নড়বড়ে আবাসিক হলে ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে চবি শিক্ষার্থীরা
মেহেদী হাসান, চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আবাসিক হলগুলোতে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। অনেকদিন ধরে আবাসিক হলের সংস্কার না করাই জরাজীর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে হলগুলোতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই হলের ছাদ থেকে খসে পড়ে পলেস্তারা। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। তাই কক্ষে বা বারান্দায় চলাচল করতে গেলে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেকদিন ধরে হলগুলোর সংস্কার না করাই এমন জরাজীর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যার কথা একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি হলের ছাদে দেখা দিয়েছে অনেক বড় বড় ফাটল। ফাটলের মধ্যে দিয়ে বের হয়ে আছে মরিচাধরা রড। যা ভেঙে যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে ছাদ।
আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইব্রাহীম সাগর বলেন, হলের বারান্দা দিয়ে চলাচল করতে অনেক বেশি ভয় করে। আমরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছি। হলের অবকাঠামোগত এসব ত্রুটি সংস্কারের মাধ্যমে দূর করতে আমরা বারবার হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোনো উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়েনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হলগুলো যে নকশার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে সেই নকশার হল আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। এসব হল যেসব দেশে বৃষ্টি কম হয় সেই দেশের জন্য প্রযোজ্য। কারণ আমাদের দেশে যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। সেই কারণে অতি তাড়াতাড়ি হলের স্থায়িত্ব কমে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ হোসেন বলেন, আমরা হলের সংস্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে বাজেট বরাদ্দ চেয়েছি। ইউজিসি থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বাজেট থেকে বরাদ্দ নিয়ে আমরা আবসিক হলের গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্যাগুলো আছে তা সংস্কার করছি। আশা করছি এই সংস্কারের মাধ্যমে এই হলগুলোতে ঝুঁকি কমে আসবে।
আবাসিক হলগুলোর মধ্যে শাহজালাল, আলাওল ও স্যার এ এফ রহমান হলের অবস্থা অত্যাধিক শোচনীয়। অন্যান্য হলগুলোতেও রয়েছে নানবিধ সমস্যা। আবাসিক হল ভবনের প্রত্যেকটি তলায় ধরে আছে ফাটল। ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে পলেস্তারা। পানি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে ওয়াশরুমের পাশে কোনো কোনো রুম পড়ে আছে পরিত্যক্ত হয়ে। অনেক রুমের রয়েছে ভাঙা জানালা। বৃষ্টি হলেই অনেক রুমের ছাদ ও দেওয়াল বেয়ে পানি পড়ে। শৌচাগার ও গোসলখানাতে ঠিকমতো পানি থাকে না বলেও অভিযোগ একাধিক শিক্ষার্থীর।
স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানজিল হৃদয় বলেন, আবাসিক হল গুলোতে শৌচাগারের অবস্থা খুবই বাজে এবং অস্বাস্থ্যকর। সপ্তাহে প্রতিদিন এগুলো পরিষ্কার করার জন্য মানুষ নিয়োগ দেওয়া থাকলেও সপ্তাহে সর্বসাকুল্যে ২-৩ বার তা পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া গোসলখানার ট্যাপ, ঝর্ণা বেশিরভাগই অকেজো। অনেকসময় ট্যাপ খুলে গিয়ে অনেক পানি অপচয় হয়।
তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে রয়েছে পাঠাগার। ঠিকমতো পরিচালনা না করার কারণে ছাত্র শূণ্য থাকে পাঠাগার। হলের আশেপাশের পরিবেশ থাকে অপরিষ্কার। এছাড়া রয়েছে খেলাধুলার সামগ্রীর স্বল্পতাসহ নানান সমস্যা। শিক্ষার্থীদের দাবি, অতি সত্বর যেন এসকল সমস্যার সমাধান করা হয় এবং হলগুলো একেবারে থাকার অনুপযোগী হওয়ার আগে নতুন হল নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, এই মূহুর্তে বাজেট ঘাটতি আছে। আপাতত পানির সমস্যার সমাধান করছি। এইকাজ শেষ হলে পুনরায় বাজেট বরাদ্দ চাইব। তিনি আরও বলেন, ছাদের যেখানে যেখানে ফাটল ধরে পলেস্তারা আলগা হয়ে গেছে সেগুলো শ্রমিক নিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বাজেট বরাদ্দ হলে পুনরায় ছাদে পলেস্তারা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন