খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের যারা এসব করছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
আ.লীগের যারা এসব করছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেব

আওয়ামী লীগ দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার সব ধরনের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, আমরা শক্ত হাতে তাদের প্রতিহত করব। আওয়ামী লীগের যারা এসব কাজ করছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেব।

রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে বারিধারা ডিওএইচএসের নিজ বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

‘আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে স্থানান্তর হওয়া টাকা ফিরিয়ে এনে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে তারা প্রচুর টাকা ব্যবহার করছে। তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। আওয়ামী লীগের যারা এসব কাজ করছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেব।

এর আগে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন— উল্লেখ করে তার পদত্যাগের দাবি করে মধ্যরাতে হলপাড়া থেকে মিছিল বের করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা চায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। সেটার জন্য যা যা করা দরকার আমি করব। তাহলে তো আর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই আসে না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। আগের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে, সামনে আরও উন্নতি হবে।’

তিনি বলেন, আগামীকাল (সোমবার) থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়বে। যেখানেই ঘটনা ঘটবে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘আওয়ামী লীগ দিনে ও রাতে কোথাও জায়গা পাবে না। আমরা টহল টিমকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছি। তারা যদি কাজ করতে না পারে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আমরা আওয়ামী লীগের দোসরদের কোনোভাবে ছাড় দেব না’— বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও উন্নতি হবে। এটা অবনতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। দেশকে যারা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের আমরা কোনোভাবেই ছাড় দেব না।

ডেভিল হান্টের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে— উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোথাও কোনো জায়গায় যেন ঘুমাতে না পারে, বসতে না পারে, দাঁড়াতে না পারে— সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে বেশ কয়েকটি বড় অপরাধের ঘটনা সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ধর্ষণ, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বশেষ রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বনশ্রীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ছিনতাই এবং মোহাম্মদপুরে ডাকাতির ঘটনায় বেশ আলোড়ন তৈরি করে। এরপর দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

Feb2

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক পাষণ্ড স্বামী। এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। শুধু খোঁজখবরই নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে নবজাতক—দুজনেই পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়।

এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। আজ মঙ্গলবার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”

তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

শাহনাজারের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, “ডিসি স্যার ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সবাই আরও বেশি যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি তিনি একজন কর্মচারীকেও দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে সব সময় খোঁজ রাখা হয়।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলা প্রশাসক নিজে থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ জেলা প্রশাসককে মা ও শিশুর জন্য উপহার নিয়ে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।”

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানী কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে দক্ষিণখান থেকে শরিফুল আলম করিম, বাড্ডা থেকে আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিনকে এবং আরিফুজ্জামানকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরীফুল আলম করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরণ দেখে মনে হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল বিদেশে অবস্থান করছে। তবে তিনি এই টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি র‍্যাব।

ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে নওগাঁয় চার খুন : পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে নওগাঁয় চার খুন : পুলিশ সুপার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত জেরে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিলি) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।

এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ড কোনো ডাকাতি বা দস্যুতা ওই রকম ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি পরিবার সংক্রান্ত বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হতে পারে। যে গৃহবধূ মারা গেছে তার কানে এখনো গহনা (দুল) রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।