রাউজানের কেউটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২শ’ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন
নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম) : কেউবা এসেছিল লাঠিতে ভর দিয়ে, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে। দীর্ঘদিন পর একই সামিয়ানার নিচে পুরনো দিনের বন্ধুকে কাছে পেয়ে খুশির পালে যেন লেগেছিল উঞ্চ হাওয়া। শীতের কুয়াশাময় সকালটা যেন উৎসবের আনন্দে রঙিন করে তুলেছিল রাউজানের কউটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী।
বয়সের পার্থক্য ভুলে হাসি-আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল নবীণ-প্রবীণ সকলে। মঞ্চের ব্যানারে বড় হরফে লেখা, আয়, আরেকটি বার আয়রে সখা প্রাণের মাঝে আয়…কথাটিই যেন এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের প্রাণে সৃষ্টি করেছিল ভালোলাগার শিররণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পকির্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি বলেছেন, ২০০ বছর আগে কেউটিয়া স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জেনে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে হচ্ছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক কৃতি শিক্ষার্থী আজ স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তখনকার সমাজ হিতৈসীরা শিক্ষার জন্য চিন্তা করেছিল। আজ তারা নেই কিন্তু তারা অমর। আমি সসবসময় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও শৃঙ্খল জীবনের কথা চিন্তা করি। সেলক্ষ্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য দৈনিক ১৯ ঘন্টা কাজ করে। তার যোগ্য নেতৃত্বে এই দেশ উন্নত বিশ্বে আজ রোল মডেল। রাজনীতিবিদরা প্রধানমন্ত্রীর মত নিষ্টার সাথে করলে এই দেশ সোনার বাংলায় পরিনত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ের সহ সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিন চট্টগ্রাম ব্যুরো সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।
প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের ২০১৯ এর সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন রাউজান আর্যমৈত্রেয় ইনস্টিটিউশনের সভাপতি আলহাজ্ব শাহ আলম চৌধুরী।
পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের সচিব সনজীব দত্তের সঞ্চালনায় অলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ, উপজেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনিক, ডেপুটি অ্যাটর্নী জেনারেল এডভোকেট অপূর্ব ভট্টচার্য্য, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল কুদ্দুস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বি.এম. জসিম উদ্দিন হিরু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী, সমাজসেবক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, সিপ্লাস টিভির চীফ রিপোর্টার খোরশেদুল আলম শামীম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হেলালী, ইউপি সদস্য প্রভাত পাল কালু, সারজু মোহাম্মদ নাছের, শওকত হোসেন, উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী পার্থ প্রতিম ভট্টাচার্য্য, সিনিয়র সহ সভাপতি শিক্ষক সমীর কান্তি ভট্টাচার্য্য, এসএম লিটন প্রমুখ।
শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মধ্যাহ্ন ভোজসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী ও ঐতিহ্যের দুইশত বছর পুর্তি উদযাপন করেছে নবীন প্রবীন সমন্বয়ে। জাতীয় সংগীত পরিবেশন সহকারে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন