খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেএসআরএম নবীন তিন স্থপতিকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২০, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
কেএসআরএম নবীন তিন স্থপতিকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : ভবিষ্যৎ স্থপতিদের উৎসাহ দিতে ‘কেএসআরএম অ্যাওয়ার্ডস ফর ফিউচার আর্কিটেক্টস: বেস্ট আন্ডারগ্র্যাজুয়েট থিসিস’ শিরোনামে কর্মসূচির আওতায় নবীন স্থপতিদের অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে কেএসআরএম।

১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেরা গবেষণাপত্রের প্রকল্প প্রদর্শনীর পর জুড়ি বোর্ডের বিচার বিশ্লেষনের পর এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।

কেএসআরএম ও আইএবি’র যৌথ উদ্যোগে সেরা গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রদর্শনের পর বিজয়ী নবীন স্থপতিদের এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি কেএসআরএম’র সাথে আইএবি’র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কেএসআরএম অ্যাওয়ার্ড কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ২৫ থেকে ২৭ ডিসেম্বর তিনদিনব্যাপী প্রকল্প প্রদশর্নী অনুষ্ঠিত হয়।

এতে আইবি’র অধিভুক্ত দশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনটি করে মোট ৩০টি সেরা গবেষণাপত্র প্রকল্প আকারে প্রদর্শন করা হয়। এরমধ্যে সেরাদের সেরা নির্বাচিত করা হয় তিন অংশগ্রহণকারীকে।

একটি অভিজ্ঞ ও উচ্চ পর্যায়ের জুড়ি বোর্ড আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর দুরদর্শিতা ও মেধা প্রকাশের ভিত্তিতে তাদের নির্বাচিত করেন।
বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শন শেষে বিজ্ঞ জুড়ি বোর্ডের বিবেচনায় সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ৩জন। এরমধ্যে প্রথম হয়েছেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির মো. আরমান আলম, দ্বিতীয় হয়েছেন আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃষ্টি সরকার ও তৃতীয় হয়েছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রহমান গোলাম মাহমুদুর।

এছাড়া ফাহিম হাসান ও শরীফুল আলমকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার। বিজয়ীদের হাতে অর্থ পুরষ্কার, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, কেএসআরএম’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান, পরিচালক সারোয়ার জাহান, আইএবি’র প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ এফআইএবি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, একুশে টেলিভিশনের সিইও মনজুর আহসান বুলবুল, বাংলানিউজ ২৪.কম-এর সম্পাদক জুয়েল মাজাহার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপূর্তমন্ত্রী রেজাউল করিম বলেন, সব ক্ষেত্রে নবীনদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরলস প্রচেষ্টা থাকলে তারা বিকশিত হতে পারবে। সময় এসেছে স্কোর ভিত্তিক স্ক্যানিংয়ের। সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হলেও নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উন্নয়ন হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটি অনাকাঙ্খিত ব্যবস্থার মধ্যে বিরাজমান রয়েছি। সেই ব্যবস্থার মধ্য থেকে উত্তরণের জন্য আমরা যারা অবিরাম পরিশ্রম করে চলছি, তারমধ্যে আপনারাও (স্থপতি) আছেন।

বিশেষ অতিথি উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, স্থপতিদের জন্য দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠীরা উদ্যোগ নিলে আমাদের সন্তানরা আরও উৎসাহী হবেন। আমাদের স্থাপনা হতে হবে টেকসই, সৃজনশীল ও পরিবেশসম্মত। আমি বিশ্বাস করি এটি সম্ভব হবে, আমরা যে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি সেখানে আপনাদের সৃজনশীলতা প্রতিফলিত হবে।

অনুষ্ঠানে তরুণ স্থপতিদের উদ্দেশ্যে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, টেকসই নগর উন্নয়নে তিনটি বিষয় (অর্থনীতি, পরিবেশ, সাম্য) জরুরি। সেটা হচ্ছে না। উন্নয়ন হচ্ছে শুধু অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে সবলদের। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের কোনো সুযোগ নেই।কেএসআরএম তিন স্তপতিকে অ্যওয়ার্ড প্রদান ২

ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ’র (আইএবি) সভাপতি জালাল আহমেদ বলেন, কেএসআরএম-আইএবির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন পেশায় আগত সৃষ্টিশীলদের স্থাপত্য শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে।

কেএসআরএম স্টিল প্ল্যান্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান বলেন, আমরা যারা স্টিল সেক্টরে কাজ করি, সব সময় পণ্যের কোয়ালিটি নিশ্চিত করা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। এখানে সৌন্দর্য দেখানোর কোনো জায়গা নেই। কিন্তু যারা আমাদের পণ্য ব্যবহার করেন।

কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কিছু একটা বানান। বাড়ি, ফ্যাক্টরি এমনকি আমাদের দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। এসব বানানোর পেছনে মানুষের অনেক আবেগ, অনেক স্বপ্ন থাকে। আমাদের পরিশ্রম আর সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষের স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটায় আমাদের আর্কিটেক্টসরা।

তাই ভাবলাম যারা আমাদের বাড়ি-ঘর ও অন্যান্য স্থাপনার সৌন্দর্য উপহার দিচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। আর যদি ধন্যবাদ দিতেই হয়, এমন কিছু একটা করে দেওয়া উচিত, যার দীর্ঘ মেয়াদী অর্থবহ প্রভাব থাকবে। তাই আমরা আইএবির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভবিষ্যতের আর্কিটেক্টদের উৎসাহ দেওয়ার এ আয়োজন করেছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএমের উপদেষ্টা (বিক্রয় ও বিপণন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহিদুর রহমান, বিক্রয় ও গবেষণা বিভাগের প্রধান কর্নেল আশফাকুল ইসলাম, মিডিয়া অ্যাডভাইজর মিজানুল ইসলাম।

আইএবির সহ সভাপতি (জাতীয়বিষয়াদি) স্থপতি মামনুন মুরশেদ চৌধুরী, আইএবির সম্পাদক (শিক্ষা) স্থপতি এম আরেফিন ইব্রাহিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক স্থপতি শেখ ইতমাম সৌদ, কেএসআরএমের ব্র্যান্ড বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু সুফিয়ান, এহসান রহমান, সিনিয়র কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান, মিজান-উল-হক, সাদ হোসেন, মিঠুন বড়ুয়া প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।