খুঁজুন
, ,

যারা খেলাধূলা করছে, তারা বিএনপির শক্তিকে অনুধাবন করতে পারছে না: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 12 November, 2024, 9:28 am
যারা খেলাধূলা করছে, তারা বিএনপির শক্তিকে অনুধাবন করতে পারছে না: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক খেলাধূলা চলছে বাংলাদেশে। অনেকে আমাকে বলেন, আবার কি শুরু হয়েছে দেশে ? স্বৈরাচার চলে গেছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, আমাদের কি আবার ইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে ? আমি বলেছি, চিন্তার কোনো কারণ নেই। খেলাধূলা যারা করছে, তারা বিএনপির শক্তিকে অনুধাবন করতে পারছে না। তারা বিএনপির শক্তি বুঝতে পারছে না। এই বিএনপি সেই বিএনপি নই। এই বিএনপি অনেক শক্তিশালী অবস্থানে, এর শেকড় অনেক গভীরে চলে গেছে। এই বিএনপিকে টলানোর সাধ্য কারও নেই। বিএনপির কয়েকটা সিদ্ধান্ত তো আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন। সুতরাং এরকম সিদ্ধান্ত দিলে এ অবস্থায় যেতে হবে।

তিনি সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্সে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আলোচনা সভা, পেশাজীবি সমাবেশ ও নবনির্বাচিত মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী ও এ্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জানে আলম সেলিমের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সংবর্ধিত অতিথি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাছাড়া ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ ও জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এর উপর নির্মিত ডকুমেন্টরী শর্টফিল্ম প্রদর্শনী করা হয়।

আমীর খসরু বলেন, বিএনপিকে জোর করে ক্ষমতার বাইরে রাখার তাদের যে ভাবনা ছিল, ওই ওয়ান-ইলেভেনের বিরাজনীতিকরণ, আবার নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনা, ক্ষমতার স্বাদ তো কেউ কেউ পেয়েছেন, মনে রাখছেন এ ক্ষমতা ধরে রাখলে মন্দ কী ! কিন্তু এ স্বাদ পাবার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মানুষ তার মালিকানা ফিরে পাবার জন্য ১৬ বছর যুদ্ধ করেছে। বিএনপিকে ভাঙার সব ধরনের চেষ্টা হয়েছে। কিছু বাকি নেই, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা সব হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার চেষ্টার মধ্যেও দেশনেত্রী টলেননি, তারেক রহমান টলেননি, বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ টলেনি। সবার অবস্থান শক্ত।

তিনি বলেন, সাতই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের অনেকটা দ্বিতীয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতার যে ভাবনা, যে চিন্তা, যে আকাঙ্খা, সেটা স্বাধীনতার পরে সেদিন পূর্ণ হয়নি। বরং স্বাধীনতার পরে সেটাকে ভুলুন্ঠিত করা হয়েছিল। একদলীয় শাসন, সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি, জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, কালো আইন, এসবের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের লড়াই ছিল, সেই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের যে আকাঙ্খা, মুক্তিযুদ্ধের যে ভাবনা, মুক্তিযুদ্ধের যে স্যাক্রিফাইস, সেটা বাংলাদেশের মানুষ আবার নতুনভাবে পেয়েছে, নতুনভাবে গ্রহণ করেছে এবং উজ্জীবীত হয়েছে সাতই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে।

তিনি বলেন, আজকের প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতনের মধ্য দিয়ে আজ যে আরেকটা বাংলাদেশের কথা চিন্তা করছি, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের চিন্তা করছি, একটা যে নতুন বাংলাদেশের চিন্তা করছি, সাতই নভেম্বরও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে একই বিষয় ছিল। স্বাধীনতার পর যে বাকশাল এবং একদলীয় স্বৈরাচার সৃষ্টি হয়েছিল, সৈনিক-জনতা সেদিন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে আরেকটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছিল।

তিনি বলেন, একেকবার বাংলাদেশে স্বাধীনতা আসে, আবার সেটা হরণ হয়ে যায় স্বৈরাচার ফ্যাসিস্টের মাধ্যমে। প্রতিবারই সেটা মুক্তিলাভ করেছে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে এবং এবার দেশনায়ক তারেক রহমানের মাধ্যমে। প্রতিটি মুক্তি এসেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে। এজন্য সাতই নভেম্বর আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারের পদত্যাগ এবং তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার দিনটি আমদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার পাঁচই আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার স্বৈরাচারকে বিদায়, বিএনপির নেতৃত্বে, বিএনপির অবদানের মাধ্যমে দেশকে একটি সংকটময়, একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় থেকে মুক্ত করা গেছে।

