খুঁজুন
শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাসিকর্ন ব্যাংকে পাপিয়ার চার কোটি টাকার সন্ধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
কাসিকর্ন ব্যাংকে পাপিয়ার চার কোটি টাকার সন্ধান

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া রাজধানীর একাধিক পাঁচতারকা হোটেলে রেখে নারীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা ও বিত্তশালীদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে । এছাড়া অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে তিনি বিদেশে নিয়ে যান। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ‘কাসিকর্ন’ ব্যাংকের একটি শাখায় তার অন্তত ৪ কোটি টাকা রয়েছে।

২০১৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তিনি ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেন। ব্ল্যাক মেইলিং, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, তদবির, চাঁদাবাজির ভাগ নেয়াসহ অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড করে ওই টাকা তিনি অর্জন করেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেছেন। তবে এ পর্যন্ত দেশের কোন ব্যাংকে রাখা তার বড় অংকের অর্থের কোন তথ্য মিলেনি জিজ্ঞাসাবাদে। টাকা পাচারে মতিঝিলের এক হুন্ডি ব্যবসায়ীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ওই টাকা উদ্ধারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

তার বিরুদ্ধে যে মানি লন্ডারিং মামলা রয়েছে সেই মামলার আওতায় ওই টাকা পাচারের বিষয়টি তদন্ত চলছে। প্রত্যেক মাসে পাপিয়া তার দলবল নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে যেতেন ব্যাংককে। ব্যাংককের ‘পাকরেট’এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ২২শে ফেব্রুয়ারি রাতে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া ও তার স্বামীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। রাজধানীর দুই থানায় তার নামে ৩ টি মামলা হয়েছে। ওই তিন মামলায় আদালত তাদের ১৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

মামলাটি বর্তমান তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, ‘পাপিয়া র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ব্যাংকে টাকা পাচার করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এটা তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি।’

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়া থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইউক্রেন, রাশিয়া, চায়না, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ অন্তত ১২ টি দেশে ঘুরতে গেছেন। তবে বেশি যাতায়াত করতেন ব্যাংককে। ব্যাংককে গেলে দুই সপ্তাহ ধরে থাকতেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কাছাকাছি থাকা ‘পাকরেট’ এলাকায় চুক্তিভিত্তিক ভাড়া করা বাসায় তিনি থাকতেন। চুক্তিতে ১৫ দিন ওই ফ্ল্যাটে থাকতে হলে তাকে দেয়া লাগতো বাংলাদেশী টাকাই প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বাংলাদেশের ব্যাংকে কোন টাকা নেই বলে জানিয়েছেন। বিদেশের ব্যাংকে কোন টাকা নেই বলে তিনি দাবি করলেও এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন,‘ তার থাইল্যান্ডের একটি ব্যাংকে টাকা রয়েছে। ওই টাকা তিনি দেশ থেকে পাচার করেছেন।

সূত্র জানায়, পাপিয়া তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানান যে, তাকে প্রায় সময় থাইল্যান্ডে যেতে হতো। সেখানে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সহজ করা ও তার অবৈধ অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টির চিন্তা থেকেই তিনি ওই দেশের ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন।

হুন্ডির মাধ্যমে পাপিয়ার দেশ থেকে টাকা পাচারের বিষয়টি দেখভাল করতেন তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সাব্বির খন্দকার। তিনি বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন। পাপিয়া যতোবার থাইল্যান্ডে গেছেন তার সঙ্গি হয়েছিলেন সাব্বির খন্দকার।

রাশিয়ান মডেলদের মাধ্যমে অর্থপাচার: এদিকে পাপিয়ার অর্থ পাচারের বিস্তর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অবৈধভাবে কামানো টাকা থেকে পাপিয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে এমন তথ্য এখন সিআইডির বিশেষ তদন্ত ও গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাদের হাতে। রাশিয়া ও থাই মডেলদের মাধ্যমে পাপিয়া বিদেশে বিপুল পরিমান অর্থ পাচার করেছেন। এর বাইরে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন পাপিয়া। প্রাথমিকভাবে তার সত্যতা পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আরো ব্যাপক তথ্য প্রমান সংগ্রহের কাজ চলছে। আরো কিছু তথ্য প্রমান পেলেই শিগগির মানিলন্ডারিং আইনে সিআইডি বাদী হয়ে পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবে। সিআইডি ছাড়া পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ ফিনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দুদক পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়ে তদন্তে মাঠে নেমেছে। দুদকের পক্ষ থেকে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও হোটেল ওয়েস্টিনে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিএফআইইউ পাপিয়ার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, লেনদেন টাকা হস্তান্তর নিয়ে কাজ করছে।

সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, পাপিয়া গ্রেপ্তারের পরপরই অর্থ পাচারের বিষয়টি সামনে এসেছে। সতত্য যাচাই করতে সিআইডি খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে। তারপর অর্থ পাচারের নানা তথ্য পাওয়া যায়। শুধু পাপিয়া নয় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তাদের বিষয়েও খোঁজ নিচ্ছে সিআইডি। অনুসন্ধানে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের দেশের বাইরে ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে। অনৈতিক কাজের জন্য বিভিন্ন সময় দেশের বাইরে থেকে মডেলদের নিয়ে আসতেন। পরে পাপিয়া বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে বিদেশী মডেল সরবরাহ করে বড় অংকের টাকা নিতো। আবার ওই মডেলদের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছে। বিদেশী মডেলদের মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিষয়টি যাচাই করার জন্য সিআইডি কর্মকর্তারা হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছেন। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পাপিয়ার ঘনিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি।

সিআইডির বিশেষ তদন্ত ও গোয়েন্দা শাখার ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহ থেকে আমরা পাপিয়ার অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্ত করছি। ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব নিকাষ সংগ্রহ করেছি। আরো কিছু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে তার যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবো। তার পরেই সিআইডি বাদী হয়ে পাপিয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা করবে।

কোন কোন দেশে অর্থ পাচার করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু কিছু দেশের তথ্য আমরা পেয়েছি। এখন তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি সঠিক কিনা। যদি সঠিক হয় তবে আমরা অ্যাকশনে যাবো। বিদেশী মডেলদের দিয়ে পাপিয়া অর্থ পাচার করেন এমন তথ্যের সত্যতা জানতে চাইলে সিআইডির অগ্রানাইজড ক্রাইমের এই ডিআইজি বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি। এখন নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। এছাড়া পাপিয়ার কাছের মানুষ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য চেয়েছি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, পাপিয়ার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন অভিযোগ আমরা যাচাই করে দেখছি।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। বাকিরা হলেন, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)। এরপর রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব।

অভিযানে ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।।এরপর তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়।

Feb2

হাদি হত্যার তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যার তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত পরিচালনার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এরইমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

হাদি সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
হাদি সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শরিফ ওসমান হাদি সমর্থকরা নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে নগরের দুই নম্বর গেট মোড়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আন্দোলনের কারণে মুরাদপুর থেকে জিইসি যাওয়ার পথে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই নম্বর গেইট থেকে মেডিকেল সড়ক, বায়েজিদ সংযোগ সড়কেও যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘জাবের ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের হাতে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়েছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক আছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নগরের আগ্রাবাদ থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত এই র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন। বক্তব্যে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের শাসনামলে হত্যাকাণ্ডের শিকার ছাত্রশিবিরের চারজন নেতাকর্মী ইমরান খান রাজীব, আবিদ বিন ইসলাম, সাকিবুল ইসলাম এবং ফয়সাল আহমেদ শান্তকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হলেও ছাত্রশিবির তার আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়নি। শিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের ছাত্রসমাজের নৈতিকতা, আদর্শিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। একটি আদর্শিক, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠনে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি অতীতের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠনের টিকে থাকা ও কার্যক্রম পরিচালনার ধারাবাহিকতার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সামনে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশ, জাতি ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

র‍্যালিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালি, মহানগর দক্ষিণ শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি কেফায়েত উল্লাহ ও মু. শহীদুল ইসলাম এবং সাবেক সেক্রেটারি মোহাম্মাদ ইকবাল।