খুঁজুন
, ,

“প্রেসক্লাব নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিক ঐক্য”

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 12 August, 2024, 12:26 am
“প্রেসক্লাব নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিক ঐক্য”

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর সাংবাদিক নামধারী পলিটিক্যাল একটিভিষ্টদের একটি বক্তব্যের বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব থেকে বিতাড়িত এই প্রোপাগান্ডা গোষ্ঠি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম, গণহত্যা ও রক্তপাতের বিনিময়ে অর্জিত ছাত্র-জনতার বিজয়কে কালিমা লিপ্ত করার জন্য নানা অপপ্রচার এবং গুজব ছড়াচ্ছে।

১। সাধারনত প্রেসক্লাব হচ্ছে সাংবাদিকদের দ্বিতীয় আবাসস্থল এবং দেশবাসীর কাছে ‘মিনি পার্লামেন্ট’ হিসেবে খ্যাত। কিন্তু এই সাংবাদিক নামধারী গোষ্ঠিটি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে দলীয় কাযালয়, ফ্যাসিবাদ চর্চ্চার আখড়া এবং ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলসমূহের কর্মসূচিতে হামলার কেন্দ্রে পরিনত করেছিলো।

২। বিতাড়িত ফ্যাসবিাদরে দোসর এই গোষ্ঠটি গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র-জনতার উপর চলিত গণহত্যার উস্কানী দিয়েছে। বিগত সময়ে দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক নয়া দগিন্ত, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক কর্ণফুলী অফিস লুটপাট করার পরিকল্পনা এই প্রেসক্লাবেই করা হয়েছিলো। সাংবাদিক নামধারীদের প্ররোচনা ও নেতৃত্বেই উল্লেখিত মিডিয়া হাউসগুলোতে গিয়ে সন্তাসীরা সাংবাদকিদের উপর হামলা চালায় ও লুটপাট করে।

৩। প্রেসক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত মহামান্য হাইকোর্টের ৩টি মামলা বিচারাধীন আছে। মামলা সমূহ হচ্ছে, রিট মামলা নং ১০৬৪/২০১৮, ১৬১০৯/২০২২ এবং সিভিল মামলা নং ৫১৬৮/২০২২। মহামান্য হাইকোর্ট এবং জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের আদেশ অমান্য করে বেআইনীভাবে কমিটি গঠন করে কথিত কমিটি প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে যা স্বেচ্ছাসেবী সমাজসেবা সংস্থা সমূহ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ এবং তথ্যসংক্রান্ত বিধিমালা ১৯৬২ এর সুস্পষ্ট লংঘন। যেহেতু উক্ত আইন এবং মহামান্য হাইকোর্ট ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় প্রেস ক্লাব পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, সেহেতু এগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনী ও এখতিয়ার বহির্ভূত।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ৩০/১০/১৯৯০ সালের (স্মারক নং- সসাআদছ/২১৮২) জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের নিবন্ধন গ্রহণ করে যার নিবন্ধন নং- চট্ট ১৫৮৩/১৯৯০

৪। প্রেসক্লাবের বর্তমান সদস্য তালকিায় অর্ধেকেরও বেশি ভূয়া সাংবাদকি এবং দলীয় কর্মী। যারা মূলত চাঁদাবাজির মাধ্যমে জীবন- জীবিকা নির্বাহ করে । এদের সার্বক্ষনিক কাজ ছিলো ফ্যাসিস্ট সরকারের নানা অপকর্মের
তাবেদারি ও ভিন্নমত দমনের পাঁয়তারা করা।

৫। এখানে চট্টগ্রামে কর্মরত দুই- তৃতীয়াংশ সাংবাদিকের প্রবশাধিকার দেয়া হয়না। শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদের দোসর এবং তাদের কোটরীবদ্ধ ব্যাক্তিরা এখানে অর্ন্তভূক্ত। অথচ চোরাকারবারী, সমাজ বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিদের কাছে ‘আজীবন সদস্য’ পদের বিনিময়ে মোটা অর্থ আদায় করতো।

৬। এদের মূল কাজই ছিলো চাঁদাবাজি এবং ফ্যাসিবাদী সরকাররে উচ্ছৃষ্ট ভোগ করা। বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের অর্থে এরা পিকনিকের নামে ফাইভ স্টার হোটলে গিয়ে আনন্দ-র্ফূতি করতো। প্রেসক্লাবকে তারা মদ-জুয়া এবং অবৈধ হাউজি খেলার আখড়া বানিয়েছে।

৭।চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বর্তমান জায়গা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর অবদান। এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাংবাদকিদের জন্য মোটা অংকের অর্থ অনুদান দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালদা জিয়ার সরকার দুই দফায় নগরীর শেরশাহ কলোনী এবং কল্পলোক আবাসিক এলাকায় কয়েক’শ সাংবাদিকের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদের দোসররা এই ইতিহাস একেবারেই মুছে দিয়েছে।

৮। গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ ফ্যাসিবাদ অভ্যুত্থানের দিন বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রেসক্লাব থেকে বিতাড়িত করে প্রকৃত সাংবাদকিদের জন্য তা উম্মুক্ত করে দিয়েছে। বৈষম্যের শিকার সাংবাদকিরা জনতার রোষানাল থেকে চট্টগ্রাম প্রসেক্লাবকে রক্ষা করেছে।বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের দোসররা ছাত্র-জনতার বিজয় এবং বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা ধরনের গুজব, অপপ্রচার এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে।

৯। ৫ আগষ্টের পর জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের সবগুলো প্রেসক্লাবকে ফ্যাসিবাদের দোসর ও অপশক্তি মুক্ত করা হয়ছে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তার ধারাবাহিকতা। প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদকিরা তা আনন্দচিত্তে মেনেও নিয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রামের বিতাড়িত গোষ্ঠিটি নানাভাবে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

১০। বিতাড়িত গোষ্ঠিটি ফ্যাসিবাদী সরকারের সহায়তায় লুটপাট করা অর্থ নিয়ে আবার প্রেসক্লাব কূক্ষিগত করতে মাঠে নেমেছে। তারা একদিকে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে পার্টির নাম করে জড়ো হয়ে সদ্যগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকাররে বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। লুটপাটের টাকায় তারা ছাত্র- জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের জাঁকজমকর্পূণ সংবর্ধনার প্রস্তাব ও করেছিলো। একই সাথে পটপরিবর্তনের পর মাঠে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে র্ধনা দিয়ে নানা লোভনীয় প্রস্তাব ও করছে।

Feb2
Feb2

টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 11:37 pm
টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

রাজধানী ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলে দূষণের এই মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার কাছাকাছি অবস্থান এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের কারণে এমন দূষণ ঘটছে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে তেলের এসব নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বে এবারই প্রথম কোনো গবেষণায় উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশ বা ফাইবারজাতীয়। পাশাপাশি ৫৬.২৯ শতাংশ কণা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং ৩৫.৮৪ শতাংশ কণার আকার ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি প্রাক্কলনও তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণায়। এতে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তবে কম ওজনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। একটি শিশু তার জীবনদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষণা দলটির প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহে প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোজ্যতেলের এই দূষণের আগে দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরব্যাপী পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) প্লাস্টিক কণা রয়েছে।

ইএসডিওর ওই গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা ছিল মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়। এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই এই দূষক পাওয়া যায়। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 9:29 pm
শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কারণে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠটি শিশু-কিশোরদের জন্য কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাঠটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক মাঠের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, একসময় এই মাঠে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারত না। মাঠটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধার করেছি এবং যেহেতু এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন, তাই নগরবাসীর জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে শিশু, কিশোর, তরুণসহ সকল বয়সের মানুষ খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, মাঠটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। আমরা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মানের একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং সেদিন নগরবাসীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটি উদ্বোধন করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলার মাঠের বিকল্প নেই, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপদ ও মানসম্মত খেলার মাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ মাসে আমি প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ উন্নয়ন ও প্রস্তুত করা হয়েছে। আমি নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। এখনো প্রায় ৩০টি মাঠের উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

মেয়র বলেন, একটি আধুনিক, সুস্থ ও মানবিক নগর গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, বিনোদন ও সামাজিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরবাসীর জন্য আরও নতুন নতুন উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, মহানগর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 8:58 pm
মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী 

বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রকার তদবির বা উৎকোচ ছাড়া মাত্র ১২৫ টাকা খরচে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরি সম্পন্ন হওয়ার কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

আজ সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হল রুমে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে আপনারা যারা চাকরি পেয়েছেন এবং আপনাদের অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিগত ২০ বছর ধরে এ দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুষ্টু লোকের দুর্নীতির বোঝা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে টানতে হয়। তাই সকলকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পরম সততার সাথে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের প্রতি তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে সর্বপ্রথম ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে।

জনগণের অধিকার ও সেবা প্রদান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বলে থাকেন—যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, সেই জনগণই হলো এদেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে।” এ সময় বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনা অন্তরে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদানকারী নতুন পেশকারদের সততা ও মনোভাব প্রশংসনীয়। সমাজে শ্রেণী বৈষম্য দূর করা, দুঃখী মানুষের কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী নবযোগদানকৃতদের নিজ নিজ বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সততার সাথে দেশের ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে অন্যান্য বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় এসে জনগণ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘সিটিজেন সার্ভিস’ চালু করেছে এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা কানুনগো পদে পদোন্নতি প্রদান নিশ্চিত করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের পক্ষে মোছা. ফারহানা খাতুন, মো. শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ আবেগজড়িত কণ্ঠে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ায় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।