খুঁজুন
, ,

মাদক ব্যবসায়ীদের নিশ্চিহ্ন করা হবে: বেনজীর আহমেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 February, 2020, 6:23 pm
মাদক ব্যবসায়ীদের নিশ্চিহ্ন করা হবে: বেনজীর আহমেদ

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান নেই। যেখানেই লুকিয়ে থাক না কেন তাদের খুঁজে বের করে দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করা হবে। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য আগামীর বাংলাদেশের সোনালি ভবিষ্যৎ ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়ায় র‌্যাব-১২ আয়োজিত মাদকবিরোধী সাইকেল র‌্যালির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। এ উন্নয়নের বড় বাধা হচ্ছে মাদক। দেশের ৮০ লাখ মানুষ মাদকসেবী। দেশে প্রতিদিন আড়াইশ কোটি টাকা শুধু মাদক সেবনে অপচয় হয়।

তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের পরিচিত কেউ যদি মাদকাসক্ত থাকে তবে তাকে মাদক ছাড়াতে তার চিকিৎসা এবং কাউন্সিলিং করতে হবে। আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। সেই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। এসো আমরা এই মাদক নামক দানবকে সোনার বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন করি, বিলুপ্ত করি। আমাদের অবশ্যই মাদক নামক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনকে পরাজিত করতে হবে।’

মাদকাসক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা মাদকাসক্ত তারা চিকিৎসা নিন, মাদকের পথ থেকে ফিরে আসুন। সুস্থ জীবন যাপন করুন। সমাজের মূলধারায় ফিরে আসুন।’

এ সময় তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যারা মাদকের ব্যবসা করে তারা গণশত্রু। বাংলাদেশে আপনাদের স্থান হবে না। এমন কোনো শক্তিধর আপনারা হননি যে আপনারা টিকে থাকবেন। ১৮ কোটি মানুষ আপনাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করে দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করবে। আমাদের আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করার ক্ষমতা আপনাদের কেউ দেয়নি। আমরা দেশবাসী মিলে এই গণশত্রুদের সমাজ থেকে পোকামাকড়ের মতো খুঁজে খুঁজে নিশ্চিহ্ন করবো।’

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আজ থেকে চার দশক আগে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তোমাদের কোনো ধারণাই নেই সেই সময় বাংলাদেশ কেমন ছিল। আমরা যখন পাকিস্তানের অংশ ছিলাম তখন এই জনপদের মানুষের অবস্থা কেমন ছিল তোমরা ধারণাই করতে পারবে না। এই অঞ্চলে ছিল অভাব, এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে ছিল দারিদ্র্য, ছিল অশিক্ষা এবং অন্ধকার। সেখান থেকে বাংলাদেশ আজ কোথায় এসেছে? হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজকে আমাদের বাংলাদেশ যেভাবে আছে, সেটা আমরা অর্জন করতে পারতাম না। বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীর মানচিত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অন্যতম প্রাগ্রসর জাতি।’

মাদকবিরোধী সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাজাহান আলী, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি একেএম হাফিজ আকতার, বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহামেদ, বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা, র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

সাইকেল র‌্যালিতে বগুড়া শহরের ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮শ ছাত্র-ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। র‌্যালিটি আজিজুল হক কলেজ পুরাতন ভবন থেকে শুরু হয়ে শিববাটি, কালিতলা, দত্তবাড়ি, বড়গোলা, থানার মোড়, সাতমাথা হয়ে সেন্ট্রাল স্কুল মাঠে শেষ হয়।

 

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।