খুঁজুন
, ,

সন্দ্বীপের শীতের অমৃত খেজুর রস ও গাছিদের গল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 January, 2020, 9:02 am
সন্দ্বীপের শীতের অমৃত খেজুর রস ও গাছিদের গল্প

মহিউদ্দীন টিপুঃ চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে এক সময় চাষিদের অন্যতম প্রধান আবাদ ছিল খেজুর রস। তাই শীতকালে ওদিকের জীবনযাত্রা ছিল খেজুর গাছ কেন্দ্রিক। হাটে মাঠে ঘাটে পথে সব জায়গায় সাজ সাজ রব ছিল এ মৌসুমে। শীতকালে হাটের আনাচে কানাচে ছেয়ে যেত গুড়ের লাল লাল ভাঁড়ে।

চট্টগ্রাম সহ আশে পাশের পাইকারেরা আসত গুড় কিনতে। আড়তদারেরা বড় বড় পাল্লা বসিয়ে তাই বিকিকিনি করত। ছিল বড় বড় সব খেজুর বাগান। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই গাছিরা দল বেঁধে বাঁশ-সরপার তৈরি ঠোঙা কাঁধে চলত মাঠপানে।

এখন আগের মতো বড় বড় খেজুরবাগান আর নেই। রস-গুড়ের আবাদ বাদ দিয়ে অন্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। তাই রস-গুড়ের সেই রমরমা যুগ ম্লান হয়ে গেছে। তবু কিছু কিছু খেজুরবাগান এখনো আছে। গাছিরাও এখনো গাছ কাটেন। এখনো ওসব এলাকায় শীতের সকাল ম-ম করে তাঁতরস আর গরম গুড়ে গন্ধে

শীতের কুয়াশামাখা সকালে কাঁধে কলসিভরা খেজুর রস বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গাছি

শীতকালে দুপুরটা বড্ড ছোট। বেলার সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। তা ছাড়া বিকেলে হাট। গুড় বেচতে হবে। তার আগেই গাছ কাটা চাই। গাছিরা তাই দুপুরের ভাতটা কোনো রকমে নাকেমুখে গুঁজে বেরিয়ে পড়েন মাঠে।

বাঁশ-সরপার তৈরি ঠোঙা নিয়ে খেজুরগাছ বাইতে চলেছেন এক গাছি

পিঠে বাঁশ আর খেজুরগাছের সরপা দিয়ে তৈরি ঠোঙা থাকে গাছির। সেই ঠোঙার ভেতর কয়েক রকমের দা, নলি, দড়ি, সুচালো কাঠি, গোঁজ ইত্যাদি থাকে। কোমরে বাঁধা একটা মোটা দড়ি। এই দড়ির সাহায্যেই গাছি নিজেকে গাছের সঙ্গে আটকে রাখেন। এ ছাড়া থাকে তালগাছের ফালি দিয়ে তৈরি বালিধারা। বালিধারার ওপর বালু দিয়ে দা ঘষা হয়। দা ধার করা বা শানানোর জন্য।

গাছির একজন সহযোগী থাকে। সে রসের ভাঁড়গুলো মুখোমুখি দুই সারিতে সাজায়। তারপর এর মাঝখানে গুঁজে দেয় খড়বিচালি। তারপর তাতে ধরিয়ে দেয় আগুন। আগের দিনের রসের গন্ধ ভাঁড়ের গায়ে লেগে থাকে। শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে তা যায় না। কিন্তু আগুন দিয়ে এভাবে ভাঁড় পোড়ালে গন্ধটা চলে যায়।

এরপর গাছি ঠোঙাসহ গাছে চড়ে বসেন। মোটা দড়ি দিয়ে নিজেকে পেঁচিয়ে ফেলেন গাছের সঙ্গে।

তবে ব্যাপারটা মোটেও গাছের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে ফেলার মতো নয়। দড়িটা বেশ ঢিলে করে গাছ ও গাছি শরীরকে একটা বন্ধনীর ভেতর ঢুকিয়ে দেন। গাছি তাঁর দুই পা গাছের সঙ্গে ঠেকিয়ে নিজের শরীরের ভর ছেড়ে দেন দড়ির ওপর। শক্ত দড়ির ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে বাঁচার জন্য গাছির কোমরে প্যাঁচানো থাকে পাটের বস্তা। এরপর শুরু গাছ কাটা।

শীতের শুরুতেই গাছের মাথার এক পাশের পাতা ও সরপা পরিষ্কার করে ফেলা হয়। তারপর সেখানে দা দিয়ে চেঁছে মানুষের চোখের আদলে দুটো চোখের মতো তৈরি করা হয়। দুই গর্তের নিচে নাক বরাবর বসিয়ে দেওয়া হয় বাঁশের নলি। নলির ঠিক নিচে গাছের গায়ে তির্যকভাবে পোঁতা হয় বাঁশের গোঁজ। এই গোঁজ পেরেকের মতো কাজ করে। গোঁজের সঙ্গে দড়ির সাহায্যে আটকে দেওয়া হয় কলসি। যশোর-কুষ্টিয়া এলাকায় রসের কলসিকে ভাঁড় বলে।

