খুঁজুন
, ,

বোয়ালখালীতে খালে বাঁধ, ৫শত কৃষকের মাথায় হাত!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 January, 2020, 7:36 am
বোয়ালখালীতে খালে বাঁধ, ৫শত কৃষকের মাথায় হাত!

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। পূজন সেন, বোয়ালখালী : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কালভার্ট নির্মাণের জন্য একটি খালে বাঁধ দেওয়ায় প্রায় ৫শত কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ৬টি সেচ স্কীম।

ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রায় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৪শত একর জমি বোরো আবাদ। একই সাথে বোরোর বীজতলায় চারা উৎপাদন করে তা মাঠে মেরে ফেলতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে ওই এলাকায় বোরো চাষ না হলে প্রায় ২ কোটি ৮লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ধানের ন্যায মূল্য না পাওয়া, চাষের ব্যয় ও মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। এরমধ্যে শুধুমাত্র খালে বাঁধ দিয়ে সৃষ্ট সেচ সংকটে চাষ দিতে না পারায় চাষাবাদ থেকে চিরতরে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বোরো মৌসুমে অনাবাদি থাকা প্রায় ৪শত একর জমিতে ৮শত মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস। এতো বড় অংকের ধান উৎপাদনে চাষ না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিরাট প্রভাব ফেলবে এবার। এদিকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকার কেজি প্রতি ২৬টাকা ধরে ধান ক্রয় করছেন কৃষকদের কাছ থেকে। সে হিসেব মতে উৎপাদিত ৮শত মেট্রিক টন ধানের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৮লাখ টাকা।

জানা গেছে, উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের হক খালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে নন্দী পাড়ায় যাতায়াতের জন্য কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। গত এক মাস আগে এই কালভার্ট নির্মাণ কাজের জন্য খালে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। তবে এখনো কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এই বাঁধের ফলে ওই এলাকার নাগাডা বিল, আডর বিল ও পূর্বে বিলের ৬টি সেচ স্কীম বন্ধ হয়ে গেছে। পানির অভাবে প্রায় ৫শত কৃষকের জমিতে বোরো চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

কৃষকরা জানান, উপজেলার ভারাম্বা খাল থেকে হক খালটি বৈদানি খালে এসে মিশেছে। বাঁধের ফলে খালের দুই পাশের জমিতে চাষের পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করলেও জমিতে এখনো চাষ দিতে পারেননি তারা। বোরো চাষের উপযুক্ত সময় পেড়িয়ে যেতে বসেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।

এ ঘটনা জানতে পেরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি আসন্ন উপজেলার সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানিয়েছেন কৃষকদের।

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে হক খালে কালভার্ট নির্মাণের কাজ পেয়েছেন এসকে ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মো. জুয়েল বলেন, গত দুইমাস আগে ট্রেন্ডারের মাধ্যমে এই কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় এসকে ট্রেডার্স। কিন্তু কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয় গত দুই সপ্তাহ আগে।বোয়ালখালীতে খালে বাঁধ

এরই মধ্যে খালে বাঁধ তৈরির কাজও শেষ করা হয়। তবে কালভার্ট নির্মাণ সামগ্রী আনা নেওয়ার জন্য পথ না থাকায় বিকল্প পথ তৈরি করতে সময় গেছে। এরপরও দ্রুত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা জানালেন তিনি।

আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল দে ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নন্দীপাড়ায় যাতায়াতের জন্য এ কালর্ভাটটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নন্দীপাড়ায় প্রায় ১৪ পরিবারের বসবাস।

এদিকে স্কীম ম্যানেজাররা সেচ মৌসুমে কৃষকদের চাষের জন্য পানি দিতে না পারায় তাদেরও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা জানান, শুধুমাত্র পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এতগুলো কৃষি চাষে নির্ভরশীল পরিবার এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।বোয়ালখালীতে খালে বাঁধ

স্কীম ম্যানেজার প্রদীপ চৌধুরী ৭২ একর , কৃষ্ণপদ দাশ ২৮ একর, শুভধন চৌধুরী ৪০ একর, এসএম বাবর ৬৮ একর, আবদুর রহীম ৪৮ একর ও দীপক দে ৬দশমিক ৮একর জমিতে বোরো মৌসুমে সেচ দিতেন বলে জানান। তবে খালের বাঁধের কারণে এবার তা বন্ধ রয়েছে।

সেচ স্কীম ম্যানেজার দীপক দে ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, প্রায় ৮০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। সময় মতো পানির দিতে না পাড়ায় তা শুকিয়ে লাল হয়ে গেছে। চাষবাদ না হওয়ায় এসব চারা বীজতলাতে মেরে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, কৃষকদের চাষবাদে ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনাসহ সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। কৃষিকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন চিন্তা করা যায় না। এ অবস্থায় যদি এমন ঘটনার সৃষ্টি হয় তা মেনে নেওয়া যায় না।

বিষয়টি সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আশা করি সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে তারা দ্রুত কাজ করবেন।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।