খুঁজুন
, ,

অবৈধ দখলে যাওয়া রেলওয়ের সম্পত্তি ফিরিয়ে এনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা আমাদের লক্ষ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 January, 2020, 6:46 pm
অবৈধ দখলে যাওয়া রেলওয়ের সম্পত্তি ফিরিয়ে এনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা আমাদের লক্ষ্য

রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, রেলওয়ে একটি বড় প্রতিষ্ঠান। এর অনেক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। কাজেই আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবৈধ দখলে যাওয়া রেলওয়ের সম্পত্তি ফিরিয়ে এনে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা।

শনিবার (১১ জানুয়ারী) চট্টগ্রাম রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন টেনিস কোর্টে আয়োজিত রেলওয়ে পরিবার সুহৃদ সংসদ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুল হক চৌধুরি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সুজন বলেন, রেলওয়ের আলাদা পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী আছে। আছে রেলওয়ে হাসপাতাল ও রেল কর্মকর্তাদের জন্য বাসা। আলাদা যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিবহন ব্যবস্থাও আছে। সে হিসেবে আমারতো মনে হয়, রেলমন্ত্রণালয় হলো সরকারের ভেতর আরেকটা সরকার।

নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, একসময় দেশের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা ছিলো রেল ও নদীপথ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদারবাহিনী এসব যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরা শহীদ হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করার পর আবারও রেলব্যবস্থা আগের মতো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, বৃটিশ আমলে রেলে লোকবল ছিল ৬৮ হাজার, কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৭ হাজারে । ১০৪ টি স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বলেছেন। একটি ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করে দিয়েছেন। উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যেতে বর্তমানে রেলে অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী কিছু প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প , খুলনা-মংলা রেল সংযোগ ,বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল লাইন নির্মাণ, যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ, বিদ্যমান সিঙ্গেল লাইনকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ইলেকট্রিক ট্রাকশনে রূপান্তর, হাই স্পিড ট্রেন ঢাকা-চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণসহ অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে এবং আখাউড়া ও লাকসামের মধ্যে ডাবল লাইনের কাজ চলমান আছে। এ অংশটুকুর কাজ সমাপ্ত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে অধিক পরিমাণ ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে যেখানে মিটারগেজ আছে সেটি ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে, যেন আমরা ব্রডগেজ এর সুবিধা পেতে পারি।

বিএনপি-জামায়াত বিদেশের স্বার্থে কাজ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা রেলব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। তারা দেশে বসে বিদেশের স্বার্থে কাজ করেছে। সেসসম গোল্ডেনহ্যান্ডশেফের মাধ্যমে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায় করে দিয়েছিল। পাহাড়তলী ওয়ার্কসপে ক্যারেজ ও ওয়াগন তৈরীর সক্ষমতা ছিল। দক্ষ লোকবলের অভাবে আমরা এখন আমদানি নির্ভর হয়ে পরেছি। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রেলকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে গেছেন। মেট্রোরেল ও হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা হাইস্পিড ট্রেনের জন্য গঠিত কমিটি ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তারপর আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করে দেব। কারণ রেলব্যবস্থা ছাড়া উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব নয়’ বলেন নুরুল ইসলাম সুজন।

ট্রেনকে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার চলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ ভ্রমণ করেছি। সম্প্রতি ভারতে ট্রেন ভ্রমণ করেছি। সেখানে ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশেও করা হবে। তখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ডাবল লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে উল্লেখ নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম-আখাউড়া ডাবল লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে। ডাবল লাইনের কাজ শেষ হলে, এখন যে সংখ্যক ট্রেন চলাচল করছে তখন এর চেয়ে ডাবল ট্রেন চালানো যাবে।

তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে রেলওয়েতে লোকবল আছে মাত্র ২৭ হাজার। অথচ কম হলেও এই সংখ্যক লোকের জন্য দেড় লাখ লোকবল প্রয়োজন। আমরা ধীরে ধীরে এ সংকট দূর করবো।

রেল পরিবারের সন্তানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন। দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করা হয় উপস্থিত সবার জন্য। অনুষ্ঠানে রেল পরিবারের এক হাজারের বেশী সদস্য অংশ গ্রহণ করেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবুর রহমান, মহাব্যাবস্থাপক (পূর্ব) মো. নাসির উদ্দিনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রেলের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।