খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা পাড়া এখন রুপকথার গল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 1 March, 2020, 10:35 am
ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা পাড়া এখন রুপকথার গল্প

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃঠাকুরগাঁওয়ে এখন  সিনেমা হলের সামনে গেলে বোঝার উপায় নাই যে এটা একটা সময় সিনেমা হল ছিল। একটা সময় ছিল যখন সিনেমার টিকিটের জন্য হলের সীমানা পেরিয়ে মানুষের লাইন চলে যেত রাস্তার উপর। সেই সিনেমা পড়ার কথা আজ রুপকথার গল্প হয়ে দাড়িয়েছে।

গরমের দুপুরে ধাক্কা-ধাক্কি, মারামারি, ব্ল্যাকারদের নির্বিকার মুখ হল্লা, হয়তো কখনো বৃষ্টিতে কাক ভেঁজা হয়ে হাতের মুঠোয় পাওয়া একটা অথবা দুটো টিকিট পেয়ে কি আনন্দে ফেটে পরতো মানুষ। এটা ছিল একটা সময়ের সিনেমা হলের দৃশ্য।এখন চোখে দেখা যায় না এমন দৃশ্য, আজ শুধুই এসব কথা রুপকথার গল্পতেই শোভা পায়, বাস্তবে মেলা ভার। আজ কোথায় সেই দৃশ্য, কোথায় সেই হুমরী খেয়ে পরা ভীর, আজ কোথায় সেইসব দিনের মানুষেরা, হারিয়ে গেছে।

বদলে যাওয়া সময় বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট, বলছে দিয়েছে পেক্ষাপট। ঠাকুরগাঁওয়ে সিনেমা ভাগ হল ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক ঐতিহ্যবাহী হল এখন গোডাউন/মার্কেটে পরিনত হয়েছে।   হারিয়েছি আমাদের এ জেলার সিনেমা হল গুলো। কত বাহারী  নামের হল ছিল। শেষে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে  ঠাকুরগাঁওয়ের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বলাকা সিনেমা হল। সিনেমা পাড়ার জন্য এক খারাপ সংবাদ চলছে বর্তমানে।

পেছনে ফেরা যাক,সে সময় কতো লোকযে বাপের দৃষ্টি এড়িয়ে, বড় ভাইয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে, কিংবা পরিবারের সকলের দৃষ্টির আড়াল করে পাঁচ টাকা সাত টাকা জমিয়ে দশ কিলো পায়ে হেটে গিয়ে একটি সিনেমার টিকিট কিনে সিনেমা দেখেছে তা সংখ্যায় পরিমাপ করা যাবে না।সে সময় গুলোতে ভাই যেত ভাবিকে নিয়ে, দুলাভাই যেত শালা -শালীকে নিয়ে, প্রেমিক যেত প্রেমিকাকে নিয়ে। আর ঈদ, পূজা -প্লাবন এলেতো এর সংখ্যা বেড়ে দাড়াতো কয়েক গুনে। কারন এই সময় গুলোতেই বছরের সেরা সেরা ছবিগুলো মুক্তি পেত। গ্রামে গন্ঞ্জে রিক্সা টেম্পুতে মাইক লাগিয়ে জোরালে শব্দে প্রচার করা হতো এই সব সিনেমার খবর। কানে ভেসে আসতো সেই চিরচেনা কন্ঠস্বর -আসিতেছে আসিতেছে বাংলার সুপার ডুপার হিট নায়ক …?সিনেমা ।

কতো বাহীরি সব সিনেমা হলের নাম। তখন সিনেমা শিল্প ছিল স্বর্ণ মহিমায় উজ্জ্বল। সেই রাজাজ্জ, কবরী, ববিতা, ফারুক, সাবানা, আলমগীর, রোজিনা থেকে শুরু করে মান্না, রিয়াজ, শাবনূর,মৌসুমী, পূর্নিমা,পপি, ফেরদৌস পর্যন্ত দেখা মিলতো এ দৃশ্য।আজ এ শিল্প তার হারাতে বসেছে।

আর সে সময় সিনেমাকে বই,হল কে পেক্ষাগৃহ বলা হতো আজ অনেকেই তা ভুলে গেছে। সে সময় ছিল নে এমন ছিমছাম পরিবেশ, সাজানো গোজানো সিনেমা হল, তবুও ছিল উপছে পরা দর্শক।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাত্রা চরম আকার ধারন করতো, হুমড়ি খেয়ে পড়তো দর্শক। আবার কেউ কেউ কাজের চাপে পরিবারকে সময় না দেওয়ার কারনে ঐ দিনটি বেছে নিত সিনেমা দেখাতে।

