খুঁজুন
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এএফপিকে বললেন তারেক রহমান

নিরঙ্কুশ জয়ের প্রত্যাশা, তবে সামনে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
নিরঙ্কুশ জয়ের প্রত্যাশা, তবে সামনে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হলে সামনে তার জন্য ‘বড়’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া দেশকে মেরামতের অঙ্গীকার রয়েছে তার। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা; যাতে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন উৎখাতের পর দেশকে গ্রাস করা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটে।

তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকেন।’’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশের সামনের কাজ হবে অত্যন্ত কঠিন।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদেরকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।’’

ভোটে এগিয়ে থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি। নিজ কার্যালয়ে তার প্রয়াত বাবা-মা, বাংলাদেশের সাবেক নেতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো প্রতিকৃতি ঝুলছে। সেখানে বসে মৃদুভাষী বিএনপির এই নেতা এএফপিকে বলেছেন, তিনি নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব—একটি বড় ম্যান্ডেট।’’ বর্তমান তার দলের জোটের বাইরে কোনও জোটের প্রয়োজন দেখছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘নিজেদের সরকার গঠনের মতো আমরা পর্যাপ্ত আসন পাবো।’’

• বাবা-মায়ের চেয়েও ভালো করতে চান
শেখ হাসিনার শাসনামলে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই ৮০ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তার মা বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

খ্যাতিমান বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘তারা ছিলেন তারা। আর আমি আমিই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনিও আজীবন রাজনীতিতে কাটিয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।

নির্বাচিত হলে তার সামনে থাকা শীর্ষ কাজগুলোর একটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে; অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছেন। আমাদের এই তরুণদের চাকরির জন্য ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে।’’ বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।

• প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকায় পররাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমার জনগণের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত ‘‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’’ চায়।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের দেখভালের জন্য একসময় প্রশংসিত হলেও শেখ হাসিনা এমন এক সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন; যে সরকার ভিন্নমত দমন করেছে এবং বিশেষ করে বৃহৎ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুটপাটে অভিযুক্ত।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যা দেখছি, তা হলো মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকজন মানুষকে অত্যন্ত ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ; পুরো জনগণ কিছুই পায়নি।’’

তবে আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, নিশ্চয়ই, কেউ যদি কোনও ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।

Feb2

তিউনিসিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ইতিহাস গড়ে জিতল জাপান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
তিউনিসিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ইতিহাস গড়ে জিতল জাপান

ম্যাচটাই ছিল বড় মাইলফলকের। বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে নেমে ইতিহাসগড়া জয় পেয়েছে জাপান। সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবার এত বড় (৪-০) ব্যবধানে জিতে তারা তিউনিসিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ৪টি গোল করল সামুরাই ব্লুরা।

এর আগে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র দিয়ে জাপান এবারের আসর শুরু করেছিল। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বড় জয় তাদের টানা চতুর্থবারের মতো নকআউট পর্বের দিকে একধাপ এগিয়ে দিলো। এর আগে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত বেশি গোল করতে পারেনি জাপান। গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে সহজ জয় পেল তারা। আর উদ্বোধনী ম্যাচের পর কোচ বরখাস্ত করার নজির গড়া তিউনিসিয়া কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।

জাপানের হয়ে জোড়া গোল করেন আয়াসে উয়েদা। এ ছাড়া দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতো একটি করে গোল করেন। এই জয়ে জাপান চার পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সমান অবস্থানে রয়েছে। তবে দুই ম্যাচে এক গোল বেশি করায় গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে ডাচরা। সমান ম্যাচ খেলে সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে।

মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্টেরেইয়ে অনুষ্ঠিত ১০০০তম ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যায় জাপান। যা বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসের দ্রুততম গোল। কেইতো নাকামুরার ক্রসে দাইচি কামাদা নিকটদূরত্ব থেকে বল জালে পাঠান। যা চলমান আসরে তার দ্বিতীয় গোল। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দূর থেকে বাঁকানো শটে জালের কাঁপান।

উয়েদা ক্লাব পর্যায়েও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। ফেইনুর্দের হয়ে ২৪ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা এই ফুটবলার আজও দ্বিতীয়বার স্কোরশিটে নাম তোলেন ৮৩ মিনিটে। তার নিখুঁত লুপিং হেডে আসে জাপানের ঐতিহাসিক চতুর্থ গোল। এর আগে ৬৯ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জুনিয়া ইতো। উয়েদার চমৎকার ফ্লিক থেকে বল পেয়ে তিনি তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক আইমেন দাহমেনকে ঠান্ডা মাথায় ফাঁকি দিয়েছেন।

প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে লজ্জাজনক হারের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’বারের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী কোচ হার্ভে রেনার্দকে দায়িত্ব দিয়েছিল তিউনিসিয়া। কিন্তু উত্তর আফ্রিকার দলটি জাপানের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি, আবার নিজেরাও উল্লেখযোগ্য কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দল, যাচ্ছেন ভ্যান্স-শাহবাজ-মুনিরও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দল, যাচ্ছেন ভ্যান্স-শাহবাজ-মুনিরও

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ছেড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। একই আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির।

রোববার (২১ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দলটি এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যাতে সব পক্ষ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানি প্রতিপক্ষের সঙ্গে অন্তত এক বা দুইদিন জোরালো আলোচনা হতে পারে। লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং চুক্তিটি কার্যকর করতে করণীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইরানের পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা নসাৎ করার দিকেও ওয়াশিংটন মনোনিবেশ করবে। তবে ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি এর আওতাভুক্ত নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে নির্ধারিত ৬০ দিনের মেয়াদে উভয় পক্ষ ঠিক কী অর্জন করতে চায়, তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরার প্রথম সুযোগ এটি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। এই আলোচনায় কাতারও অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে পাকিস্তান তার সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

চট্টগ্রামে তিন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে এ জরিমানা করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার আদেশ দেন।

অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি, চানাচুর, চিড়া ও বুট উৎপাদনে পোড়াতেল ব্যবহার, প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্যের মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ এবং খাদ্য কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বিভিন্ন পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বর্জ্য পদার্থ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার, খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও খবরের কাগজ ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোড়কীকরণ না করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে ১৬ লাখ টাকা, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ লাখ টাকা এবং ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।