তিনি বলেন, আজকের প্রেক্ষাপটে আমাকে যেকথা বলতে হয়, আমরা গত ১৫-১৬ বছর ধরে সবাই কঠিন সময় অতিক্রম করেছি। আমাদের নেতাকর্মীরা গুমের শিকার হয়েছে, খুনের শিকার হয়েছে, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে পুলিশসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে। ১৬টা বছর এভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা অতিক্রম করেছে। ত্যাগ করতে শিখেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা, এ ত্যাগের মাধ্যমে তারা জ্বলেপুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আর কারও কিছু করার সুযোগ কারও নেই। আমরা অনেক কষ্ট করেছি, আমাদের অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু একটা লাভ হয়েছে, আমাদের নেতাকর্মীরা, আমাদের এ দলটি কিন্তু ত্যাগ স্বীকার করতে শিখে গেছে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কষ্ট হলেও, সময় কঠিন হলেও এটা কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে অনেক ওপরের লেভেলে নিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও এটা আমি বলছি। তাই আজ আমাদের বুকে সাহস হয়েছে, কোনো শক্তি আমাদের টলাতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তার মালিকানা ফিরে পাবার আকাঙ্খায় অপেক্ষা করছে, তার ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা করছে, তার নির্বাচিত সংসদ, সরকার গঠনের জন্য অপেক্ষা করছে, যে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার জনগণের কাছে জবাব দেয়ার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। অন্য কোনো সরকার দায়বদ্ধ থাকবে না। কারণ, তাদের তো জনগণের কাছে যেতে হবে না। বিএনপিকে যেতে হবে। যারা রাজনীতি করে তাদের যেতে হবে। সুতরাং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে বাংলাদেশকে অতিস্বত্তর একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে, সরকার নির্বাচিত করতে হবে, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, আর যত ধরনের সংস্কারের কথা আমরা আলাপ করছি, সেটা রাজনীতিবিদরাই পূরণ করবে। আমাদের ৩১ দফার মধ্যে আমরা পরিস্কারভাবে বলেছি। সংস্কারের কথা বলছেন ? দেশনেত্রী ছয় বছর আগে ভিশন টুয়েন্টি-থার্টিতে সংস্কারের কথা বলেননি ? তখন তো কারও মুখে সংস্কারের কথা শুনিনি। কারণ, দেশনেত্রী অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, আগামীদিনের বাংলাদেশ কেমন হবে সেটা ছয় বছর আগে উনি উনার ভিশনের মধ্যে সেটা পরিস্কার করেছিলেন ছয় বছর আগে। দেশনায়েক তারেক রহমান সাহেব এক বছর আগে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন শেখ হাসিনারও পতন হয়নি, এত বড় বড় বিশ্লেষকদেরও আবির্ভাব হয়নি। সেই ৩১ দফায় বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে যে ধরনের সংস্কারের দরকার, সবকিছু পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে। সংস্কারের জন্য আমরা জাতির কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা দায়বদ্ধ জাতির কাছে। ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বিএনপি একা করেনি। ৪২টি দল, যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, আমরা সবাই মিলে করেছি। অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আমরা ৩১ দফা করেছি। আমরা ৪২টা দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জাতির কাছে এ সংস্কার করার জন্য। আপনারা কতটুকু পারবেন, কি করবেন জানি না, কিন্তু আমরা পারবো, আমরা করবো। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, এ প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র ৩১ দফা দিয়েই বিএনপি সবকিছু শেষ করেনি। তারেক রহমান সাহেব এ ৩১ দফা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন সেটাও পরিস্কার করে দিয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচনের পরে জনগণ যদি আমাদের রায় দেন, তারেক রহমান সাহেব বলেছেন বিএনপি একা সরকার গঠন করবে না, বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করবে। এ জাতীয় সরকার ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। আমরা যারা ৩১ দফা প্রস্তুত করেছিলাম, জাতীয় সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই মিলে ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়ন করবো। সবকিছু পরিস্কারভাবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু বাকি নেই। আবার বলছি, অন্তর্বর্তী সরকার যদি জাতীয় ঐক্যমত্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সংস্কার করতে চায়, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেগুলো জাতীয় ঐক্যমতের পরিপ্রেক্ষিতে হতে হবে। যেখানে ঐক্যমত্য হবে না, সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে যাবে, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রস্তাব পাস করলে কোনো অসুবিধা নেই, এটাই তো নিয়ম, তারপর সংসদে সেটা পাস হবে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার করলে, সংসদে তো সেটা আবার রেটিফাই করতে হবে। সুতরাং যেটুকু করতে পারেন, আমাদের আপত্তি নেই। এর মধ্যে ঐক্যমতের পরিপ্রেক্ষিতে যদি দশটা সংস্কার করতে পারেন, তাহলে আমরা রাজি আছি। ঐক্যমতের পরিপ্রেক্ষিতে, কথাটা কিন্তু, এর বাইরে নয়। আর বাকিগুলো জনগণের কাছে যাবে, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সংস্কার হচ্ছে নির্বাচনী সংস্কার। সব কথা শুনছি, নির্বাচনী সংস্কারের কথা শুনছি না। একটা কমিশন গঠন করেছে, আমরা খুশি হয়েছি। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে, আমরা অপেক্ষা করছি। আমরাও কিন্তু নির্বাচনী সংস্কারের জন্য সবকিছু তৈরি করে রেখেছি। আমাদের সংস্কার তো আজকের না, বাংলাদেশ আগামীদিনে কি হবে, সেটা নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে কাজ করছি, প্রত্যেকটি। ক্ষমতায় যেদিন বিএনপি বসবে, সেদিন থেকে ইনশল্লাহ সংস্কার কাজ শুরু হবে। বিচার বিভাগের সংস্কার, যেদিন থেকে বিএনপি বসবে ওইদিন থেকে শুরু হবে। একটা দিনও আমরা নষ্ট করবো না। শিক্ষাখাত, ব্যবসায়ীদের বিষয়, সব খাতের সংস্কার, সবকিছু প্রস্তুত। ডে-ওয়ান থেকে সংস্কারের কাজ শুরু হবে। আর কারা কি করবে আমরা জানি না, আমরা কি করবো সেটা আমরা জানি। আগামীদিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে, বাংলাদেশ নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, দেশকে সেখানে নিয়ে যাবে ইনশল্লাহ। একটা কথা বলি, শেখ হাসিনা পলায়ন করার পরে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের মনোজগতের বিশাল পরিবর্তন হয়ে গেছে। এই মনোজগতের যে পরিবর্তন, যে স্বপ্ন দেখছে জনগণ, রাজনীতিবিদরা যদি সেই স্বপ্ন না দেখে, তাহেলে সেই রাজনীতির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বিএনপি এটা বুঝেছে, অনুধাবন করেছে, ধারণ করেছে এবং এটা শতভাগ প্রয়োগ করে দেশের মানুষের, নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পরিপূর্ণভাবে আগামীদের সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমরা সে কাজটা করবো।

