খুঁজুন
শুক্রবার, ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচারী শাসনামলে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:০১ অপরাহ্ণ
স্বৈরাচারী শাসনামলে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল

স্বৈরাচারী শাসনামলের ১৫ বছরে দেশের পুলিশ বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করায় সমস্ত ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের অবৈধ অন্যায় আদেশ পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী ব্যাপকভাবে জনরোষের মুখে পড়ে। অনেক সৎ পুলিশ সদস্যদেরও এজন্য মাশুল দিতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনকালে একথা বলেন তিনি।

এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, সর্বস্তরের মানুষের অধিকার, মর্যাদা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কোনো বৈষম্য থাকবে না যুগ যুগ ধরে এটি ছিল মানুষের আকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে জোর ভূমিকা রাখতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

পুলিশ সপ্তাহে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে সে সময় এ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। সরকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সড়ক মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ নিরসন, বিশেষ অভিযান পরিচালনা অংশীজনদের সঙ্গে পুলিশের আন্ত যোগাযোগ জোরদার করা, পুলিশ সদস্যদের মনোবলবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আপনাদের অত্যন্ত পরিশ্রমে ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা বিশ্ব ইজতেমা ও ঈদুল ফিতর বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে যতগুলো অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে সবগুলো ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয়েছে।

এজন্য পুলিশসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা এ সময় নিজে হাততালি দিয়ে বলেন, এই হাততালি আপনাদের প্রাপ্য।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খুব ভালো লাগছে সবার সঙ্গে দেখা করতে পেরে, এই পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেখা হলো। আপনাদের কাছ থেকে কিছু প্রাথমিক বক্তব্য শুনলাম। শুনে বুঝতে পারলাম যে অনেকগুলো কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। যেটা আমাদের পক্ষ থেকে করার কথা ছিল, তা উচিত। এর আগে আমরা একবার নিজেদের মধ্যে বসেছিলাম। আমার কাছে খুবই খারাপ লাগছিল। কী রকম পরিস্থিতিতে আপনাদের কাজ করতে হয়, তা আমার জানা ছিল না। আপনাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কত কঠিন, সেটার মাত্রা কত গভীর।

ড. ইউনূস বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আশা করি তা বাস্তবায়িত হয়েছে। কতদূর হয়েছে, সেটা আবার খোঁজ নেবো। আমরা আজকে আবার বসবো যাতে করে আপনাদের কাজের সহায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যায়। আপনারা যেন কাজে উৎসাহ পান এবং পরিস্থিতি সহায়ক হয়। ভালো লাগছে যারা প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। আশা করছি ভবিষ্যতে একসঙ্গে বসে আলাপ করার সুযোগ হবে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা লিখিত বক্তব্যে বলেন, এখানে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ২৫ মার্চ কাল রাতে রাজারবাগ এই পুলিশ লাইনে বাঙালি পুলিশ সদস্যরা প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই ইতিহাস ভোলার নয়। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাসে এটি মহাগৌরবের। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের তিনি স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পুলিশের সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে দ্রুত কয়েকটি বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কারণে আপনাদের কথা শোনার পর আমরা আবার দ্রুত একবার বসব যাতে করে যে সমস্ত সমস্যা আছে, সেগুলোর সমাধানের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ বাহিনীকে সেই ইমেজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা কঠিন। কঠিন হলেও এটাই ন্যায্য এবং এটাই আমাদের করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমবারের মতো এবার পুলিশ সপ্তাহে ধর্ম নেতা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে পৃথক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি জানতে পেরেছি। এই বৈঠকে পুলিশের জনসাধারণের ওপর মানুষের প্রত্যাশা আলোচনা হবে। আমার প্রত্যাশা হলো, এটিই যেন চলমান থাকে। প্রতিবছর পুলিশ সপ্তাহে যেন এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর পুলিশ সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে যেন না হয়। সুযোগ পেলেই এ ধরনের বৈঠকের আয়োজন করতে হবে, যাতে করে পরস্পর ভুল বোঝাবুঝি পরিষ্কার হয়ে যায়। পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমিয়ে আনতে এ ধরনের বৈঠক অত্যন্ত জরুরি।

Feb2

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোরালো বিজয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি তারেক রহমানের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং বিএনপিকে বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণকে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, তিনি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন, যাতে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা যায়। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের যৌথ লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তার এই বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, প্রায় একই সময় দেওয়া পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির অভিনন্দন বার্তাটিতেও সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা করা হয়েছে।

আনন্দ মিছিল নয়, দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি বিএনপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
আনন্দ মিছিল নয়, দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে নিজেদের বিজয় দাবি করে দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার বাদ জুম’আ ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করা হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনে বিজয় উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ মিছিল বা সভা করা হবে না।

দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে দেশব্যাপী আয়োজিত দোয়া কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএনপি ও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি ও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

উত্সবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ফলে আসন্ন সংসদে বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি জোট। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে ২১৩টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

এনিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

জারদারি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ইসলামাবাদ নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

পাক প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, আমি আশা করি ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ এই অঞ্চলজুড়ে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বাধীন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

এর আগে এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি ও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭ টা ৪৮ মিনিটে দূতাবাসে ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।’

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সাথে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।’