খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা পাড়া এখন রুপকথার গল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২০, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা পাড়া এখন রুপকথার গল্প

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃঠাকুরগাঁওয়ে এখন  সিনেমা হলের সামনে গেলে বোঝার উপায় নাই যে এটা একটা সময় সিনেমা হল ছিল। একটা সময় ছিল যখন সিনেমার টিকিটের জন্য হলের সীমানা পেরিয়ে মানুষের লাইন চলে যেত রাস্তার উপর। সেই সিনেমা পড়ার কথা আজ রুপকথার গল্প হয়ে দাড়িয়েছে।

গরমের দুপুরে ধাক্কা-ধাক্কি, মারামারি, ব্ল্যাকারদের নির্বিকার মুখ হল্লা, হয়তো কখনো বৃষ্টিতে কাক ভেঁজা হয়ে হাতের মুঠোয় পাওয়া একটা অথবা দুটো টিকিট পেয়ে কি আনন্দে ফেটে পরতো মানুষ। এটা ছিল একটা সময়ের সিনেমা হলের দৃশ্য।এখন চোখে দেখা যায় না এমন দৃশ্য, আজ শুধুই এসব কথা রুপকথার গল্পতেই শোভা পায়, বাস্তবে মেলা ভার। আজ কোথায় সেই দৃশ্য, কোথায় সেই হুমরী খেয়ে পরা ভীর, আজ কোথায় সেইসব দিনের মানুষেরা, হারিয়ে গেছে।

বদলে যাওয়া সময় বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট, বলছে দিয়েছে পেক্ষাপট। ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা ভাগ হল ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক ঐতিহ্যবাহী হল এখন গোডাউন/মার্কেটে পরিনত হয়েছে।   হারিয়েছি আমাদের এ জেলার সিনেমা হল গুলো। কত বাহারী  নামের হল ছিল। শেষে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে  ঠাকুরগাঁওয়ের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বলাকা সিনেমা হল। সিনেমা পাড়ার জন্য এক খারাপ সংবাদ চলছে বর্তমানে।

পেছনে ফেরা যাক,সে সময় কতো লোকযে বাপের দৃষ্টি এড়িয়ে, বড় ভাইয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে, কিংবা পরিবারের সকলের দৃষ্টির আড়াল করে পাঁচ টাকা সাত টাকা জমিয়ে দশ কিলো পায়ে হেটে গিয়ে একটি সিনেমার টিকিট কিনে সিনেমা দেখেছে তা সংখ্যায় পরিমাপ করা যাবে না।সে সময় গুলোতে ভাই যেত ভাবিকে নিয়ে, দুলাভাই যেত শালা -শালীকে নিয়ে, প্রেমিক যেত প্রেমিকাকে নিয়ে। আর ঈদ, পূজা -প্লাবন এলেতো এর সংখ্যা বেড়ে দাড়াতো কয়েক গুনে। কারন এই সময় গুলোতেই বছরের সেরা সেরা ছবিগুলো মুক্তি পেত। গ্রামে গন্ঞ্জে রিক্সা টেম্পুতে মাইক লাগিয়ে জোরালে শব্দে প্রচার করা হতো এই সব সিনেমার খবর। কানে ভেসে আসতো সেই চিরচেনা কন্ঠস্বর -আসিতেছে আসিতেছে বাংলার সুপার ডুপার হিট নায়ক …?সিনেমা ।

কতো বাহীরি সব সিনেমা হলের নাম। তখন সিনেমা শিল্প ছিল স্বর্ণ মহিমায় উজ্জ্বল। সেই রাজাজ্জ, কবরী, ববিতা, ফারুক, সাবানা, আলমগীর, রোজিনা থেকে শুরু করে মান্না, রিয়াজ, শাবনূর,মৌসুমী, পূর্নিমা,পপি, ফেরদৌস পর্যন্ত দেখা মিলতো এ দৃশ্য।আজ এ শিল্প তার হারাতে বসেছে।

আর সে সময় সিনেমাকে বই,হল কে পেক্ষাগৃহ বলা হতো আজ অনেকেই তা ভুলে গেছে। সে সময় ছিল নে এমন ছিমছাম পরিবেশ, সাজানো গোজানো সিনেমা হল, তবুও ছিল উপছে পরা দর্শক।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাত্রা চরম আকার ধারন করতো, হুমড়ি খেয়ে পড়তো দর্শক। আবার কেউ কেউ কাজের চাপে পরিবারকে সময় না দেওয়ার কারনে ঐ দিনটি বেছে নিত সিনেমা দেখাতে।

সে সময় দৈনিক পত্রিকায় শেষ পৃষ্টায় বড় বড় সাইজে ছাপা হতো মুক্তি অপেক্ষারত সিনেমার পোষ্টারের বিজ্ঞাপন। একটা সময় এই প্রচার মাধ্যমই ছিল সিনেমা হলের অনুষঙ্গ। সব মিলিয়ে এক অসাধারণ শিহোরন কাজ করতে সিনেমা প্রেমিদের মনে।

আজ যে কটা হল আছে তাতে দেখা যায় না টিকিট ব্ল্যাকারদের। যদিও এখন দেখাও যায় তবে তার সংখ্যা নাই বললেই চলে, হাতে গোনা হয়তো দুই একজন থাকতে পারে। আর সেই সোনালী সময়ে একটা সিনেমা হল থাকতো সেই এলাকার মাস্তানদের দখলে। সিনেমার টিকেট বেচার জন্য তাদের নিয়োজিত কিছু গরীব মানুষ চড়া মূল্যে বিক্রি করতো টিকিট গুলো।মাস্তানরা সিনেমা মুক্তির আগেই বেশিরভাগ টিকিট কিনে নিত। আর সেই টিকিট চলে যেত ব্ল্যাকারদের হাতে। তারপর সিনেমা মুক্তি পেলেই দুপুরের আগেই হলের সামনে টানিয়ে দেওয়া হতো হাউস ফুল, তখন বাধ্য হয়েই ব্ল্যাকারদের থেকে টিকেট কিনতে হতো সাধারণ দর্শকদের। আবার টিকিট না পেয়ে মারামারি লেগেই থাকতো হলের সামনে। পকেটমারদের তো ছিল রমরমা ব্যবসা।

তৎকালীন সময়ে সিনেমা হলগুলোতে কাঠের ভাঙ্গা চেয়ার, নষ্ট ফ্যান, গরমে মানুষের হৈহুল্লোর চিৎকার চেচামেচির মধ্যেও বসে সিনেমা উপভোগ করতো। মাঝে মাঝে আবার বিদ্যুৎ চলে যেত সিনেমা চলার মাঝখানে। আর আজ  এতো উন্নতি হওয়ার পরেও সিনেমা হল গুলোর তেমন উন্নতি হয়নি, আর যে হলগুলোতে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে তাতেও দর্শক মেলা দুষ্কর।

অনেকেরই সে সময় সিনেমার টিকেটের টাকা জোগাড় হতো স্কুল, কলেজের টিফিনের টাকা দিয়ে, কারো আবার জোগার হতো মায়ের জমানো টাকা মেরে দিয়ে আবার কারো কারো জোগাড় হতো বাবা, দাদুর পকেট মেরে। এই সিনেমা দেখে কারো কারো টিকিট ফেলে দেওয়ার খেয়াল থাকতো না, পকেটেই রেখে দিত। এই শার্ট -প্যান্ট মায়ের কাছে ধোয়ার জন্য দিলে সেই টিকিট চলে যেত মায়ের হাতে। আর সেই টিকিট দেখে মেয়েরা কতইনা বকা-জকা করতো। স্কুল, কলেজ ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখা!

এসব আজ আর হয়না,ঠাকুরগাঁও জেলার  সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় এ জেলা উপজেলা মিলে প্রায় ৮ টি সিনেমা হল ছিল। বর্তমানে জেলার প্রাণকেন্দ্রে একটি মাত্র চলে তাও মাঝে মধ্যে এখন সেটিও আবার গোডাউন।

ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলো এখন গোডাউনে পরিনত হয়েছে। এতেই পরিষ্কার এই জেলার সিনেমার অবস্থা। যে একটি সিনেমা হল রয়েছে সেটা চালাতে হিমশিম খেতে হয় মালিক পক্ষের। নেই দর্শক, তৈরি হয়না উত্তেজনা, হয়না আগের মতো লোক সমাগম। হলের চেয়ার ফাঁকা, প্রযোজক পাচ্ছে তার লগ্নির টাকা ফেরত, অনেক প্রযোজক আর আসেনা এই শিল্পে ব্যবসা করতে। দিনদিন চলচ্চিত্র শিল্প হারাচ্ছে তার ঐহিত্য আর সিনেমা হল হচ্ছে গোডাউন,মার্কেট।

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।