খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা নিয়ে আমরা কতটুকু সর্তক!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
করোনা নিয়ে আমরা কতটুকু সর্তক!

তাসফিক আব্দুল্লাহ চৌধুরী : কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব প্রথম চীনে দেখা গেলেও এটি এখন বিশ্ব মহামারিতে পরিণত হয়েছে চোখের পলকেই । কখন সমাপ্তি ঘটবে এই গুমোর বাধা পরিবেশের! সবার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে কোভিড় -১৯ বা করোনাভাইরাস। করোনা ভাইরাস সাধারণত পশু পাখির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। হঠাৎ করেই যে এই ভাইরাস মানুষের মাঝে দেখা দিতে শুরু করবে কে বলতে পারে। চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আজ থেকে প্রায় ৮৫ দিন আগে এই করোনা ভাইরাসের কথা জানিয়েছিল। আর এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পৃথিবীর উপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেলো। চীনের উহান প্রদেশে এটি প্রথম দেখা গেলেও বিশ্বের প্রায় ১৯৬ টিরও বেশি দেশ এর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিউনের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি, স্পেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানতে পারে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে মানুষ অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সপ্তাহখানেক পর প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর ক্রমেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি হিসেবে ঘোষনা করে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ৩০০০ এর বেশি, ইতালিতে প্রায় ১৫০০ জন, স্পেনেও সমান সংখ্যক লোক এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা লক্ষ পৌছেঁ গেছে । এর প্রভাবে ব্যবসা- বাণিজ্য, অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান থেকে শুরু করে সমাজের কোন কিছুই বাদ যায় নি।

গবেষকরা দিনরাত এক করে কাজ করছে এর প্রতিষেধক তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে আশার খবর শুনিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক করোনা ভাইরাসের টিকা আলফা ডি টু আবিষ্কার করেছে বলে দাবি করেছেন।

বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস তার জাল বিস্তার করা শুরু করেছে। ইতমধ্যে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পত্র- পত্রিকা পড়ে আমরা জানতে পেরেছি।

আইইডিসিআর এর ভাষ্যমতে, বাংলাদেশে এপযর্ন্ত ৩৯ জন করোনা রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ সরকার এর মাঝে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি চলমান থাকলে কয়েক লক্ষ মানুষ এর প্রভাবে মৃত্যুবরণ করবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র প্রতিসেধক হলো সচেতনতা। এই মুর্হুত্বে সচেতনতায় হলো আমাদের একমাত্র অস্ত্র করোনা মোকাবেলায়।

বিভিন্ন সংস্থা করোনা মোকাবেলা করতে সাধারণ মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ধরনের প্রচার পত্রের মাধ্যমে তারা এই কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় হোম কোয়ারান্টাইনের কোন বিকল্প নেই।

জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, দুই হাত সাবান বা সেনিটািজার দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। মানুস থেকে মানুষের দূরত্ব হবে তিন ফিট। প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসলে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার দিকে তাঁরা জোর দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। তাদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় অতিমাত্রায়। তারা মনে করেন, ‘আল্লাহ এই রোগ দিয়েছে আল্লহই আমাদের রক্ষা করবে। এসব সচেতনতার কি প্রয়োজন!’

যেদেশে একটা মাস্ক বেশি দামে বিক্রি হয়, জীবাণু নাশক সামগ্রীর অভাব দেখা দেয় সেই দেশ কতটুকু এর মোকাবেলা করতে পারবে তা সময়ই বলে দিবে। হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা লোকগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে ইচ্ছে মতো, কেউ আবার স্বপ্নের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রতিসেধক আবিষ্কার করে ফেলে, করোনা মোকাবেলায় স্কুল কলেজ বন্ধ দিলে পর্যটন স্থানগুলোতে লোকের ভিড় বেড়ে যায়। সারাবিশ্ব যেখানে করোনা ভয়ে কাপঁছে সেখানে আমরা এটাকে হালকা ভাবে নিয়ে চরম মুল্য দিতে হবে না তো? জাতি হিসেবে আমরা কতটুকু সচেতন সেই প্রশ্নটায় বার বার উঠে আসছে।

