খুঁজুন
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীদের প্রতি এনআরবি’র চেয়ারপারসন সেকিল চৌধুরীর চিঠি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসীদের প্রতি এনআরবি’র চেয়ারপারসন সেকিল চৌধুরীর চিঠি

আরব আমিরাত প্রতিনিধি : করোনা পরিস্থিতিতে দুর্বিপাকে পড়া প্রায় সোয়া কোটি প্রবাসীর প্রতি সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী কিছু অনুরোধ, আহ্বান এবং আবদার করে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। যার সূচনাতে সবার প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অকল্পনীয় করোনা সঙ্কট ব্যাখ্যা করেন। বলেন, এটা নিশ্চিত যে আপনারা এক কঠিন সময় পার করছেন। গোটা জাতি, দেশ ও বিশ্ব আজ অভিন্ন অবস্থার মুখোমুখি।

বিদেশে আপনারা চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। কারো আপনজন দেশে, নিজে বিদেশে, এ এক অসহনীয় অবস্থা। বহু দেশে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনারা অনেকে আর্থিক কষ্টে রয়েছেন, দৈনন্দিন জীবন-যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় প্রবাসী ও দেশের অর্থনীতির জন্য করণীয় কি এ নিয়ে আমরা গত ২দিন বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ মানুষ ও প্রবাসীসহ শ’দুয়েক মানুষের সাথে এক টেলি-কনফারেন্সের আয়োজন করি যাতে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, চিকিৎসক ও সমাজসেবীরা যোগদান করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের প্রতি প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করেন এবং বিপদের সময় তাদের পাশে থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনায় প্রবাসী ও দেশের অর্থনীতি বিষয়ে উঠে আসা প্রস্তাবগুলি আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা নিয়েছি।

বিশ্ব পরিস্থিতি বিশেষ করে চীন, ইতালি, ইউরোপ, বৃটেন ও আমেরিকার অবস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জীবন বাঁচানোর জন্য কতিপয় অবশ্য পালনীয় বিষয় আপনাদের নজরে আনতে চাই যা আপনি, আপনার পরিবার, প্রতিবেশী ও দেশের কল্যাণে সহায়ক হবে।

১. আপনারা যারা ইতিমধ্যে দেশে এসে গেছেন তারা স্থানীয় প্রশাসনকে আপনাদের অবস্থান সম্পর্কে জানান, অন্যথায় বিপদকালীন সময়ে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।

অবশ্যই ১৪ দিন পর্যন্ত অন্য সবার থেকে আলাদা থাকুন এবং রোগের লক্ষণ অনুভব করলে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিজেকে পরীক্ষা করান। মনে রাখবেন দেশের সাধ্য ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং চিকিৎসা সরঞ্জামও সর্বত্র সহজলভ্য নয়। বিশ্বব্যাপী বহু উন্নত দেশও এ চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

২. যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তারা সেখানেই নিরাপদে থাকুন, এই মুহুর্তে দেশে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাংলাদেশের মত দেশে খুবই কঠিন। তাছাড়া আপনাদের কেউ আক্রান্ত থাকলে আপনাদের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হবেন এবং ক্রমে এ রোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
৩. প্রবাসে কর্মস্থলে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করুন এবং একে অন্যকে সাধ্যমত সহযোগিতা করুন। আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবন যাপনে পরষ্পর নিরাপদ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করুন। অবস্থানকারী দেশের আইন ও ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলুন।

৪. জরুরী প্রয়োজনে মিশনের সাথে নিরাপদ মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন। মনে রাখবেন বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাসহ কেউই স্বাস্থ্য ঝুঁকির বাইরে নয়।

৫. বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হলে আবশ্যই মিশনের সাথে যোগাযোগ করুন এবং জরুরি প্রয়োজনে দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

