খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করলো আইসিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করলো আইসিসি

ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ায় এরই মধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। পরিবর্তে আইসিসি অন্তর্ভূক্ত করে নিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। নতুন খবর হচ্ছে, টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি আইসিসি, এবার গণমাধ্যমের ওপরও আঘাত হানা হয়েছে।

টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য যে সকল সাংবাদিক আবেদন করেছিল আইসিসিতে, সবার আবেদনই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে। অর্থ্যাৎ, এবার বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিকই যেতে পারছে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য।

মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতি আর আইসিসির একগুঁয়েমি এখন তুঙ্গে। যেখানে নিরাপত্তা আর মর্যাদার প্রশ্নে উত্তাল বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গন।

পূর্বতন সূচি অনুসারে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ছিল কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ ছিল মুম্বাইয়ে। বাংলাদেমের ম্যাচসহ পুরো বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আইসিসি নির্ধারিত ফর্ম ও বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ খেলতে যাক কিংবা না যাক, বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিকের ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ খেলার সময় থেকে শুরু প্রতিটি আসরেই (ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগেও, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপস্থিতি ছিল না, তখনও অনেকগুলো বিশ্বকাপ আসর কাভার করার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের সাংবাদিকদের। ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে এদেশের মানুষের তুমুল আগ্রহ বিশ্বকাপ নিয়ে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি মিডিয়া হাউজই বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য সাংবাদিক প্রেরণ করে থাকে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার, ক্রিকেটার, সমর্থক এবং সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে একটি জোরালো দাবি ছিল— নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী নয়। পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য আইসিসির কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

বারবার বাংলাদেশ সরকার এবং আইসিসির কাছে এই দাবি বা অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা আইসিসি তা আমলে না এনে বাংলাদেশকে প্রতিবার ভারতেই খেলার উপরে চাপ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জানিয়ে দেয়, ‘আমরা ভারতে খেলবো না। শ্রীলঙ্কা ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবো না।’ শেষপর্যন্ত বাংলাদেশকে বলা চলে বিশ্বকাপ থেকে ‘ফরফিট’ বা বাদ দেওয়া কহয়েছে। সেটা ছিল টিম বাংলাদেশের ঘটনা।

কিন্তু আজ সন্ধ্যায় ঘটলো আরেক ঘটনা। বাংলাদেশ থেকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে অর্ধশতাধিক ক্রীড়া সাংবাদিক বা ক্রিকেট রিপোর্টার এক্রিডিটেশনের আবেদন করেছিলেন। তারা সবাই রিজেক্টেড হয়েছেন।

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন, ‘এটা আমার জন্য এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য অপমানের, গ্লানির এবং ক্ষোভের।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি হচ্ছি বাংলাদেশের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেট রিপোর্টার। যার ঝুলিতে সাত-সাতটা বিশ্বকাপ কাভার অভিজ্ঞতা রয়েছে, দেশে এবং দেশের বাইরে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমি বিস্মিত ও হতভম্ব যে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে চায় না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়। তাই বলে, বাংলাদেশের রিপোর্টাররা কেন এক্রিডিটেশন কার্ড পাবে না? তাদের ম্যাচ পেতে সমস্যা হবে?’

‘আমরা জানি, বিশ্বকাপে এক্রিডিটেশন কার্ডই শেষ কথা নয়। ম্যাচ কার্ডও পেতে হয়। সেই ম্যাচ কার্ড পেতে যদি সমস্যা হতো, আমি কিছু বলতাম না। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ জানা গেলো, বাংলাদেশের যত অ্যাপ্লিকেন্ট ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য— সব সাংবাদিকের অপ্লিকেশন বাতিল করা হয়েছে। এটা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।’

‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও, এখানকার সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার অধিকার আছে। সেটা ন্যায্য অধিকার। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট তো এবার শুধু ভারতে হবে না, শ্রীলঙ্কায়ও হচ্ছে। বাংলাদেশের রিপোর্টাররা ভারতে গিয়ে না করলেও শ্রীলঙ্কায় গিয়েও তো খেলা কাভার করতে পারতেন। কাজেই আইসিসির এমন ন্যাক্কারজনক আচরণ আমি একজন সিনিয়র মোস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে ধিক্কার জানাই এবং এতে আমি বিস্মিত।’

‘বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমি সবশেষে বলতে চাই— বাংলাদেশের অপর দুই ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা বিএসপিএ এবং স্পোর্টস জার্নালিস্ট এন্ড রাইটার্স কমিউনিটির (বিএসজেসি) নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই আমাদের একটা প্রতিবাদলিপি দেয়া উচিত।’

‘যদিও আমাদেরকে যে মেইল পাঠানো হয়েছে রিজেক্ট করে, সেখানে পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে যে, কোনো ফিরতি মেইল দেওয়া যাবে না। এখন বাংলাদেশের তিন অ্যাসোসিয়েশন মিলে সেটা বিসিবি কিংবা তথ্যমন্ত্রণালমের মাধ্যমে- যেভাবেই হোক আইসিসির কাছে একটা প্রতিবাদলিপি পাঠানো উচিত। রীতিমত কারণ জানতে চেয়ে যে, কেন আমাদেরকে সবাইকে রিজেক্ট করা হলো?’

‘আমি মনে করি, এটা একপেশে এক ধরণের ঘৃণ্য মানসিকতা। তার মানে ধরে নিতে হবে, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বলেই এ দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার সুযোগ থেকে আইসিসি বঞ্চিত করল। নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি মনে করি, এর একটা বিহিত বা একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির জানানো উচিত। আমরা যা শঙ্কা প্রকাশ করছিলাম, ক্রিকেট দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের মিডিয়াকেও আগামীতে যাঁতাকলে পিষ্ট করতে চায় আইসিসি? সে প্রশ্নই বারবার মনে হচ্ছে আমার।’

Feb2

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিনের সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তার কারণে এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তিনি সব ধরনের প্রকল্পের খরচ কমানোর এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বিভাগের রেট সিডিউল একই কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটার বিষয়েও নিজের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত, কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া সড়কেও তেমন গাছ নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি সব এলাকাকে শহর বানানোর পক্ষে নন, বরং গ্রামীণ পরিবেশ বজায় রাখাই তার পছন্দ। সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে তাকে ব্যথিত করে।

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বছরভিত্তিক ব্যয়ের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।

আধুনিক ও সেবাবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চসিক কাজ করছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
আধুনিক ও সেবাবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চসিক কাজ করছে: মেয়র

নগরবাসীর জন্য আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার কাজীর হাট আধুনিক কিচেন মার্কেট নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, “একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নগর গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “কাজীর হাটে আধুনিক কিচেন মার্কেট নির্মিত হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

পাবনা সদর উপজেলায় কিশোরী রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে রিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।