সে সময় দৈনিক পত্রিকায় শেষ পৃষ্টায় বড় বড় সাইজে ছাপা হতো মুক্তি অপেক্ষারত সিনেমার পোষ্টারের বিজ্ঞাপন। একটা সময় এই প্রচার মাধ্যমই ছিল সিনেমা হলের অনুষঙ্গ। সব মিলিয়ে এক অসাধারণ শিহোরন কাজ করতে সিনেমা প্রেমিদের মনে।

আজ যে কটা হল আছে তাতে দেখা যায় না টিকিট ব্ল্যাকারদের। যদিও এখন দেখাও যায় তবে তার সংখ্যা নাই বললেই চলে, হাতে গোনা হয়তো দুই একজন থাকতে পারে। আর সেই সোনালী সময়ে একটা সিনেমা হল থাকতো সেই এলাকার মাস্তানদের দখলে। সিনেমার টিকেট বেচার জন্য তাদের নিয়োজিত কিছু গরীব মানুষ চড়া মূল্যে বিক্রি করতো টিকিট গুলো।মাস্তানরা সিনেমা মুক্তির আগেই বেশিরভাগ টিকিট কিনে নিত। আর সেই টিকিট চলে যেত ব্ল্যাকারদের হাতে। তারপর সিনেমা মুক্তি পেলেই দুপুরের আগেই হলের সামনে টানিয়ে দেওয়া হতো হাউস ফুল, তখন বাধ্য হয়েই ব্ল্যাকারদের থেকে টিকেট কিনতে হতো সাধারণ দর্শকদের। আবার টিকিট না পেয়ে মারামারি লেগেই থাকতো হলের সামনে। পকেটমারদের তো ছিল রমরমা ব্যবসা।

তৎকালীন সময়ে সিনেমা হলগুলোতে কাঠের ভাঙ্গা চেয়ার, নষ্ট ফ্যান, গরমে মানুষের হৈহুল্লোর চিৎকার চেচামেচির মধ্যেও বসে সিনেমা উপভোগ করতো। মাঝে মাঝে আবার বিদ্যুৎ চলে যেত সিনেমা চলার মাঝখানে। আর আজ  এতো উন্নতি হওয়ার পরেও সিনেমা হল গুলোর তেমন উন্নতি হয়নি, আর যে হলগুলোতে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে তাতেও দর্শক মেলা দুষ্কর।

অনেকেরই সে সময় সিনেমার টিকেটের টাকা জোগাড় হতো স্কুল, কলেজের টিফিনের টাকা দিয়ে, কারো আবার জোগার হতো মায়ের জমানো টাকা মেরে দিয়ে আবার কারো কারো জোগাড় হতো বাবা, দাদুর পকেট মেরে। এই সিনেমা দেখে কারো কারো টিকিট ফেলে দেওয়ার খেয়াল থাকতো না, পকেটেই রেখে দিত। এই শার্ট -প্যান্ট মায়ের কাছে ধোয়ার জন্য দিলে সেই টিকিট চলে যেত মায়ের হাতে। আর সেই টিকিট দেখে মেয়েরা কতইনা বকা-জকা করতো। স্কুল, কলেজ ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখা!

এসব আজ আর হয়না,ঠাকুরগাঁও জেলার  সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় এ জেলা উপজেলা মিলে প্রায় ৮ টি সিনেমা হল ছিল। বর্তমানে জেলার প্রাণকেন্দ্রে একটি মাত্র চলে তাও মাঝে মধ্যে এখন সেটিও আবার গোডাউন।

ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলো এখন গোডাউনে পরিনত হয়েছে। এতেই পরিষ্কার এই জেলার সিনেমার অবস্থা। যে একটি সিনেমা হল রয়েছে সেটা চালাতে হিমশিম খেতে হয় মালিক পক্ষের। নেই দর্শক, তৈরি হয়না উত্তেজনা, হয়না আগের মতো লোক সমাগম। হলের চেয়ার ফাঁকা, প্রযোজক পাচ্ছে তার লগ্নির টাকা ফেরত, অনেক প্রযোজক আর আসেনা এই শিল্পে ব্যবসা করতে। দিনদিন চলচ্চিত্র শিল্প হারাচ্ছে তার ঐহিত্য আর সিনেমা হল হচ্ছে গোডাউন,মার্কেট।

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।