খুঁজুন
, ,

সাগর সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষায় এমওইউ সই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 14 January, 2026, 7:54 pm
সাগর সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষায় এমওইউ সই

সাগর সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষা ও টেকসই নীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) জাপানের খ্যাতনামা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অধীন ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তায় জানানো হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. আতসুশি সুনামি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে অনুমোদন দেবেন। অনুষ্ঠানে ওপিআরআইয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. ইমাদুল ইসলাম এবং মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা সই প্রত্যক্ষ করার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাগর সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের সাগর একটি বড় সম্পদ। কিন্তু এটি দিন দিন দূষিত হচ্ছে। সমুদ্রের কয়েক হাজার মিটার গভীরেও এখন প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এই সমঝোতা আমাদের সাগর রক্ষা ও পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ করতেই হবে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন সামুদ্রিক গবেষণায় বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সম্মানিত একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের গবেষণায় তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আমরা আনন্দিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং এই গবেষণা সহযোগিতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই সমঝোতার আওতায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে ‘উমিগিও’ (সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক কমিউনিটি উন্নয়ন) ধারণা অনুসারে মডেল ‘মৎস্যগ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলতে মিডাকে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নে নিয়োজিত বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে মিডা, মৎস্য ও সামুদ্রিক বিষয়ক জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এই অগ্রাধিকারগুলো দেশের ২০টির বেশি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে নির্ধারিত।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন দাতব্য প্রতিষ্ঠান। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নীতিমালা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সমঝোতার আওতায় জাপানের নীল অর্থনীতির মডেল অনুসরণ করে মেরিকালচার, মৎস্য, মৎস্যোত্তর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জেলেদের কল্যাণে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করা হবে।

এ ছাড়া উমিগিও ধারণার আলোকে উপকূলীয় জীবিকায়ন, সাগরে নিরাপত্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, টেকসই স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জেলে সম্প্রদায় ও সরকারের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মৎস্যসম্পদ ও উপকূলীয় পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে ভিত্তিমূলক গবেষণা পরিচালনার পাশাপাশি জেটি, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ডচেইন ও পরিবহন ব্যবস্থা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং বাজারব্যবস্থা উন্নয়নেও সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, সামুদ্রিক খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, মেরিকালচার, উচ্চমূল্য সংযোজন প্রযুক্তি হস্তান্তর, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাগরে নিরাপত্তা, মাননিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি, কর্মপরিবেশ ও শ্রমমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে।

সমঝোতা প্রসঙ্গে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওপিআরআইয়ের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো বলেন, ‘এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বিশেষ করে মৎস্য খাতে সমন্বিত ও টেকসই নীল অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব হবে।

মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘মিডা উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও বাস্তব কর্মসূচির সমন্বয় ঘটিয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের (বিশ্বের দীর্ঘতম উপসাগরের)—সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান, কৌশল ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সম্ভব হবে। এখন বাংলাদেশকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করতে হবে।’

১৩ থেকে ১৪ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (এসআইডিএস)’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপের ফাঁকে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দুই দিনব্যাপী এই সংলাপ যৌথভাবে আয়োজন করেছে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, মিডা এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সলিউশনস (বাংলাদেশ)। এতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করে।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।