খুঁজুন
রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Feb2

মিরসরাইয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
মিরসরাইয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রেনের গার্ড ও রেলকর্মীদের তৎপরতায় জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার রেলওয়ের ৬৬/৩ কিলোমিটার পয়েন্টের একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং গেইটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সিলেটগামী ৭১৯ আপ পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেনটির ইনচার্জ গার্ড শহিদুল ইসলাম রাসু এবং কন্ট্রাক্টর গার্ড মিজানুর রহমান চৌধুরী ট্রেনে থাকা অন্যান্য রেলকর্মীদের সহযোগিতায় দ্রুত ইমারজেন্সি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ (রোববার) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানের পর থেকেই এ প্রস্তুতি শুরু হয়। অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর দিন প্রথমে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন কত কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে তা চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট ২০২৬-২৭ উপস্থাপন করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বাজেটের আকার হবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থের বড় একটা অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

পর্যাপ্ত নয় ভর্তুকি

বাজেটে সরকারের ব্যয়ের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ অন্যতম। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি তেল-গ্যাস আমদানি, সারসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন উপকরণ আমদানি ও সহায়তা, রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে এসব ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার আমদানিতে। দেশে শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই ভর্তুকি খুবই জরুরি।

তবে দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাইছে দেশের বাজেট ঘাটতি কমানো হোক এবং ভর্তুকি তুলে দেওয়া হোক। সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই ঋণ কর্মসূচি যদিও এখন চলবে না বলে জানা যায়। তবে বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দিয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পরিকল্পনা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়া গ্যাস আমদানির (এলএনজি) জন্য রাখা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস আমদানির এই অর্থ অন্যান্য ভর্তুকির নামে রাখা অর্থ থেকে ব্যয় হবে। অন্যান্য খাতে রাখা হয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সার আমদানিতে রাখা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সারের এই অর্থ কৃষি খাতের জন্য রাখা ১৭ হাজার কোটি টাকা ও বাকিটা অন্যান্য খাত থেকে খরচ হবে। আগামী বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দও চলতি বছরের সমান।

অর্থ বিভাগের বাজেট পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ, এলএনজি ও কৃষি ভর্তুকি বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে আগামী অর্থবছর।

খাদ্যে ভর্তুকি কমছে

দেশে বাজেটে বরাদ্দ করা ভর্তুকির বড় অংশ খরচ হয় ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য বিতরণের জন্য। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের মূল বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে খাদ্যে ভর্তুকি কমিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ছে: দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় দুটি খাতের একটি রেমিট্যান্স। হুন্ডি ঠেকাতে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা চালু রয়েছে। এই খাতে প্রণোদনা ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জন্য মূল ও সংশোধিত উভয় বাজেটেই ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

রপ্তানি প্রণোদনা অপরিবর্তিত থাকছে

বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দিতে বাজেটে ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটের সমান।

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ (রোববার) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় দেবেন।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে।

পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত চলাকালে ডিএনএ ও ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

পরে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

গত ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত ও মামলার অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে বলেন, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ দাবি করেন, মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন নেই, আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। তাই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করেন। তবে বিকল্পভাবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা চেয়েছেন তিনি।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এত দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রায়ের আগে শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের হত্যার বিচার চান না, বরং এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।