খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীর চট্টলাবাসী সবসময় ধর্মভিরু: হাসনাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
বীর চট্টলাবাসী সবসময় ধর্মভিরু: হাসনাত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আমাদের যে রাস্তা-ঘাটগুলো ছিল সে রাস্তাঘাটে অমুক দল তমুক জল ছিল না। কিন্তু আপনি যদি এখন রাস্তায় বের হন, দেখবেন দেয়াল পোস্টারে ছেপে গিয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সময়ে যেভাবে পোস্টার ছিল ঠিক একইভাবে পোস্টার ছাপানো হয়েছে। শুধু ছবিগুলোর পরিবর্তন হয়েছে। আপনাদেরকে বলতে চাই ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে আপনারা সেই আন্দোলনকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করবেন না।

দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদের যে আন্দোলনটি হয়েছিল সেই আন্দোলনটি হয়েছিল ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে। টেন্ডারবাজ এবং দুর্নীতিবাজ যারা রয়েছে আপনাদের সতর্ক করতে চাই। আপনারা ১৬ বছর একটি দলের ছত্রছায়ায় ছিলেন। এখন যদি আর একটা দলের ছত্রছায়ায় এসে আপনারা দুর্নীতি করার চেষ্টা করেন ছাত্র জনতা আপনাদেরকে দেখে নিবে।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরের লালদিঘী ময়দানে গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ঢাকাতে যখন আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো তখন চট্টগ্রাম থেকে আপনারা আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আমরা দেখেছি ওয়াসিমরা কিভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, শান্তরা কিভাবে রক্ত দিয়েছে। আমরা সেই চট্টগ্রামে এসেছি। আমরা আপনাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, সংকটকালীন সময়ে আমরা যেভাবে একসাথে হয়েছিলাম এখন দেশটা পুনর্গঠনের সময়। আমাদেরকে একইভাবে একসাথে থাকতে হবে।

হাসনাত বলেন, বীর চট্টলাবাসী সবসময় ধর্মভিরু। কিন্তু আমরা দেখেছি তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সবসময় ধর্মীয় গোঁড়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দাঁড়ি-টুপি যাদের রয়েছে তাদেরকে সবসময় প্রান্তিকীকরণ করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, যে দাঁড়ি-টুপির মানুষগুলো সেদিন উত্তরায় নেমে এসেছিল, যাত্রাবাড়িতে দুর্গ গড়ে তুলেছিল তাদের সমন্বয়কের পরিচয় লাগেনি। উত্তরায় যারা শহীদ হয়েছিল তাদের সমন্বয়কের পরিচয় লাগেনি। ঠিক একইভাবে এ রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আমাদের সমন্বয়ক হওয়ার প্রয়োজন নেই, সহ সমন্বয়ক হওয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে যারা রয়েছে প্রত্যেকেই সমন্বয়ক, প্রত্যেকেই সহ সমন্বয়ক।

কেন্দ্রীয় এই সমন্বয়ক বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ছাত্র নাগরিকদের পাওয়ার কিছুই নেই, আমরা ত্যাগ করতে প্রস্তুত। আমাদের ছাত্র নাগরিক রাস্তায় এসে দাঁড়ায়, পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়। যে চাঁদাবাজ এবং টেন্ডারবাজ রয়েছেন, আপনাদেরকে বলতে চাই; আমরা বুলেট-বোমা ভয় পাই না। আপনারা সতর্ক হয়ে যান। আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে পুঁজি করে আপনারা যদি ভেবে থাকেন আবার দুর্নীতি শুরু করবেন তবে ছাত্র-নাগরিক আপনাদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলবে।

প্রশাসনে কর্মরতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনারা গোস্‌সা করে বসে থাকবেন, অফিস-আদালতের কাজ করবেন না; তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন। এই আন্দোলনে কামার ছিল, কুলি ছিল, মুচি ছিল। ঠিক একইভাবে এই আন্দোলনে শিক্ষিত শ্রেণিও ছিল। সুতরাং আপনাদের রিপ্লেসমেন্টও হয়ে যাবে।

পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ছাত্র এবং পুলিশ হচ্ছে ভাই-ভাই। আমাদের কোনো বিভেদ নাই। আপনারা আপনাদের কাজে ফিরে আসুন। আপনাদের মধ্যে যারা খুনিদের দোসর ছিল তাদেরকে আমরা জানি। সব পুলিশ কিন্তু বেনজির না। সব পুলিশ ডিবি হারুন না। আমার বাবা, আমার ভাই; তারাও কিন্তু পুলিশ। সুতরাং পুলিশদের আমরা সহযোগিতা করবো। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে যারা বর্তমানে মাঠে রয়েছেন তাদেরকে আমরা প্রতিপক্ষ না ভেবে সহযোগী ভেবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। পুলিশদের প্রতি বার্তা—দেখেন বেনজীর দেশে থাকতে পারেনাই। ডিবি হারুন ভালো নেই। সুতরাং আপনারা জনমুখী না হয়ে ক্ষমতামুখী হলে আপনাদের অবস্থাও বেনজীর এবং হারুনের মতো হবে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একটা কথা মনে রাখবেন, আমরা সবাই জানি—চাঁটগাইয়া পোয়া, মাডিত পইল্লি লোয়া (চট্টগ্রামের ছেলে, মাটিতে পড়লে লোহা)। সুতরাং এই চিটাইঙ্গা পোয়াদেরকে আপনারা ভয় দেখাতে আইসেন না। আপনাদেরকে আবার সতর্ক করতে চাই, প্রভু চলে গিয়েছে কিন্তু প্রভুর দাসরা আমাদের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তারা বিভিন্ন রুপে আমাদের মাঝে এসে আমাদের ইউনিটিকে ভাঙতে চাইবে। আপনাদেরকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে আমরা ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে একসাথে কাজ করেছি একইভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে একসাথে কাজ করবো।

চট্টগ্রামে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরকে বিভাজন করেছে। বিভাজনের রাজনীতি বিদ্যমান রেখে তারা ফ্যাসিজম কায়েম করেছে। তারা সবসময় বিভাজন করেছে, কারা দাঁড়িওয়ালা কাদের দাঁড়ি নাই। কারা মাদরাসা শিক্ষার্থী, কারা না। কিন্তু এই ফ্যাসিজম পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা উদাহরণ তৈরি করেছি। মন্দিরে মন্দিরে যখন হামলা হয় তখন সেই মন্দির পাহাড়া দিয়েছে আমাদের দাঁড়ি-টুপিওয়ালা ভাইয়েরা। আমাদের সবার প্রথম পরিচয় আমরা বাংলাদেশী। এরপর উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে হাত তুলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি করান।

এসময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ, সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ অন্যান্যরা। এছাড়াও লালদিঘী মাঠ ছিল বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীতে পরিপূর্ণ। যোগ দিয়েছিলেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষও।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন— তাদের একটি সমন্বয়ক টিম প্রত্যেকটি জেলার অভ্যুত্থান ঘটানো ছাত্র-জনতার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবে। এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম এসে সকাল ১১টায় ছাত্র-জনতার সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিকেল ৩টায় লালদিঘী ময়দানে মতবিনিময় সভা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। অপরদিকে, সমন্বয়ক সারজিস আলম বিভাগীয় সফরের প্রথম জেলা হিসেবে আজ বিকেল ৩টায় মুন্সিগঞ্জে মতবিনিময় সভা করেন।

Feb2

মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন-সংক্রান্ত চিঠিতে, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি রোডে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল।

একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও চলে অভিযান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্ত।

এ সময় তৃণমূল কর্মীরা গোয়েন্দাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে মমতার বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় সিআইডির সদস্যরা। একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের কার্যালয়েও অভিযান হয়েছে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ও অন্যান্য বৈঠকের জন্য তারা দিল্লিতে আছেন। সেটা জানার পরও আজকের দিনে তাদের অনুপস্থিতিতে কেন সিআইডি তাদের বাসায় অভিযান চালাল সেটাই বিস্ময়কর।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন কয়েকজন বিধায়ক।

জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলা করেন বিধানসভার প্রধান সচিব। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি ও সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় সিআইডি।

এদিকে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেবসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন।

গত কয়েক দিনে যেভাবে একের পর এক নেতা মমতার হাত ছাড়ছেন, তাতে দেবও একই পথে হাঁটছেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালোবাসা সারাজীবন থাকবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন ততদিন তার সঙ্গেই আছি।

দলের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূলের আরেক দাপুটে নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। সোমবার গভীর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে ডিম, টমেটো ও গোবর ছুড়ে মারে।

 

লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে রেলওয়ের একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলেজ রোড রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পরপরই ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের সময় ময়মনসিংহ স্টেশনের আউটার এলাকায় একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগিগুলো দ্রুত উদ্ধার করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিনের সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তার কারণে এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তিনি সব ধরনের প্রকল্পের খরচ কমানোর এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বিভাগের রেট সিডিউল একই কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটার বিষয়েও নিজের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত, কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া সড়কেও তেমন গাছ নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি সব এলাকাকে শহর বানানোর পক্ষে নন, বরং গ্রামীণ পরিবেশ বজায় রাখাই তার পছন্দ। সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে তাকে ব্যথিত করে।

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বছরভিত্তিক ব্যয়ের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।