্যন্তরের বিষয়গুলো জানা নেই। শ্রমিক মৃত্যুর খবরটি তিনি জানেন না।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।