সৌদি আরবে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ১০৪ বাংলাদেশি, নিঃস্ব অনেকেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ সন্ধ্যা
সৌদি আরবে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ১০৪ বাংলাদেশি, নিঃস্ব অনেকেই

ভাগ্য বদলাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু আকামা জটিলতা, প্রতারণা, বকেয়া বেতন ও কারাভোগের পর শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে একসঙ্গে দেশে ফিরেছেন ১০৪ বাংলাদেশি প্রবাসী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০২ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। দেশে ফেরা প্রবাসীদের মধ্যে ছিলেন দুলাল মিয়া, আব্দুল হালিম, আল আমিন ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দিদারুল আলম।

ফেরত আসা প্রবাসীদের অভিযোগ, সৌদি আরবে আকামা করে দেওয়ার নামে টাকা নিয়েও অনেক নিয়োগকর্তা প্রতিশ্রুতি রাখেননি। অনেকে কাজ করেও বেতন পাননি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিদের নিয়মিত খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

১৩ বছর সৌদি আরবে থাকা নরসিংদীর দুলাল মিয়া জানান, ভাড়াটিয়ার মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ১৩ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও ২৮ দিনের মাথায় আবার আটক হন। তার দাবি, ব্যবসা, পাসপোর্ট ও অর্থ হারিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

২৭ বছর সৌদি আরবে থাকা আব্দুল হালিমের অভিযোগ, আকামা জটিলতায় আটক হওয়ার পর প্রায় আড়াই মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা নিয়মিত খোঁজ নিলে দ্রুত দেশে ফিরতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, তিন বছর সৌদি আরবে থেকেও ঠিকমতো বেতন পাননি গোপালগঞ্জের আল আমিন। আকামা না থাকায় কাজের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে টাকা পাঠিয়েও আকামা করতে পারেননি তিনি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মিরসরাইয়ের দিদারুল আলম। তার অভিযোগ, আকামা করে দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। পরে গাড়িচালকের কাজ করলেও ২৬ হাজার রিয়াল বেতন পাননি। গাড়ি কিনেও বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্সের অভাবে চালাতে পারেননি। সব মিলিয়ে বাড়িঘর বিক্রি করে নেওয়া অর্থ হারিয়ে এখন পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ রয়েছে তার।

দিদারুল জানান, সৌদি আরবের কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্দি রাখা হয়। খাবার, কম্বল ও চিকিৎসা নিয়েও ভোগান্তি রয়েছে। দেশে ফেরার প্রক্রিয়াতেও কয়েক দিন বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

ফেরত আসা প্রবাসীরা অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ও ভারতের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা নিয়মিত কারাগারে গিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের খোঁজ নিলেও বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিদের দীর্ঘদিন দেখা পাওয়া যায় না। এতে বন্দিদের শনাক্তকরণ ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

তারা সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশিদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, আইনি সহায়তা দেওয়া, বকেয়া বেতন আদায়ে উদ্যোগ এবং দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে আকামা, নিয়োগকর্তা ও কাজের নিশ্চয়তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

Feb2
Feb2