৬. প্রবাসী সাংবাদিক ভাইবোনদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, সর্তকতার সাথে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য পরিবেশন করে প্রবাসী ও দেশবাসীকে সহায়তা করুন। রোগ-প্রতিরোধে জনমত গঠন করুন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আপনাদের অবদান খুবই মূল্যবান। সরকার ও রাষ্ট্রের দোষ-গুণ বিচারের সময় এটি নয়। জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে সকলকে একসাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। সরকার বা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি ও দুর্বলতাগুলো সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরে আনুন। প্রবাস থেকে যারা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রচার করছেন তাদেরকে অনুরোধ করছি, খেয়াল রাখবেন যাতে জনমনে অহেতুক ভীতি সৃষ্টি না হয়।

৭. প্রবাসী বন্ধুরা, বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং পরবর্তী সময়ে আপনাদের জন্য কি কি আর্থিক ও কর্মসহায়ক পরিকল্পনা নেয়া যায় তা নিয়ে আমরা আমাদের সীমিত কার্যক্ষমতা ও পরিধির মধ্যে থেকে সরকারের সাথে ও বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ রাখছি যাতে কার্যকর একটি পন্থা বের করা যায়। এ ব্যাপারে আপনারাও আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করে এ কাজে সহায়তা করতে পারেন। দেশের সম্পদ, সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কাঠামো ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আমরা একটি পন্থা বের করতে চাই যাতে প্রবাসীরা এবং সর্বোপরি আমাদের দেশ উপকৃত হয় এবং নিরাপদ থাকে।

Feb2

দুবাইতে উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
দুবাইতে উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠান দুবাই ইন্টারন্যাশনাল সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে 

শুক্রবার (২৯ মে) বাদে মাগরিব মহিউদ্দিন মাহফুজ এর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ রফিক উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ ওসমান আলী সি আই পি।

বক্তব্য রাখেন প্রবাসী পরিষদের সভাপতি ইয়াহিয়া খান, প্রবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ। অন্যান্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন- মৌলানা মনছুর, ইলিয়াস রেজা, সাংবাদিক এম আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ আসলাম, মোহাম্মদ বেলাল, মাওলানা আলী রেজা, মোহাম্মদ বখতেয়ার, শফিক সিকদার, মোহাম্মদ ফিরোজ, মোহাম্মদ আজম খান, ইকবাল সেলিম, মোঃ ইলিয়াস আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা এলাকার সার্বিক কল্যাণে সকলকে আরো এগিয়ে আসার আহবান জানান। পরিশেষে দেশ, জাতি, প্রবাসী ও এলাকাবাসীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গেল ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দেখেছে যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযোগী না। তদন্ত কমিটি পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষনম্বর-২ পরিদর্শন করেছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে, কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকায় ও স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে। পাশাপাশি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সব সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাতে প্রমাণ পেয়েছে যে সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

‘নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতির অবস্থায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেনি। বরং কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং নবজাতকের মৃত্যুরোধের উপযুক্ত যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি’—বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কক্ষটি ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পেয়েছে, তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড দুইয়ে রোগীদের দেখাশোনার কোনো চিকিৎসক ছিল না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কক্ষটিতে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে অনেক রোগী আছে। আমরা সেটা বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে, আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জি সিং নামে এক আইনজীবী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, জনসমাবেশ এবং গণমাধ্যমের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।

অভিযোগে সিং দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি (মমতা ব্যানার্জি) ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক ও উগ্র মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে করা মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন রানি রাসমণি স্মরণে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত দাবি করেন— ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গোপন আলোচনা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ তোলেন। এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে জনগণ ও গণমাধ্যমের সামনে করা হয়েছিল, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা।

মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া মমতার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগকারী রিংকি চ্যাটার্জি সিং দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বিদেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে এক সপ্তাহ আগে কলকাতায় একটি ঈদ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করা হয়। সেখানে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় করা সর্বশেষ অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার সমাবেশে সেই বক্তব্যে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভোল্যুশন’ হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।’