খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিতে লামার ত্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : আতংকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিতে লামার ত্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : আতংকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। লামা প্রতিনিধি : দীর্ঘ অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বান্দরবানের লামা উপজেলার ত্রিডেবা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হলেও বিদ্যালয়টি শুধু পড়ালেখাই নয়, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক, বাহ্যিক জ্ঞানসহ শিক্ষামূলক নানা কর্মকান্ডেও এগিয়ে রয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিদ্যুৎ ও পাহাড় ধ্বস ঝুঁকি-এ বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

একটু বড় ধরণের ভূমিকম্প হলেই যে কোনো সময় এ ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা নিয়ে উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এছাড়া বিদ্যালযের সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অরক্ষিত এ বিদ্যালয়। দ্রুত নতুন বিদ্যালয়ভবনসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।

জানা যায়, অবহেলিত এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ঘিলাতলী পাড়ায় তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন মজুমদারসহ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।

বিদ্যালয়ের জন্য ৮০শতক জমি দান করেন স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩ শ্রেণী ও এক অফিস কক্ষ বিশিষ্ট পাঁকা একটি পূণ: বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়। গত কয়েক বছর আগ থেকে বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ তিন জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আশপাশ এলাকায় আর কোন বিদ্যালয় নেই।

সরজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানের ছাদ, বিম, পিলার, মেঝে ও দেয়ালে ছোট বড় ফাটল। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ভয় ও শঙ্কা নিয়ে বসছে শ্রেণিকক্ষে। তবে প্রতি বছর সংস্কার ও রংয়ের কাজ করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি বুঝা দায়। একটু মনোযোগ সহকারে দেখলে ফুটে ওঠবে বিদ্যালয়টি, ‘উপরে ফিটফাট ভিতরে সদর ঘাট’।লামা ক্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে আছে বিদ্যালয়টি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয় ভবনের পশ্চিম পাশ থেকে মাটি ধসে ঝিরিতে পড়ছে। এতে দিন দিন আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে বিদ্যালয় ভবনটি। পাশ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপিত হলেও বিদ্যালয়ে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে রাতের বেলায় বিদ্যালয় এলাকা ভুঁতুতে পরিবেশে পরিণত হয়।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইয়াসমিন সুলতানা রিয়া ও মো. জামসেদুল ইসলাম ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানায়, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় ছাদ ছুঁয়ে পানি পড়ে। এতে আবার বিদ্যালয়ের মেঝে স্যঁত স্যঁতে হয়ে যায়। উপর থেকে ঝরে পড়ে পলেস্তারা। আবার কখন বিদ্যালয় ভবনটির পাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে ভবনটি ধসে পড়ে, সব সময় এ আতংকে থাকি। এ অবস্থা গত চার বছর ধরে দেখে আসছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান মংয়ইন খিং মার্মা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কর্তৃক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে ছাদের বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ক্লাস চলার সময় প্রায়ই ছাদের বিম থেকে খোয়া ঝরে পড়ে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীরা থাকে ভয়ের মধ্যে।লামা ক্রিডেবা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শুষ্ক মৌসুমে কোন মতে শ্রেণী কার্যক্রম চালানো গেলেও বর্ষা মৌসুমে ছাদ ছুঁয়ে পড়ার কারণে মোটেও সম্ভব হয়না। বিদ্যালয় ভবনটি সংস্কার করলেও টেকসই হবে না। তাই ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ভবন ধস আতংকে অনেক অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছেনা।

একমত পোষন করে একই কথা জানালেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদারসহ বিদ্যালয়টি পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল খালেক।

অভিভাবক আছিয়া বেগম ও কামাল হোসেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করায় ছেলে মেয়েকে নিয়ে ভয়ে থাকি। ভূমিকম্প তো রয়েছেই। একটু বড় ভূমিকম্প হলেই ওই ভবন যে ধসে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’ এ অবস্থায় শিগগিরই কর্তৃপক্ষ যেন একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে, সে দাবি জানান এ অভিভাবক।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার চৌধুরী ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, দেড় বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ত্রিডেবা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানায়, শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিদ্যালয়ের তালিকা অনুমোদন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে না পাঠানোর কারণে ত্রিডেবা পাড়া ও রাজবাড়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছেনা।

Feb2

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।