খুঁজুন
শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা, শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা, শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন। এই ঘোষণাপত্রে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

২৮ দফার ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

২৮ দফা ঘোষণাপত্রে যা আছে—

১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল; এবং

২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে; এবং

৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রনয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছিল; এবং

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়, এবং

৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এবং

৬। যেহেতু দেশী-বিদেশী চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়; এবং

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়; এবং

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে; এবং

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে; এবং

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে; এবং

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবত নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়; এবং

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে; এবং

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে; এবং

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারী চাকুরীতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরী প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়; এবং

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়; এবং

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়; এবং

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগনিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে; এবং

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়; এবং

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; এবং

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করা হয়; এবং

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়; এবং

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; এবং

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; এবং

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। এবং

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। এবং

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে। এবং

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে। এবং

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রনয়ণ করা হলো।

Feb2

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরইমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

তাদের নির্বাচনের পর শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে।

এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার।

এই কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন।

এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে।

প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে তাদের সামনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, কবি নজরুলকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

আজ বুধবার ( ১১ শে মার্চ) নগরীর ডিসি হিলে জাতীয় কবির নামে নির্মিত “নজরুল স্কয়ার” সংস্কার শেষে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক—কার গান গেয়ে তারা উদ্দীপ্ত হয়, কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করে এবং কার চেতনা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শক্তি দেয়। সেই লক্ষ্যেই নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমাজে কোনো অন্যায় বা অবিচার দেখা দিলে তরুণ প্রজন্ম আবারও নজরুলের চেতনাকে সামনে রেখেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অসামান্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও
তাঁর চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী পরও সেই চেতনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ১৯২৫ সালে রচিত ‘নারী’ কবিতাও আজকের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আবার রমজান মাস এলেই যে গান গেয়ে মানুষ ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপন করে—“…. রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”—সেটিও জাতীয় কবির সৃষ্টি।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও গণজাগরণের কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের নানা অর্জনের পেছনেও তাঁর চিন্তা ও চেতনার গভীর প্রভাব রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, ডিসি হিলের এই এলাকাটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ২০০৫ সালে “নজরুল স্কয়ার” স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আশপাশের সড়কের উচ্চতা বাড়ার ফলে স্কয়ারের মনুমেন্টটি তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়ে এবং স্থানটি ধীরে ধীরে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় চলে যায়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ও পুরনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিন থেকে শুরু হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা। সরকারি দল সংবিধান সংস্কারের শপথ নিতে সম্মত হবে বলে আশা করছি। যদি এর ব্যতয় ঘটে, তাহলে দেশের মানুষ জানে কারা এর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে কার্যকর করা সংসদ সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য সংসদে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ চলছে। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এই সময় ঐক্য না থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার একাই দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। জাতীয় ঐক্যে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশে শিশু হত্যা, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিচার করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশে স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল। যে সকল জায়গায় মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করবে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দিতে হবে। গণভোটের অঙ্গীকার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদিয়া ফারজানা দিনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এদিকে, বিভাগীয় এই ইফতার মাহফিলে খাবার সামগ্রী ও বসার আসন না পাওয়া নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একাংশকে হট্টগোল করতে দেখা যায়। তবে সেখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়াও আমন্ত্রিত গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে ইফতারের আগ মুহূর্তে পানি ও খাবার না দেওয়ায় শতাধিকের বেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তারা এ ধরনের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।