রেলওয়ের ১০.৬২ একর ভূমি রক্ষায় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন লট নং-৯, পাহাড়তলী মৌজায় অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০ দশমিক ৬২ একর ভূমি রক্ষায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রেলওয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন রেলওয়ে এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির নেতৃবৃন্দসহ রেলওয়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামে প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে এ সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ভূমি সংরক্ষণ, ভূমির সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তুলে ধরেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে অবগত হন এবং এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
রেলওয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, সরকারি সম্পত্তি হিসেবে রেলওয়ের ভূমি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ের জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য ভূমির মালিকানা ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

বৈঠকে রেলওয়ের বিভিন্ন শ্রমিক, কর্মচারী, কারিগরি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রেলওয়ে শ্রমিক দল, বিআরইএল, রেলওয়ে রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি, রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি সমাজকল্যাণ পরিষদ, রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি মসজিদ কমিটি এবং রেলওয়ে কারিগরি পরিষদের নেতৃবৃন্দ উল্লেখযোগ্য।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ রেলওয়ের ভূমি রক্ষার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের মাধ্যমে রেলওয়ের ভূমি সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি হবে।
ভূমি রক্ষায় এর আগেও মানববন্ধন
উল্লেখ্য, রেলওয়ের এই ভূমি রক্ষার দাবিতে গত ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ মাজারসংলগ্ন কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পাঁচ শতাধিক সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারী। ওই কর্মসূচি থেকে তাঁরা রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রেলওয়ের ভূমি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ধরনের সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ বা জটিলতা থাকলে তা যথাযথ আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনের ধারাবাহিকতায় এবার ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তুলে ধরলেন রেলওয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ের ১০.৬২ একর ভূমি রক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভূমির মালিকানা, সীমানা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে সরকারি সম্পত্তির স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।



আপনার মতামত লিখুন