দুদিন পরপর সেই চোখের ওপর ধারালো দা দিয়ে চাঁছেন গাছি। চাঁছার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশের নলি বেয়ে ঝরতে শুরু করে রস। বাঁশের এই নলিগুলো সব সময় গাছে লাগানো থাকে। কোনো কারণে নলি নষ্ট হয়ে গেলে গাছি ঠোঙা থেকে নতুন নলি বের করে সেখানে লাগায়। এরপর গাছি সদ্য কাটা চোখগুলো বাঁশের সুচালো এক কাঠির সাহায্যে ভালো করে ঘষে ঘষে রস পড়ার রাস্তাটা পরিষ্কার করে। ফলে খুব সহজেই রস নলিতে পৌঁছাতে পারে।

গাছকাটা শেষে গাছি সেই গাছ ছেড়ে অন্য গাছ কাটতে চলে যায়। গাছির সহযোগী এসে সদ্য কাটা গাছের গোঁজে ভাঁড় আটকে দেয়। সহযোগী না থাকলে গাছির খাটুনি একটু বেশি হয়।

এরপর বিকেল-সন্ধ্যা-রাত মিলিয়ে প্রায় পনেরো ঘণ্টা নলি বেয়ে রস পড়ে ভাঁড়ে। তবু সারা রাতে এক ভাঁড় রস পাওয়া যায় না একটা গাছ থেকে। দু-তিন গাছ মিলিয়ে এক ভাঁড় রস হয়।

ভোরে উঠে গাছিরা মাঠে চলে যান। তখন ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে প্রকৃতি। গাছির পিঠে থাকে বাঁক। বাঁক হলো চেরা বাঁশের তৈরি একধরনের লাঠি। এর দুই মাথায় দুটো আংটা থাকে। সেই আংটায় দড়ি দিয়ে ঝোলানো হয় রসের ভাঁড়। বাঁকের দুপাশে সমানসংখ্যক ভাঁড় ঝোলানো হয়। তাতে দাঁড়িপাল্লার মতো ভারসাম্য তৈরি হয়। ভাঁড় বহন করতে সুবিধা হয় এতে। কখনো কখনো ভাঁড়ের সংখ্যা অনেক বেশি। তখন রসের ভারে বেঁকে যায় বাঁক, বেঁকে যায় গাছির শরীর।

গাছিদের বাড়িতে রস জ্বালানোর জন্য ইট ও মাটির তৈরি বড় একটা চুলা থাকে। এ ধরনের চুলাকে বলে বাইন। এখানকার বাইনগুলো আয়তাকার। আগেকার বাইনগুলো ছিল গোলাকার। কারণ, এ যুগে গুড় জ্বালানো হয় আয়তাকার টিনের পাত্রে। আগেকার দিনে গুড় জ্বালানো হতো গোলাকার মাটির হাঁড়িতে। রস জ্বালানো হাঁড়িকে জ্বালা হাঁড়ি বলে। জ্বালা হাঁড়িতে রস ঢালার পর চুলায় আগুন দেওয়া হয়।

এখনকার বাইনের দুই দিকে দুটো বড় ছিদ্র থাকে। একদিক থেকে জ্বালানি ঢোকানো হয়। অন্য দিক থেকে জ্বালানি পোড়া কয়লা বেরিয়ে বাইনের ভেতরের জায়গাটা পরিষ্কার রাখে। বাইরের দুই পাশে তিনটা করে মোট ছয়টা জানালা থাকে। অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক রাখা ও ভেতর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করার সুবিধার্থে এ ব্যবস্থা।

রস জ্বালাতে দরকার হয় প্রচুর জ্বালানি। এ জ্বালানির বেশির ভাগটাই জোগান দেয় খেজুরগাছ। মৌসুমের শুরুতেই গাছ কাটার উপযোগী করতে ছেঁটে ফেলতে হয় প্রচুর খেজুরপাতা। সেই পাতাগুলোই শুকিয়ে রস জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া মাঠের ঝোপজঙ্গল কেটে শুকিয়েও রস জ্বাল দেওয়া হয়। অনেক সময় ব্যবহার করা হয় খড়বিচালিও ।

জ্বালা হাঁড়িতে রস ঢালার আধঘণ্টা পর ফুটতে শুরু করে। জ্বালা হাঁড়ির ওপর তখন ঘন কুয়াশার মতো জলীয় বাষ্প দেখা যায়। গুড় জ্বালানো দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রায় তিন-চার ঘণ্টা লেগে যায়। মাঝে মাঝে রসের ভেতরে থাকা ময়লা একত্র হয়ে সাদা ফেনা জমে। উড়কি মালা দিয়ে ফেনা ফেলে দেন গাছি।