আমীর খসরু বলেন, সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি নির্বাচিত সরকারের দরকার। আওয়ামী লীগকে যদি আপনাকে বাতিল করতে হয় রাজনৈতিকভাবে, সেটা নির্বাচনের মাধ্যমে বাতিল করা সবচেয়ে সহজ। সেই বাতিল হবে পার্মানেন্ট বাতিল। অন্য বাতিলে কাজ হবে না। আপনি অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় বাতিলে গেলে, সেই বাতিল কিন্তু সাময়িক কাজ করবে, দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে না। জনগণ যখন বাতিল করবে আওয়ামী লীগকে, সেটাই হচ্ছে আসল বাতিল। আমাদের ওদিকে যেতে হবে। সকলের অধিকার সমুন্নত রেখে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে। কারণ আমরা তো অধিকারের জন্য লড়াই করেছি, অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছি, অধিকারের জন্য জেলে গেছি। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার আবার কারও নেই।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ একটি অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে স্বৈরাচার পালিয়েছে।। কিন্তু তার দোসররা আমাদের মাছ আছে, সমাজে আছে। এ দোসরদের যদি আমরা চিহ্নিত করতে না পারি তাহলে সত্যিকার অর্থে যে মূল্যবোধ আবু সাইদ, মুগ্ধ, ইলিয়াছ আলী, চৌধুরী আলম, কোনো কিছুই আদায় হবে না। যদি দোসরদের আইনের কাঠগড়ায় না আনতে পারেন। তাদের ক্ষমতার যে দম্ভ অর্থাৎ মানুষের লুণ্ঠণকৃত টাকা, আইন-বেইনী অস্ত্র, সেগুলো যদি উদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে না পারে তাহলে সকল শহীদের রক্ত বৃথা যেতে বাধ্য।

শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এখন নাটক করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো লজ্জা নেই পালিয়ে গেলেন, এরপরও অডিও দেন ভিডিও দেন বিভিন্ন কথা বলেন কতক্ষণ পরে বলেন স্থগিত করা হলো, অর্থাৎ নাটক চলছে। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে নেই।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাত্রিতে আওয়ামীলীগের ব্যর্থতায় জাতি যখন নেতৃত্বশূন্য দিশেহারা তখনই জিয়াউর রহমান উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন। এমনি এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে তিনি পাক বাহীনির বিরুদ্ধে “উই রিভোল্ট” বলে বিদ্রোহ ঘোষনা করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয় আসলেই জিয়াউর রহমানের নাম আসবে। শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক। কেউ চাইলেই এই ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারবে না। কারণ ইতিহাস লিখেন ইতিহাসবিদরা। রাজনীতিবিদরা ইতিহাস রচনা করলে সেটা হয় প্রোপাগান্ডা।

এরশাদ উল্লাহ বলেন, ছাত্র জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। এজন্য গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের পথ আজ প্রশস্ত হয়েছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান পরবর্তী সময়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে কোনভাবেই নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না।

এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ড্যাব চমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দীন, সিএমইউজে সভাপতি সাংবাদিক মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দীন আহমেদ মানিক, ড্যাব মহানগর সভাপতি অধ্যাপক ডা. আব্বাস উদ্দীন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এম এ সাফা চৌধুরী, ব্যাংকার মেহরাব হোসেন খান প্রমূখ।

Feb2
Feb2

সাংগঠনিক প্রয়োজনে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি পুনর্বহাল করা হয়: মোনায়েম মুন্না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 8:12 pm
সাংগঠনিক প্রয়োজনে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি পুনর্বহাল করা হয়: মোনায়েম মুন্না

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সারা বাংলাদেশসহ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি মিলিয়ে সর্বমোট যুবদলের ৮২টি ইউনিট কমিটি বিদ্যামান। ঢাকার পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হলো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। বিলুপ্ত হওয়ার পরও সভাপতি দিপ্তী সাধারণ সম্পাদক শাহেদ এর নেতৃত্বে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচী খুব সুন্দর সুচারুরূপে পালন করে আসছে। সাংগঠনিক প্রয়োজনে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি গত ২৫ আগষ্ট পুনর্বহাল করা হয়।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সম্মুখ মাঠে “সমসাময়িক বিষয়াবলী ও সাংগঠনিক স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে” চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি দেওয়া হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীরা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরবেন। যুবদল সবচেয়ে সুশৃঙ্খল একটি সংগঠন। যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে অতীতের ন্যায় প্রস্তুত। তিনি এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি।

