খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ, এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ, এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

ভেঙে দেওয়া হলো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। নতুন ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনএসসি ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল আহসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে বিসিবিতে তিন মাস মেয়াদে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে না পারলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ে দল। তবে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা ইতোমধ্যে আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে এনএসসি। একই সঙ্গে এডহক কমিটির নামও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসি পরিচালক।

এনএসসির প্রস্তাবিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

সভাপতি- তামিম ইকবাল।

সদস্য- রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম, ফাহিম সিনহা।

Feb2

বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে জায়গা পাওয়া কার কী পরিচয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে জায়গা পাওয়া কার কী পরিচয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি আগামী ৩ মাস বিসিবি পরিচালনা করবে এবং নির্বাচন আয়োজন করবে।

অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল এই কমিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল পরিচিত। জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লম্বা সময়। টাইগার জার্সিতে খেলেছেন ৭০ টেস্ট, ২৪৩ ওয়ানডে আর ৭৮ টি-টোয়েন্টি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫,২৪৯ রান রয়েছে তামিমের। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ৭০ ম্যাচে ৫,১৩৪ রান করেছেন, যেখানে রয়েছে ১০টি সেঞ্চুরি ও ৩১টি হাফসেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ২০৬ রান।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৪৩ ম্যাচে ৮,৩৫৭ রান করেছেন, যেখানে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৫৬টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ১৫৮ রান। টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ৭৮ ম্যাচে ১,৭৫৮ রান করেছেন, যেখানে রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি ও ৭টি হাফসেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ইনিংস ১০৩ রান। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি রয়েছে।

রাশনা ইমাম
এই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য রাশনা ইমাম। তিনি ব্যারিস্টার ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট। তিনি বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।

সৈয়দ ইব্রাহীম আহমেদ
এই কমিটির অন্যতম সদস্য সৈয়দ ইব্রাহীম আহমেদ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক। তার বাবা বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ইয়াসির আব্বাস
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসও এই কমিটিতে আছেন। ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক ও তরুণ ব্যবসায়ী তিনি।

ইসরাফিল খসরু
এই কমিটিতে আছেন তরুণ রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট ইসরাফিল খসরু। তিনি বর্তমান সরকারের অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মোহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে।

ফাহিম সিনহা
সাবেক বোর্ড পরিচালকও ক্লাব সংগঠক ফাহিম সিনহাও আছেন এই অ্যাডহক কমিটিতে। সাবেক জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিসিবির সাবেক সহসভাপতি ও পরিচালক আফজালুর রহমান সিনহার ছেলে ফাহিম সিনহা।

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আছেন এই কমিটিতে।

রফিকুল ইসলাম বাবু
অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক ও বিসিবির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু আছেন এই কমিটিতে। ইন্দিয়া রোড ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলরও তিনি।

তানজিল চৌধুরী
এই কমিটির অন্যতম সদস্য তানজিল চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ইস্টকোস্ট গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এছাড়া তিনি বিসিবির সাবেক পরিচালকও।

মির্জা সালমান ইস্পাহানি
বিসিবির সাবেক পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানিও আছেন এই কমিটিতে। তিনি ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যারিস্টার।

আতহার আলী খান
এই কমিটির আরেকজন জনপ্রিয় সদস্য আতহার আলী খান। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক নির্বাচক। এছাড়া জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকারও।

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ২৩৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের। বাকিদের হামের উপসর্গ ছিল।

আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ শিশুর। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ জন। আরও ৬ হাজার ৮৮৩ শিশুর হামের উপসর্গ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরের স্থানে আছে রাজশাহী বিভাগ। ঢাকা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৬ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৯৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্যানিক বায়িং নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল অ্যাপ চালু হচ্ছে: ডা. জাহেদ উর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
প্যানিক বায়িং নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল অ্যাপ চালু হচ্ছে: ডা. জাহেদ উর রহমান

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দূর করা এবং ‘প্যানিক বায়িং’ (আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনা) নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুতই একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্যানিক বায়িং নিয়ন্ত্রণে সরকার কী করছে— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতি বজায় রাখতে এবং ‘প্যানিক বায়িং’ নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি বিশেষ ডিজিটাল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ফলে কে কতটুকু জ্বালানি সংগ্রহ করছেন তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ থাকবে না।

উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’তে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি একটি বড় ঝুঁকি। তাই সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহারের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি ক্রয়ের ব্যয় সব সময়ই বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে কেবল অভ্যন্তরীণভাবে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমে, কিন্তু জাতীয় রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ কমে না। তাই ভর্তুকি ও রিজার্ভকে দুটি ভিন্ন বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার ওপর তিনি জোর দেন।

দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ভর্তুকি জাতীয় অর্থনীতির সক্ষমতা কমিয়ে দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি হঠাৎ কমিয়ে দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত।’

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত (যেমন: দোকানপাট ও অফিস সময় পরিবর্তন) নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, সড়ক নিরাপত্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশাগুলোকে দ্রুত নিয়মের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের দুর্নীতিও খতিয়ে দেখবে পুনর্গঠিত দুদক: তথ্য উপদেষ্টা

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠিত হওয়ার পরপরই এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু হবে।

স্থানীয় সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বেশকিছু দপ্তরের দুর্নীতির তদন্ত হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দুদক এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। এটি সম্পন্ন হওয়ার পর কমিশনের মাধ্যমেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্দেশ্য কেবল অতীতের হিসাব নেওয়া নয়, বরং বর্তমান সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা। এই সরকার দুর্নীতির লাগাম টানতে বদ্ধপরিকর, তাই আমাদের সময়েও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার খোঁজখবর অবশ্যই নেওয়া হবে।’

সরকারের সমালোচনা করার দায়ে এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন যে, শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে কাউকে হয়রানি করা উচিত নয় এবং এ ধরনের ঘটনাগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

যোগাযোগের ঘাটতি স্বীকার ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিদ্যমান ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য সময়মতো পৌঁছে দিতে এবং সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এখন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশের দীর্ঘদিনের ঋণখেলাপি সমস্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটি কেবল খেলাপি হওয়ার বিষয় নয়, বরং আইনের দুর্বল প্রয়োগই এখানে প্রধান অন্তরায়। বিদ্যমান আইনগুলো এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যেখানে চাইলেই বিভিন্ন উপায়ে ঋণ লুকিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে সামান্য ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল (রেশিডিউল) করা বা মামলার আড়ালে প্রকৃত খেলাপির তথ্য গোপন করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সরকার এই পুরো প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখছে।

বিশেষ করে যারা শুরু থেকেই ঋণ ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, অর্থাৎ ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ (উইলফুল ডিফল্টার), তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ওপর জোর দিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যারা সুপরিকল্পিতভাবে জনগণের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার

সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি সরকারকে টিকে থাকতে হলে এবং দেশের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করতে হলে অর্থনীতির চাকা সচল করা অপরিহার্য। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় আয় বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’

উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, সরকার জনগণের ওপর উচ্চ করের বোঝা চাপিয়ে দিতে চায় না। বরং মানুষের আয় বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই ভ্যাট এবং আয়কর থেকে সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ‘সরকারের হাতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন— ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো জনহিতকর প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং কর আদায়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কথা জানান। এক, বই পড়া প্রতিযোগিতা: সারাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পাঠাভ্যাস ও বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে শিগগিরই একটি বড় ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। দুই, স্থাপত্য ও ইতিহাস সংরক্ষণ: চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ ইতিহাস বিজড়িত বিভিন্ন স্থাপত্য ও জাদুঘর সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।