ঘণ্টা দুয়েক পর রস অনেকটা লাল হয়ে ওঠে। চারদিকে সুবাস ছড়ায়। সারা গ্রামের বাতাস তখন ভরে ওঠে মিষ্টি গন্ধে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে উড়কিমালা দিয়ে খানিকটা তাঁতরস তুলে নেয় গ্লাসে। ফুঁ দিয়ে চায়ের মতো করে খায় তাঁতরস। ঘণ্টা তিনেক পরে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রস পুরোপুরি লাল হয়ে ওঠে। গুড় নামানোর জোগাড়-যন্ত্র করেন গাছি কিংবা গাছি-বউ। গুড় নামানো হয়। গন্ধটা তখন আরও মিষ্টি হয়।

উড়কিমালা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়া হয় গরম গুড়। এরপর আসল কাজ। ‘বীজ মারা’। জ্বালা হাঁড়ির গায়ে খেজুরপাতার ডাঁটা ঘষে ঘষে বীজ মারা হয়। এর ফলে হাঁড়ির গায়ে সাদাটে পেস্ট তৈরি হয়। বীজ মারার ওপরই নির্ভর করে গুড়ের মান। বীজ মারা যত ভালো হবে, গুড়ও তত ঘন হবে। গুড় জমিয়ে পাটালি করতে হলে অনেক বেশি সময় ধরে বীজ মারতে হয়। মেঘলা দিনে শত চেষ্টা করেও বীজ মেরে পেস্ট তৈরি সম্ভব নয়। তাই মেঘলা দিনে একেবারে ঝোলা গুড় ছাড়া জমাট গুড় পাওয়া অসম্ভব। বীজ মারা শেষ হলে উড়কিমালা দিয়ে সাদা পেস্ট গুড়ের সঙ্গে মেশানো করা হয়। এ সময় ছেলেমেয়েরা বাঁশের কাঠি কিংবা শুকনো খেজুরপাতা ভাঁজ করে তা দিয়ে হাঁড়ি থেকে গুড় তুলে খায়।

সবশেষে গুড় ঢালা হয় মাটির ভাঁড়ে। এরপর ভাঁড়ের মুখটা ঘন জমাট গুড় দিয়ে বন্ধ করা হয়। তারপর গুড়সহ সেই ভাঁড় চলে যায় হাটে, সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

Feb2
Feb2

১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 am
১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি থ্রি লায়নরা। তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছে তারা। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৭ম মিনিটে দারুণ এক গোলে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গার। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার, তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোল হয়।

গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহাম সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। শূন্যে ভেসে আসা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল পোস্টের ডান দিকে পাঠান তিনি। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি অসাধারণ রিফ্লেক্সে বলটি ফিরিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। তবে কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করায় হতাশ হতে হয় তাকে। সমতায় ফেরার আরেকটি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় ইংলিশদের।

৪২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ডিআর কঙ্গো। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়ে যান ইওয়ান উইসা। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করে গোলপোস্ট। বল পোস্টে লেগে ফিরে এলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় থ্রি লায়নরা।

এর দুই মিনিট পর ম্যাচে তৈরি হয় বিতর্ক। মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা বল ধরে কঙ্গোর বক্সে ঢুকে পড়েন হ্যারি কেইন। তাকে থামাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক এমপাসি। দুজনের সংঘর্ষে বক্সের ভেতরে পড়ে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারি উল্টো কেইনের বিপক্ষেই ফাউলের বাঁশি বাজান। ফলে পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক পায় ডিআর কঙ্গো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বেলিংহামের নিচু হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান এমপাসি। বাঁ দিকের নিচের কোণ থেকে দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেন এমপাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

তবে ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কঙ্গোর গোলরক্ষক বলটিতে হাত লাগালেও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।

সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন কেইন। ৮৬তম মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ১১ মিনিট আগে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কেইনের এই জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে এনে দেয় মূল্যবান জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৩ গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এবারের আসরে তার গোল মোট ৫টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 11:04 pm
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ঔষধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল মজিদ এবং মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 10:16 pm
ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হলো, তা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।

ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যাবে। সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয় এই পথে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ হলে রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া যাবে। সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা ঢাকা না ঢুকেও গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে শহরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে যানজটও কমে আসবে।

একইভাবে ঢাকা শহরে ঘিরে ১১০ কিলোমিটারের নদী পথ রয়েছে তার চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং রাজধানীর বৃত্তকার নদী পথে মানুষজন এক গন্তব্যে থেকে অন্য গন্তবে যেতে পারবে অনায়াসে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, এই বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। নদী পথ ব্যবহার করলে পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্র্রয়ী হবে, সময়ও কম লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেছেন। কারণ নদী পথের যানবাহনগুলো হবে বিদ্যুৎচালিত।

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেল পথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।