খুঁজুন
, ,

সিইআইজেডে অবকাঠামোসহ ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 3:15 pm
সিইআইজেডে অবকাঠামোসহ ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী

চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেডে অবকাঠামোগত সবকিছু হিসাব করলে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৭ জুলাই) আনোয়ারায় সিইআইজেডের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ যে ইনভেস্টমেন্ট এখানে হয়েছে এটা হচ্ছে আগামী ২০৩৪ সালে আমাদের যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা হচ্ছে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা এক কোটি চাকরির কথা বলেছি।

এখানে ১ লাখের অধিক লোক চাকরি করবে। এখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমি যদি অবকাঠামোগত সবকিছু নিই তাহলে এখানে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে।
এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখানে যত ধরনের সার্ভিসেস ডেভেলপমেন্ট হবে, এখানে সাপ্লাই চেইন ডেভেলপ হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেট অধিবেশনে আমি সাড়ে চার ঘণ্টা যে বক্তব্য দিয়েছি, তার মধ্যে সাড়ে চার পৃষ্ঠার বিষয় ছিল ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ। যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসেন এবং বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাতদিন উন্মুক্ত। এটাই বর্তমান সরকারের ভাবনায় রয়েছে। তাই বিনিয়োগের জন্য যেকোনো কিছু, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পরিবর্তনই আমাদের ভাবনায় সর্বদা থাকে।

সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিসের কথাটা অনেকদিন ধরেই বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে তা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, এবার আমরা বাংলাদেশে সিঙ্গেল উইন্ডো পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছি। এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা আমরা ইতোমধ্যেই ঠিক করে ফেলেছি। বাংলাদেশে আপনাদের বিনিয়োগ এবং অর্জিত মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোও আমরা সহজ করে দিচ্ছি, যা অতীতে একটি বড় বাধা ছিল। তাই, যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য বাংলাদেশে অর্জিত মুনাফা, এমনকি তাদের মূলধনও, যখন তারা বিনিয়োগ গুটিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন যেন সহজেই দেশে ফেরত পাঠানো যায়, তার ব্যবস্থা আমরা অত্যন্ত সহজ করে দিচ্ছি।

পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি চাই চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোক। আপনাদের অর্থ সংগ্রহের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি আপনাদের প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্ব থাকবে। আর খরচ কমাতে, কেন প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে গিয়ে উচ্চ সুদে ঋণ নেবেন? আমাদের পুঁজিবাজারের গতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। এটি খুব ভালো করছে। আমার মনে হয় এখানে অনেক দক্ষ লোকেরও প্রয়োজন হবে। আর সেজন্য, আমি চীনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করছি, আনোয়ারা বা চট্টগ্রামে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করুন, কারণ এটি শিল্পগুলোর জন্য চীনা বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ উভয়েরই জোগানের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও, এটি বিদেশে চাকরি খোঁজার বিষয়টিকেও অনেক সহজ করে দেবে। আমি জানি যে সারা চীনজুড়ে বড়, মাঝারি ও ছোট অনেক দক্ষতা কেন্দ্র রয়েছে। সুতরাং, সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটিও আমাদের আরেকটি লক্ষ্য হবে।

বায়োডাইভার্সিটি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিনিয়োগ করছি এখানে, এই বিনিয়োগের সাথে সাথে আমাদের চাকরি হবে, ব্যবসা হবে, আমাদের জিডিপি গ্রোথ হবে, আমাদের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নতি হবে। সাথে সাথে আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমাদের পরিবেশটা রক্ষা করতে হবে। আর এখানে যেটা শ্রমিকদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এটা খুব ভালো খবর। তাদের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশে এখন শুধু ইন্ডাস্ট্রি না, ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাথে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের কথা চিন্তা করতে হবে। তাদের লিভিং কনডিশন চিন্তা করতে হবে। সুতরাং আজকে আমরা ইনশাল্লাহ আমরা ওই জায়গায় যাচ্ছি। আমরা আজকে কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছি। কারণ আমরা ওই জায়গায় পৌঁছেছি ইনশাল্লাহ। সাধারণ মানুষের কল্যাণ, শ্রমিকদের কল্যাণ সব মাথায় রেখে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশের কথা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের জীবন-জীবিকা, সবাই যদি বেঁচে থাকতে হয়, আমাদের বায়োডাইভার্সিটি যদি রক্ষা করতে হয়, এগুলো সব মাথায় রেখে আমাদেরকে বিনিয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম, এমএম. ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি প্রমুখ।

Feb2
Feb2

নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 9:03 pm
নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

‘নিজেকে ছোট না ভেবে নিজেকে গড়ে তোলো, তাহলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’—নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তাহলেই আমরা ভবিষ্যতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—গ্যালারিতে যে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা তোমরা বসে আছ, তোমাদের মধ্য থেকেই এই দেশের ভালো ডাক্তার, ভালো স্থপতি, ভালো প্রকৌশলী, ভালো ক্রিকেটার, ভালো সাঁতারু ও ভালো টেনিস খেলোয়াড় তৈরি হবে।

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেরা খেলোয়াড় ও গুণী ব্যক্তিত্ব বের হয়ে আসবে। আজ তোমরা সেটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছ। তোমাদের মধ্য থেকেই এমন ভালো মানুষ তৈরি হবে, যারা এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কাজেই নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে বড় করে গড়ে তুলতে হবে। তুমি যত শক্তভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে, তোমার বাংলাদেশকেও তত সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ার ভাই যারা এখানে উপস্থিত আছেন—সেটি ইলেকট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়া যাই হোক—আপনাদের এবং আপনাদের সম্পাদকদের কাছে আমার একটি অনুরোধ আছে। আমরা সব সময় দেখি, পত্রিকায় বা খবরে বিভিন্ন বিষয়কে হাইলাইট বা ‘লিড নিউজ’ করা হয়। তবে আজ আপনারা যে ইভেন্টটি দেখে গেলেন, সেটিই মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা প্যান্ডেলের নিচে বসে আছে, যারা গ্যালারিতে বসে আছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, যত খবরই থাক না কেন, আগামীকাল আপনাদের পত্রিকা ও সম্প্রচারমাধ্যমে এই শিশুদের খেলার সংবাদটি যেন ‘লিড নিউজ’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। আশা করি, আজকের রাতের সংবাদে ও আগামীকালের পত্রিকায় আমাদের এই ভবিষ্যৎদের সুন্দরভাবে তুলে ধরবেন।

দেশের সমস্যা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমাদের বাংলাদেশে অনেক সমস্যা রয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করছি না। তবে এই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা দেখছি—বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা জানি, বহু স্কুলে এখনো প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা নেই; অনেক শ্রেণিকক্ষে হয়ত ফ্যানও সঠিকভাবে চলে না। আপনাদের এই সরকার সেসব সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা যায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার এই কাজ তখনই সার্থক হবে, যখন গ্যালারি ও সামনের সারিতে বসে থাকা তোমরা নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারবে। আজকের এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ইভেন্ট থেকে আমি তোমাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিতে চাই—তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তোলো, তবেই আমরা একযোগে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

‘বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে?’—অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তাদের জবাব জানতে চান। তিনি বলেন, কারা আমার সঙ্গে আছ, কারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাও—হাত তোলো। এ সময় পুরো গ্যালারির হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী একযোগে হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ার সময়ে মন দিয়ে পড়তে হবে, আর খেলার সময় একইভাবে মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় কিশোর-কিশোরীদের সহায়তা কামনা

পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার বিষয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটা আমাদের সবার। এই দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ যদি আমরা সবাই মিলে ঠিক রাখি, তবেই আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে বাঁচতে ও পড়াশোনা করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, তোমাদের কাছে আমার একটি বিশেষ অনুরোধ—রাস্তায় বা বাসার আশপাশে, এমনকি পুকুর-নদীনালায় কাউকে প্লাস্টিকের বোতল বা ময়লা ফেলতে দেখলে তোমরা তাকে বারণ করবে। প্রয়োজন হলে সেই ময়লাটি তোমরা নিজেরা তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলবে।

নদী-পুকুরের পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত করেন, কেউ জলাশয়ে ময়লা ফেললে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে, যাতে নদী ও পুকুরের পানি পরিচ্ছন্ন থাকে এবং মানুষ তার পাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারে। এছাড়া আমার আরেকটি চাওয়া হলো—তোমরা প্রতিবছর বাড়ি বা স্কুলের আশপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে। আমরা যদি গাছ লাগাতে পারি, তবে আমাদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হবে এবং আমরা সবাই বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারব।

শিশুদের সার্বিক বিকাশে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তোমাদের পাশে আছি। তোমরা যারা পড়াশোনা করতে চাও, সরকার থেকে আমরা সেই ব্যবস্থা করব যাতে সবাই ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারো। এছাড়া যারা গান গাইতে, ছবি আঁকতে

আঁকতে কিংবা খেলাধুলা করতে চাও—সরকারের পক্ষ থেকে তোমাদের সব ধরনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, তবে তোমাদের সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের যোগ্য করে তোলো, তবেই আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই গড়ার কাজ হয়তো আমরা শুরু করেছি, কিন্তু একে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব তোমাদেরই।

অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে খুদে খেলোয়ারদের অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতায় এই পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে সন্তানদের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে—সেই বাবা-মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সহায়তাকারী কোচদের আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ফুটবলের ফাইনালে বিজয়ী দল বালকদের মধ্যে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকাদের মধ্যে রংপুর অঞ্চল। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন এবং প্রতিযোগিদের হাতে ক্রেস্ট –মেডেল ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬ সমাপনি অনুষ্ঠান হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছাড়া অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ছিলেন।

এর আগে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ডিসিপ্লিনে ধারাবাহিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। জাতীয় পর্বের খেলাগুলো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে।

শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, প্রয়োজন বহুমুখী বিনিয়োগ: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 6:22 pm
শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, প্রয়োজন বহুমুখী বিনিয়োগ: অর্থমন্ত্রী

শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, উচ্চপ্রযুক্তি ও অন্যান্য বহুমুখী শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি পেয়েছিল, যা ছিল মূলত ঋণনির্ভর। এখন সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। কারণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, চাইনিজরা বিশাল আকারে বাংলাদেশে আসছে। তারা শুধু গার্মেন্টস খাতে নয়, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট থেকে শুরু করে সেলফোন উৎপাদনসহ নানা ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ করছে। শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করলে অর্থনীতি এগোবে না। আমাদের প্রয়োজন বহুমুখী বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন জ্ঞান।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই অঞ্চলে নতুন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, শক্তিশালী হবে সাপ্লাই চেইন, বাড়বে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র পথ বিনিয়োগ। এ কারণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইন, নীতিমালা ও বিধি-বিধানে ব্যাপক সংস্কার এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু চীনের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), দেশীয় বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজারে বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের আগ্রহও বাড়ছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশি ও বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। আবার বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও সম্ভব নয়। তাই নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আস্থার সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।

বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 5:54 pm
বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে, বর্তমান সরকার সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করেন এবং এই প্রকল্পের উদ্বোধন তারই প্রতিফলন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের উদ্বোধনের চেষ্টা চললেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও উল্লেখ করেছেন, প্রায় দুই বছর আগে থেকেই এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের শিল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেই সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম, এমএম. ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি প্রমুখ।