খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা পাড়া এখন রুপকথার গল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 1 March, 2020, 10:35 am
ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা পাড়া এখন রুপকথার গল্প

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃঠাকুরগাঁওয়ে এখন  সিনেমা হলের সামনে গেলে বোঝার উপায় নাই যে এটা একটা সময় সিনেমা হল ছিল। একটা সময় ছিল যখন সিনেমার টিকিটের জন্য হলের সীমানা পেরিয়ে মানুষের লাইন চলে যেত রাস্তার উপর। সেই সিনেমা পড়ার কথা আজ রুপকথার গল্প হয়ে দাড়িয়েছে।

গরমের দুপুরে ধাক্কা-ধাক্কি, মারামারি, ব্ল্যাকারদের নির্বিকার মুখ হল্লা, হয়তো কখনো বৃষ্টিতে কাক ভেঁজা হয়ে হাতের মুঠোয় পাওয়া একটা অথবা দুটো টিকিট পেয়ে কি আনন্দে ফেটে পরতো মানুষ। এটা ছিল একটা সময়ের সিনেমা হলের দৃশ্য।এখন চোখে দেখা যায় না এমন দৃশ্য, আজ শুধুই এসব কথা রুপকথার গল্পতেই শোভা পায়, বাস্তবে মেলা ভার। আজ কোথায় সেই দৃশ্য, কোথায় সেই হুমরী খেয়ে পরা ভীর, আজ কোথায় সেইসব দিনের মানুষেরা, হারিয়ে গেছে।

বদলে যাওয়া সময় বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট, বলছে দিয়েছে পেক্ষাপট। ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা ভাগ হল ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক ঐতিহ্যবাহী হল এখন গোডাউন/মার্কেটে পরিনত হয়েছে।   হারিয়েছি আমাদের এ জেলার সিনেমা হল গুলো। কত বাহারী  নামের হল ছিল। শেষে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে  ঠাকুরগাঁওয়ের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বলাকা সিনেমা হল। সিনেমা পাড়ার জন্য এক খারাপ সংবাদ চলছে বর্তমানে।

পেছনে ফেরা যাক,সে সময় কতো লোকযে বাপের দৃষ্টি এড়িয়ে, বড় ভাইয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে, কিংবা পরিবারের সকলের দৃষ্টির আড়াল করে পাঁচ টাকা সাত টাকা জমিয়ে দশ কিলো পায়ে হেটে গিয়ে একটি সিনেমার টিকিট কিনে সিনেমা দেখেছে তা সংখ্যায় পরিমাপ করা যাবে না।সে সময় গুলোতে ভাই যেত ভাবিকে নিয়ে, দুলাভাই যেত শালা -শালীকে নিয়ে, প্রেমিক যেত প্রেমিকাকে নিয়ে। আর ঈদ, পূজা -প্লাবন এলেতো এর সংখ্যা বেড়ে দাড়াতো কয়েক গুনে। কারন এই সময় গুলোতেই বছরের সেরা সেরা ছবিগুলো মুক্তি পেত। গ্রামে গন্ঞ্জে রিক্সা টেম্পুতে মাইক লাগিয়ে জোরালে শব্দে প্রচার করা হতো এই সব সিনেমার খবর। কানে ভেসে আসতো সেই চিরচেনা কন্ঠস্বর -আসিতেছে আসিতেছে বাংলার সুপার ডুপার হিট নায়ক …?সিনেমা ।

কতো বাহীরি সব সিনেমা হলের নাম। তখন সিনেমা শিল্প ছিল স্বর্ণ মহিমায় উজ্জ্বল। সেই রাজাজ্জ, কবরী, ববিতা, ফারুক, সাবানা, আলমগীর, রোজিনা থেকে শুরু করে মান্না, রিয়াজ, শাবনূর,মৌসুমী, পূর্নিমা,পপি, ফেরদৌস পর্যন্ত দেখা মিলতো এ দৃশ্য।আজ এ শিল্প তার হারাতে বসেছে।

আর সে সময় সিনেমাকে বই,হল কে পেক্ষাগৃহ বলা হতো আজ অনেকেই তা ভুলে গেছে। সে সময় ছিল নে এমন ছিমছাম পরিবেশ, সাজানো গোজানো সিনেমা হল, তবুও ছিল উপছে পরা দর্শক।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাত্রা চরম আকার ধারন করতো, হুমড়ি খেয়ে পড়তো দর্শক। আবার কেউ কেউ কাজের চাপে পরিবারকে সময় না দেওয়ার কারনে ঐ দিনটি বেছে নিত সিনেমা দেখাতে।

