খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিতে লামার ত্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : আতংকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিতে লামার ত্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : আতংকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। লামা প্রতিনিধি : দীর্ঘ অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বান্দরবানের লামা উপজেলার ত্রিডেবা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হলেও বিদ্যালয়টি শুধু পড়ালেখাই নয়, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক, বাহ্যিক জ্ঞানসহ শিক্ষামূলক নানা কর্মকান্ডেও এগিয়ে রয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিদ্যুৎ ও পাহাড় ধ্বস ঝুঁকি-এ বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

একটু বড় ধরণের ভূমিকম্প হলেই যে কোনো সময় এ ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা নিয়ে উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এছাড়া বিদ্যালযের সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অরক্ষিত এ বিদ্যালয়। দ্রুত নতুন বিদ্যালয়ভবনসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।

জানা যায়, অবহেলিত এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ঘিলাতলী পাড়ায় তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন মজুমদারসহ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।

বিদ্যালয়ের জন্য ৮০শতক জমি দান করেন স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩ শ্রেণী ও এক অফিস কক্ষ বিশিষ্ট পাঁকা একটি পূণ: বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়। গত কয়েক বছর আগ থেকে বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ তিন জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আশপাশ এলাকায় আর কোন বিদ্যালয় নেই।

সরজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানের ছাদ, বিম, পিলার, মেঝে ও দেয়ালে ছোট বড় ফাটল। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ভয় ও শঙ্কা নিয়ে বসছে শ্রেণিকক্ষে। তবে প্রতি বছর সংস্কার ও রংয়ের কাজ করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি বুঝা দায়। একটু মনোযোগ সহকারে দেখলে ফুটে ওঠবে বিদ্যালয়টি, ‘উপরে ফিটফাট ভিতরে সদর ঘাট’।লামা ক্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে আছে বিদ্যালয়টি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয় ভবনের পশ্চিম পাশ থেকে মাটি ধসে ঝিরিতে পড়ছে। এতে দিন দিন আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে বিদ্যালয় ভবনটি। পাশ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপিত হলেও বিদ্যালয়ে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে রাতের বেলায় বিদ্যালয় এলাকা ভুঁতুতে পরিবেশে পরিণত হয়।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইয়াসমিন সুলতানা রিয়া ও মো. জামসেদুল ইসলাম ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানায়, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় ছাদ ছুঁয়ে পানি পড়ে। এতে আবার বিদ্যালয়ের মেঝে স্যঁত স্যঁতে হয়ে যায়। উপর থেকে ঝরে পড়ে পলেস্তারা। আবার কখন বিদ্যালয় ভবনটির পাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে ভবনটি ধসে পড়ে, সব সময় এ আতংকে থাকি। এ অবস্থা গত চার বছর ধরে দেখে আসছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান মংয়ইন খিং মার্মা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কর্তৃক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে ছাদের বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ক্লাস চলার সময় প্রায়ই ছাদের বিম থেকে খোয়া ঝরে পড়ে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীরা থাকে ভয়ের মধ্যে।লামা ক্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শুষ্ক মৌসুমে কোন মতে শ্রেণী কার্যক্রম চালানো গেলেও বর্ষা মৌসুমে ছাদ ছুঁয়ে পড়ার কারণে মোটেও সম্ভব হয়না। বিদ্যালয় ভবনটি সংস্কার করলেও টেকসই হবে না। তাই ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ভবন ধস আতংকে অনেক অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছেনা।

একমত পোষন করে একই কথা জানালেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদারসহ বিদ্যালয়টি পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল খালেক।

অভিভাবক আছিয়া বেগম ও কামাল হোসেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করায় ছেলে মেয়েকে নিয়ে ভয়ে থাকি। ভূমিকম্প তো রয়েছেই। একটু বড় ভূমিকম্প হলেই ওই ভবন যে ধসে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’ এ অবস্থায় শিগগিরই কর্তৃপক্ষ যেন একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে, সে দাবি জানান এ অভিভাবক।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার চৌধুরী ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, দেড় বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ত্রিডেবা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানায়, শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিদ্যালয়ের তালিকা অনুমোদন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে না পাঠানোর কারণে ত্রিডেবা পাড়া ও রাজবাড়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছেনা।

Feb2

এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই-ই আশা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।

ইসলমাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসমাইল। সাক্ষৎেকারে বাকাই বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই— কেউই এমনটা আশা করেনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব দেওয়ার পর আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।

বক্তব্যের শুরুতেই জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানকে ‘অসাধারণ স্বাগতিক’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার কোনো ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়; বরং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি চুক্তিতে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।

টানা ২১ ঘণ্টার এই আলোচনাকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট একে ইরানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির। আমরা আমাদের সীমারেখা (রেড লাইন) এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া সম্ভব, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী তারা অত্যন্ত নমনীয় ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি।

নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক ইস্যুটিকে এই আলোচনার মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে এই মর্মে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায় যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এছাড়া দ্রুত অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম এমন কোনো প্রযুক্তি বা সরঞ্জামও তারা অর্জন করতে পারবে না।

ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ইরানের আগের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের মধ্যে সেই সদিচ্ছা আছে কি না? আমরা এখন পর্যন্ত সেই সদিচ্ছার প্রমাণ পাইনি। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসায় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি এখন ওয়াশিংটনের পথে রওনা দিচ্ছে।

পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার

পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে পাহাড়ি-সমতলের সব মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সুরক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে নজির রয়েছে, তা বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দেশের বিভিন্ন ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়সহ সব নাগরিকের সমান অগ্রগতি, বিকাশ, নিরাপত্তা ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের সমান অধিকার।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) বনানীতে এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জনসাধারণকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, চাংক্রান, বিষু ও চাংলান উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চল এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান উপলক্ষ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে জানাই বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।”

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সবার ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আমাদের জাতীয় উৎসবেরই অংশ। এসব উৎসব জাতীয় জীবনে শান্তি ও আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের ঐতিহ্যকে গৌরবময়, প্রাচুর্যময় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি ও মিলনের অমিয় বাণী মিশে আছে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যে।

বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব এবং বাংলা নববর্ষ সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে বলেও শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।