খুঁজুন
, ,

বই প্রেমী জিহাদ বাবুর ১০ টাকার বই!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 February, 2020, 11:07 am
বই প্রেমী জিহাদ বাবুর ১০ টাকার বই!

বই মানুষকে আন্ধকার থেকে আলোর দিশারি করে, আলোকিত মানুষ গড়তে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখে। সে উপলব্ধি থেকে নাম মাত্র মূল্যে চট্টগ্রামে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে এ ব্যতিক্রমি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠ চক্রবিষয়ক সম্পাদক জিহাদ বাবু।

পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই । সৃজনশীল বই শুদ্ধ মননের আয়না। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করা গেলে চিন্তাশীল সমাজ সৃষ্টি করা যাবে। নতুন প্রজন্মকে বাঙালি জাতিসত্তার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে।

এ জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। তারা যেন বিপথগামী না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্ম বইবিমুখ। এখন আর তরুন প্রজন্ম বই পড়ে না। তাদের মস্তিষ্ক কম্পিউটার ভাইরাসে সীমাবদ্ধ। তাদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পেয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ বিচরণে বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা।

তারুণ্যের অবক্ষয় আর প্রজন্মের বই পড়ার অনীহা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য একটি ভিন্নভাবে বই পড়ার প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করে ১০ টাকার বিনিময়ে একটি বই ভাড়া কার্যক্রম শুরু করেছেন সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক জিহাদ বাবু।

১০ টাকার বিনিময়ে একটি বই একটি প্রজেক্টের নাম। মূলত বই পড়ার উৎসাহ জাগাতে এই প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের সদস্য হয়ে যেকেউ প্রতি সপ্তাহে নিতে পারেন একটি বই,পুনরায় এক সপ্তাহ পর সেই বই ফেরত দিয়ে আবার দশ টাকার দিয়ে আরো একটি একটি বই নিতে পারেন। দশ টাকা দিয়ে হবে একটি ফান্ড, সেই ফান্ডের টাকায় কেনা হবে আরো নতুন বই।

এ কার্যক্রম সম্পর্কে জিহাদ বাবু বলেন, নিজে পড়া শেষ হলে আরেকজনকে পড়তে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বই ভাড়া দেওয়ার চিন্তা মাথায় আসে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই হবে পাঠক। কেননা এখন আর তারা আগের মত বই পড়তে চাই না। আমার কাছে থাকে ৪০-৪৫ টি বই দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি ,ধীরে ধীরে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বই সংগ্রহ করে এই কার্যক্রম কে আরও বড় করার ইচ্ছে আছে। আমার নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই ভ্রাম্যমান হিসেবে সবাইকে বই পৌঁছে দিই। ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি।

জাবেদ হোসেন নামে এক পাঠক বলেন , মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে হুমায়ুন আজাদের নারী বইটি পড়ার সুযোগ হয়েছে। বইয়ের মূল্য ২৫০ টাকা, যা হয়তো কিনে পড়া হতো না। বইটি পড়ে আবার অন্য একটি বই নিয়ে যাব। এভাবেই প্রতি সপ্তাহে বই নেয়ার ইচ্ছে আছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সামি উদ দ্দৌলা সীমান্ত বলেন, সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের প্রগতিশীল ও মেধাবী ছাত্র নেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছে জিহাদ বাবু। শিক্ষা বিষয়ক তার এই উদ্যোগ ছোট আকারে হলে তার ভাবনা পুরো সন্দ্বীপে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দিবে। আর তার জন্য প্রয়োজন কিছু সহযোগিতা, তাই সবার কাছে অনুরোধ থাকবে যাদের সম্ভব বই দিয়ে হোক অথবা অন্যন্যা সহযোগিতা দিয়ে হোক এই সুন্দর ও সৃজনশীল এই উদ্যোগের পাশে থাকবেন।

উত্তর সন্দ্বীপ কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, এভাবে পাঠাভ্যাস আর কে বা গড়ে তুলতে পারে? স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণেরা সামান্য টাকার বিনিময়ে বই পড়তে পারছেন। আশা করি তরুণদের পাঠাভ্যাস আরও বেড়ে যাবে।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।