সে সময় দৈনিক পত্রিকায় শেষ পৃষ্টায় বড় বড় সাইজে ছাপা হতো মুক্তি অপেক্ষারত সিনেমার পোষ্টারের বিজ্ঞাপন। একটা সময় এই প্রচার মাধ্যমই ছিল সিনেমা হলের অনুষঙ্গ। সব মিলিয়ে এক অসাধারণ শিহোরন কাজ করতে সিনেমা প্রেমিদের মনে।

আজ যে কটা হল আছে তাতে দেখা যায় না টিকিট ব্ল্যাকারদের। যদিও এখন দেখাও যায় তবে তার সংখ্যা নাই বললেই চলে, হাতে গোনা হয়তো দুই একজন থাকতে পারে। আর সেই সোনালী সময়ে একটা সিনেমা হল থাকতো সেই এলাকার মাস্তানদের দখলে। সিনেমার টিকেট বেচার জন্য তাদের নিয়োজিত কিছু গরীব মানুষ চড়া মূল্যে বিক্রি করতো টিকিট গুলো।মাস্তানরা সিনেমা মুক্তির আগেই বেশিরভাগ টিকিট কিনে নিত। আর সেই টিকিট চলে যেত ব্ল্যাকারদের হাতে। তারপর সিনেমা মুক্তি পেলেই দুপুরের আগেই হলের সামনে টানিয়ে দেওয়া হতো হাউস ফুল, তখন বাধ্য হয়েই ব্ল্যাকারদের থেকে টিকেট কিনতে হতো সাধারণ দর্শকদের। আবার টিকিট না পেয়ে মারামারি লেগেই থাকতো হলের সামনে। পকেটমারদের তো ছিল রমরমা ব্যবসা।

তৎকালীন সময়ে সিনেমা হলগুলোতে কাঠের ভাঙ্গা চেয়ার, নষ্ট ফ্যান, গরমে মানুষের হৈহুল্লোর চিৎকার চেচামেচির মধ্যেও বসে সিনেমা উপভোগ করতো। মাঝে মাঝে আবার বিদ্যুৎ চলে যেত সিনেমা চলার মাঝখানে। আর আজ  এতো উন্নতি হওয়ার পরেও সিনেমা হল গুলোর তেমন উন্নতি হয়নি, আর যে হলগুলোতে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে তাতেও দর্শক মেলা দুষ্কর।

অনেকেরই সে সময় সিনেমার টিকেটের টাকা জোগাড় হতো স্কুল, কলেজের টিফিনের টাকা দিয়ে, কারো আবার জোগার হতো মায়ের জমানো টাকা মেরে দিয়ে আবার কারো কারো জোগাড় হতো বাবা, দাদুর পকেট মেরে। এই সিনেমা দেখে কারো কারো টিকিট ফেলে দেওয়ার খেয়াল থাকতো না, পকেটেই রেখে দিত। এই শার্ট -প্যান্ট মায়ের কাছে ধোয়ার জন্য দিলে সেই টিকিট চলে যেত মায়ের হাতে। আর সেই টিকিট দেখে মেয়েরা কতইনা বকা-জকা করতো। স্কুল, কলেজ ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখা!

এসব আজ আর হয়না,ঠাকুরগাঁও জেলার  সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় এ জেলা উপজেলা মিলে প্রায় ৮ টি সিনেমা হল ছিল। বর্তমানে জেলার প্রাণকেন্দ্রে একটি মাত্র চলে তাও মাঝে মধ্যে এখন সেটিও আবার গোডাউন।

ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলো এখন গোডাউনে পরিনত হয়েছে। এতেই পরিষ্কার এই জেলার সিনেমার অবস্থা। যে একটি সিনেমা হল রয়েছে সেটা চালাতে হিমশিম খেতে হয় মালিক পক্ষের। নেই দর্শক, তৈরি হয়না উত্তেজনা, হয়না আগের মতো লোক সমাগম। হলের চেয়ার ফাঁকা, প্রযোজক পাচ্ছে তার লগ্নির টাকা ফেরত, অনেক প্রযোজক আর আসেনা এই শিল্পে ব্যবসা করতে। দিনদিন চলচ্চিত্র শিল্প হারাচ্ছে তার ঐহিত্য আর সিনেমা হল হচ্ছে গোডাউন,মার্কেট।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।