খুঁজুন
শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চবিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় দেড়শো নিয়োগের অভিযোগ মিথ্যা : দুদক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
চবিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় দেড়শো নিয়োগের অভিযোগ মিথ্যা : দুদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ১৫৩ জন নিয়োগের অভিযোগটি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম।

বুধবার (১৪ জানুয়ারী) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সায়েদ আলম বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১৫ মাসে বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভায় অবৈধভাবে ২৫০ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে— এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ৩ সদস্যের একটি টিম আমরা অভিযান পরিচালনা করি। তবে আমরা এখন পর্যন্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিয়োগ পায়নি।

শীর্ষ একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ৪৪ জন শিক্ষক মিলিয়ে ১৫৩ জন নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভিযোগটি মিথ্যা। এখানে ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ১১৩ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক পূর্বের অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ের নিয়োগ প্রসঙ্গে সায়েদ আলম বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করে যে কেউ আবেদন করতে পারেন। এখানে ১২তম, ১৩তম, ১৮তম সিরিয়াল হতেই পারে। আমরা রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখবো। আমরা এখনো তার ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনের রেজাল্ট হাতে পাইনি। এই রেজাল্ট উপাচার্য স্যারের কাছে রয়েছে। তিনি আজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল এই রেজাল্ট আমরা হাতে পাব। তারপর পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে জানাতে পারবো।

অভিযানের পরিপূর্ণ প্রতিবেদন কবে পাওয়া যাবে—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা গত ১৫ মাসে নিয়োগের তথ্য-উপাত্ত আজ সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে পরিপূর্ণ প্রতিবেদন দুদক সচিবের নিকট জমা দেব। আপনারা তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আজকের অভিযানের টিম লিডার ছিলেন চট্টগ্রাম দুদক-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। চট্টগ্রাম দুদক-১-এর উপ সহকারী পরিচালক হামিদ রেজা ও সবুজ হোসেন এই টিমের সদস্য হিসেবে ছিলেন।

Feb2

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড আজ শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।

শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে দেওয়া সেই বিবৃতিতে যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।”

গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছিলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে।”

তবে সৈয়দ আরাগচি এ বক্তব্য দেওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো না পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে।

“হরমুজ প্রণালি এখন ব্যবসা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরানের সাথে আমাদের যাবতীয় লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে”, ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন ট্রাম্প।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পোস্ট দেওয়ার পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা এক পোস্টে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে— তাহলে হরমুজ বেশি দিন উন্মুক্ত থাকবে না। এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নির্ধারিত পথ অনুযায়ী এবং ইরানের অনুমোদনক্রমে পরিচালিত হবে।”

ঘালিবাফ এই বক্তব্য পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজে ফের অবরোধ জারি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চিকিৎসকরাই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কাজ করে। ফলে একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) ঢাকা সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যে কোনো পেশার মানুষের চেয়ে চিকিৎসা পেশার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন বাস্তবতায় আজকের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের এই সম্মেলন অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায়। জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর ..প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবিলা সম্ভব। আমাদের এই নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তারেক রহমান বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই শহর কেন্দ্রিক কিংবা আরও সুনির্দিষ্ট করতে বলতে গেলে সবকিছুই রাজধানীকেন্দ্রিক। এমন বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে যদি আমরা জেলা উপজেলাভিত্তিক হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যেমন জেলা উপজেলায় চিকিৎসা সেবা দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, অপরদিকে রোগীদেরকেও শারীরিক এবং আর্থিকভাবে আরও কষ্ট করে ঢাকামুখী হতে হবে না। শহর এবং গ্রামাঞ্চলের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করে স্বাস্থ্য সেবার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি, যদিও এটি একমাস কিংবা একবছরেই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ পার্সেন্ট অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত সচেতনতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে প্রণীত ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ যেমন শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব কারণে উপজেলা পর্যায়েই গুরুত্বসহকারে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং নিয়মিত করা প্রয়োজন। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

আমার কাছে মনে হয়, ভেজাল এবং পুষ্টি সচেতন খাদ্য নিশ্চিত করা শহরের চেয়ে জেলা উপজেলা পর্যায়ে বেশি সহজ। মনে রাখা দরকার, প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার মৌলিক ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে ইউএইচএফপিও অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কর্মযজ্ঞে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সদস্যরা প্রথম সারির যোদ্ধা। হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট’ এর একটি অপরটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। কারণ, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং সমউন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্য সেবায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে, ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সামগ্রী, স্বাস্থ্য সেবা, মডার্ন হেলথ টেকনোলোজি এবং মেডিকেল বায়োটেকনোলজি’র মতো অনেকগুলো দিক রয়েছে। তাই দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আমেরিকার একজন বিখ্যাত পুষ্টিবিদ প্রয়াত ‘জ্যাক লালেন’ এর একটি উক্তি উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আজকের স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’। এ কারণেই যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এনএইচএস এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার-জিপির আদলে প্রতিটি উপজেলা এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করার চিন্তা রয়েছে। এই স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে ১ লাখ ‘হেলথ কেয়ার’ নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই হেলথ কেয়ারারদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। হেলথ কেয়াররা মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে জনগণকে প্রাথমিক হেলথ কেয়ার দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

উপস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা ভবিষ্যতের স্বার্থে যে কোনো মূল্যে আমাদের মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পরিপূর্ণ মাতৃত্বকালীন সেবা, নিরাপদ সন্তান প্রসব, নবজাতক এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবার নিরাপদ স্থানে পরিণত করতে হবে।

সারা দেশে শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত দুই সরকারের ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ ক্ষমাহীন অপরাধ। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। বর্তমান সরকার সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে ‘হামে’র টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

এজন্য আমি সব চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সব পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মনে রাখা দরকার, স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এটি নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের করুনা নয় বরং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য, সুচিকিৎসা পাওয়া নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আমাদের লক্ষ্য হলো, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও উন্নত করা, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা, এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করা।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। একটি সুস্থ জাতি গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আপনারাই মূল কারিগর।

আমরা সবাই মিলে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যা হবে সবার জন্য সহজলভ্য, কার্যকর এবং মানবিক।

তিনি বলেন, আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন।

হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ সালের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ফ্লাইটে গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির জন্য তাদের কাছে দোয়া চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।”

আল্লাহর মেহমানদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি। তিনি আগামী বছর থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ কমানোর আশ্বাস দেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজগুলো হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি, অন্তত ১২ হাজার টাকা কমানোর চেষ্টা করেছি। আগামী বছর যাতে আরো খরচ কমাতে পারি, কম খরচে যাতে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।”

এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।