উক্ত কর্মীসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি নুর আহমেদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল গফুর বাবুল, দিদারুল ফেরদৌস, মোহাম্মদ মুছা, মিয়া মো. হারুন, হায়দার আলী চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, জসিমুল ইসলাম কিশোর, এডভোকেট ফিরোজ, মজিবুর রহমান, আবু সুফিয়ান, বায়েজিদ বোস্তামি থানা যুবদলের আহবায়ক অরূপ বড়ুয়া, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকি, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান মাসুম, মো. হুমায়ূন কবির, মোহাম্মদ সেলিম খাঁন, ইকবাল পারভেজ, রাশেদুল হাসান লেবু, আবদুল্লাহ আল টিটু, মো. এরশাদ উল্লাহ, মো. এরশাদ হোসেন, তাজুল ইসলাম তাজু, আবদুল হামিদ পিন্টু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, জিয়াউল হুদা জিয়া, শাহিন পাটোয়ারী, ইকরামুল হক ছুট্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, খুলশী থানা যুবদলের আহবায়ক হেলাল হোসেন হেলাল, চান্দগাঁও থানা যুবদলের আহবায়ক গুলজার হোসেন, মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম, আসাদুর রহমান টিপু, সাজ্জাদ হোসেন সাজু, শাহজালাল পলাশ, মজিবুর রহমান রাসেল, সাইফুদ্দিন মো. মারুফ, আহাদ আলী সায়েম, তানভীর মল্লিক, রাজন খান, এস এম ফারুক, সম্পাদক মন্ডলী’র সদস্য নুর হোসেন উজ্জ্বল, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ সাগির, জসিম উদ্দিন সাগর, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন মুকুল, এস এম বখতেয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ নওশাদ, সহ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, কামাল উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন মানিক, শাহেদুল ইসলাম শাহেদ, জহিরুল ইসলাম জহির, কমল জ্যৌতি বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম, জিয়াউল হুদা মিন্টু, মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মাহবুবুর রহমান, কোরবান আলী, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, হাফেজ মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন আনু, মোহাম্মদ ইদ্রিস, সালাহউদ্দিন, আরিফ হোসেন, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, মো. জসিম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম আজাদ, সিরাজুল ইসলাম শিকদার, দেলোয়ার হোসেন, ফারুক হোসেন স্বপন, ইদ্রিস আলম, গুলজার হোসেন মিন্টু, আবদুল্লাহ আল মামুন জিতু, মোহাম্মদ খোরশেদ, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হোসেন উজ জামান, নুর জাহেদ বাবলু, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, এ কে আজাদ, মো. সাইদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান দুলাল, মিফতাহ উদ্দীন শিকদার টিটু, মোহাম্মদ ইউসুফ, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, বেলাল উদ্দিন, মহানগর সদস্য হাবিবুল্লাাহ খান, শাবাব ইয়াজদানী, মাহমুদ খান জনি, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সোহাগ খান, প্রফেসর মোহাম্মদ সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাব্বির ইসলাম ফারুক, আবদুস সাত্তার, আইয়ুব আলী, জাহেরু মাসুদ, আজিজ চৌধুরী, আবদুল করিম, শাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের আহবায়ক নুর হোসেন নুরু, শফিউল আজম, বজল আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন টুনু, কুতুব উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন লেদু, মোশাররফ আমিন সোহেল, খোরশেদ আলম, হোসনে মোবারক রিয়াদ, মোহাম্মদ ইসমাইল, থানা যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ হাসান, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, শওকত খান রাজু, মো: মুসা, মুসফিকুর রহমান নয়ন, ইলিয়াস খান, তাজ উদ্দিন তাজু, মোহাম্মদ রাশেদ, থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোর্শেদ কামাল, নুর খান, মুস্তাকিম মাহমুদ, আশিক মল্লিক, সাইফুল আলম রুবেল, মো: ইয়াছিন, খালেদ সাইফুল্লাহ, সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দাম, মো. সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক আবু বকর বাবু, এস এম আলী, আক্তার হোসেন, সাইফুল আলম, সাদেক আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুছ, বাদশা আলমগীর, মোহাম্মদ হাসান, জহিরুল ইসলাম জহির, মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ এস্কান্দার, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাসুদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান রানা, রাসেল খান, সদস্য সচিব আবু তৌহিদ, সোলেয়মান হোসেন মনা প্রমুখ।

চিকিৎসার মাঝপথেই মানুষের টানে ফিরে এসেছি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 6:53 pm
চিকিৎসার মাঝপথেই মানুষের টানে ফিরে এসেছি

দীর্ঘদিন বিদেশে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে সংসদে ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশনে হুইল চেয়ারে বসে নিজের বক্তব্য দেন বিএনপির এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়া অবস্থায় তিনি স্ট্রোক আক্রান্ত হন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষ না হলেও এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও নিছক ভালোবাসা, আবেগ ও জনগণের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি আজকের সংসদে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগে তার কণ্ঠ বারবার বুজে আসছিল এবং তিনি নিজের অশ্রু সংবরণের চেষ্টা করছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মির্জা আব্বাস শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই কক্ষে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি তার জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়।

নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, অসুস্থতার খবর শুনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নিজে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বিকভাবে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রেখেছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকারের এই আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কেবল একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সাধারণ সমবেদনা ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব ও মানবিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না।

সংসদীয় রাজনীতির প্রকৃত দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আজ এই সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে রাজনীতি কেবল দলীয় পার্থক্য বা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়; রাজনীতি মূলত মানুষের সেবা করার জন্য। সংসদ কোনো নেহাত বিতর্কের মঞ্চ নয়, এটি গণমানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পবিত্রতম স্থান।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন যাতে আমার নির্বাচনী এলাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য জীবনের বাকি সময়টুকু নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি।’

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি তাকে দেখতে আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে দোয়া ও প্রার্থনা করা সমস্ত সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের দীর্ঘ ব্যবধানের পর আজ আবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি মানুষের কাছে কেবল একটি কথাই বলতে চান, মানুষের সেবায় এবং প্রিয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করতেই তিনি আবার ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় যেন বাকি জীবনটুকু আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইএসডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 6:13 pm
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইএসডিবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইএসডিবি গ্রুপের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটিতে আইএসডিবি প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০৪.২৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আগামী দিনে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যকার সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।