চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ওমান প্রবাসী চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি গাড়ির ভেতর থেকে। বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।
চার ভাই হলেন— রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ার মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভাইদের মধ্যে দুজনের আগামীকাল শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হন। এর মধ্যেই পথে গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল, এতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। রাতের দিকে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ওমানের স্থানীয় পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই ওমান প্রবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামী ১৫ তারিখ (শুক্রবার) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে ওমান পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকার ফলে এর এসি থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দুই ভাই একসাথে দেশে ফেরার আনন্দ নিয়ে শপিং করতে বের হলেও, ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।
স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, তাদের দুই ভাই দেশে ফেরার কথা ছিল কিন্তু ফিরছেন লাশ হয়ে। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ওই চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। সেখানে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।
তিনি আরও বলেন, রাত ৮টার পর ওই চার ভাইয়ের একজন বারকা এলাকায় থাকা তাদের এক স্বজনকে ভয়েস ম্যাসেজ দিয়ে জানান, তারা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। যেখানে অবস্থান করছেন, সেই এলাকার লোকেশনও পাঠান। এর মধ্যেই রাতে মুলাদ্দাহ এলাকায় পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানান দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুলে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসা নিতেই ক্লিনিকটির সামনে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন চার ভাই। তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন