খুঁজুন
, ,

রাউজানে বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে হলুদ বর্ণের মনমাতানো দৃশ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 January, 2020, 3:49 pm
রাউজানে বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে হলুদ বর্ণের মনমাতানো দৃশ্য

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। নেজাম রানা, রাউজান : চট্টগ্রামের রাউজানে বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষার আবাদ। যেইদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদের দৃশ্য। সরিষা ক্ষেতের মনমাতানো এই দৃশ্য দেখে উপচে পড়ছে কৃষকের হাসি। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় এই বছরও রাউজানে সরিষার আবাদ হয়েছে। অল্প পুজিঁতে ফলনও হয় ভালো তাই সরিষার চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে।

রাউজান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাউজান পৌর এলাকা, উরকিরচর, বিনাজুরি, পশ্চিম গুজরা, ডাবুয়া, হলদিয়া, চিকদাইর, বাগোয়ান, নোয়াজিশপুর ও কদলপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে এবার সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর রাউজানের বেশ কিছু ইউনিয়নে সরিষা ক্ষেতের মনমাতানো দৃশ্য নজর কাড়ছে পথচারীদের।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশে ১৫ জাতের সরিষার চাষাবাদ হচ্ছে। প্রতি আড়াই কেজি সরিষা থেকে এক কেজি সরিষা তেল পাওয়া যায়। চাষাবাদের ৯০ দিনের মধ্যে সরিষার ক্ষেত থেকে ফসল ঘরে তোলা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, রাউজানে বারি-১৪ জাতের ৪০ হে:, বারি-১৫ জাতের ৫৫ হে:, বিনা- ৯ জাতের ৫ হে: এবং টরি-৭ জাতের ৫ হে: জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। বারি- ১৫ জাতের সরিষা তেল উৎপাদনের জন্য খুবই ভাল।

রাউজানে সরিষা তেল উৎপাদনের জন্য ২ টি ঘানি আছে। তেল উৎপাদনের পর সরিষার বাদ বাকি অংশ থেকে গরুর খৈল হয়। ভালো ফলন হওয়ায় বর্তমানে দিনদিন কৃষকরা সরিষার চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, সরিষা ফুল থেকে ভাল মানের মধু আহরণের জন্য সরিষা ক্ষেতে ৪ টি মৌ বাক্স বসানো হয়েছে।

চলতি বছর উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, ডাবুয়া ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, চিকদাইর ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, গহিরা ইউনিয়নে ৪ হেক্টর, পৌর সভায় ১২ হেক্টর, বিনাজুরি ইউনিয়নে ৩ হেক্টর, রাউজান ইউনিয়নে ৭ হেক্টর, কদলপুর ইউনিয়নে ২ হেক্টর, পাহাড়তলী ইউনিয়নে ২ হেক্টর, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে ৫ হেক্টর, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে ৩ হেক্টর, উরকিরচর ইউনিয়নে ২ হেক্টর, নোয়াপাড়া ইউনিয়নে ৫ হেক্টর, বাগোয়ান ইউনিয়নে ৫ হেক্টর ও নোয়াজিশপুর ইউনিয়নে ১০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয়।

রাউজান পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল সালাম ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আমন মৌসুমের ধান কাটার পর তার কৃষি জমিতে সরিষার চাষাবাদ করেছেন। ফলন ভালো হলে কম খরচে ভালোই লাভবান হওয়া যায় তাই শীতকালীন বিভিন্ন সব্জির পাশাপাশি তিনি সরিষা চাষ করেছেন। তার সরিষা ক্ষেত এখন হলদে বর্ণে টইটুম্বুর।

রাউজান ইউনিয়নের সুজন জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি সরিষার চাষাবাদ করে আসছেন। কম পুঁজিতে লোকসানের তেমন আশংকা না থাকায় সরিষা চাষাবাদে তার মতো অনেকেই এগিয়ে আসছেন।

রাউজান উপজেলা উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উন্নয়ন শাখা) সনজীব কুমার সুশীল ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, চলতি বছর রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর কৃষি জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে। গত বছরের চাইতে যা ৩৫ হেক্টর বেশী। আশানুরুপ ফলন হলে ১০ টনের অধিক পরিমান সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।