আমাদের দেশের রেল স্টেশন, পাবলিক যানবাহন গুলো জীবাণু নাশক স্প্রে করা অতিব জরুরি। পর্যটন স্থানগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত অতি দ্রুত। জীবাণু নাশক সামগ্রী, সাবান, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম যেন বৃদ্ধি না পায় তারজন্য বাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হবে। অলি-গলিতে মাইকিং করা উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য।

আমরা হয়তো হংকং, তাইওয়ানের মতো যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারব না। কানাডার মতো সকল মানুষের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান দিতে পারব না ঠিক কিন্তু আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে পারি। নিজে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি।

আমাদের নিজের দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে। তবে আশা জাগানিয়া খবর হচ্ছে, দেশের কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মেধাবী ফার্মেসিষ্ট হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করে সচেতনতা সৃষ্টি করছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার কিট তৈরি করা শুরু করেছে এবং সরকার তাদের সহযোগিতা করার কথা ব্যক্ত করেছেন।

এই মহামারি মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এক হলে জয়, একা হলে পরাজয়।

তাসফিক আব্দুল্লাহ চৌধুরী
ইংরেজি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

Feb2

চট্টগ্রামে ওয়াসার লাইন খননের সময় মাটি চাপায় নিহত ২ শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে ওয়াসার লাইন খননের সময় মাটি চাপায় নিহত ২ শ্রমিক

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন খননের সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ২ শ্রমিক হলেন রাকিব ও তুষার। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আহতরা হলেন- সাগর ও এরশাদ।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিনা হাইড্রো কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোডসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার সুয়ারেজ পাইপলাইন খনন করছে। গতকাল রাতে খননের সময় একটি স্থানে ৪ শ্রমিক গর্তে পড়ে মাটি চাপা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ও স্থানীয় মানুষ প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ ঘটনায় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগে উত্তেজিত শ্রমিকরা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা যায়। এসময় জরুরি বিভাগের কাচ ও আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার জেরে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে ওয়াসার পানির পাইপ বসানোর জন্য মাটি কাটার সময় চারজন শ্রমিক মাটি চাপা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্যুয়ারেজ প্রকল্পের ট্রায়াল পিট করার কাজ চলছিল। গভীর রাতে কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত ও দুজন আহত হয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রোর কাজটি করছে। তাদের কাছে এক্সিডেন্ট রিপোর্ট চেয়েছি।’

নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা কথা বলছি। যদিও মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম জানান, চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত দুজন ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মানবিক ডিসির গণশুনানি ধীরে ধীরে গণপ্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসির গণশুনানি ধীরে ধীরে গণপ্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নিয়মিত গণশুনানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। অসহায়, দরিদ্র ও বিপর্যস্ত মানুষ তাদের শেষ আশ্রয় হিসেবে ভিড় জমাচ্ছেন এই গণশুনানীতে—যেখানে অভিযোগ শুধু শোনা হয় না, তাৎক্ষণিক সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

মাত্র ১৫ দিনের কোলের শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সুরাইয়া বেগম হাজির হন এই গণশুনানীতে। জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় দিশেহারা এই নারী সন্তানের চিকিৎসা ও লালন-পালনের জন্য সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে এ দৃশ্য উপস্থিত সবার মনে গভীর মানবিক আবেদন সৃষ্টি করে।

একইভাবে আকবরশাহ থানার ফিরোজশাহ কলোনীর বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার, যিনি কিডনি ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, তিনিও পান সহায়তা। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী শারীরিক দুর্বলতার কারণে গার্মেন্টসের চাকরি হারিয়েছেন। দুই শিশু সন্তান—জিহাদুল ইসলাম ও আরাফাত ইসলামকে নিয়ে তার জীবনযাপন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তার আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা আনার আশ্বাস দেন।

বন্দর এলাকার মোছাম্মৎ লাইজু বেগমও এসেছিলেন সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইতে। তার স্বামী দিনমজুর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর মধ্যেই ছোট সন্তানটির চোখের দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় আবারও চিকিৎসার আশা দেখছেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীর নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চর্মরোগে ভুগছেন। স্বামী বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালালেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। গণশুনানীতে আবেদন জানালে তাকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মিরেরশ্বরাই উপজেলার রেমন্ডু ফিলিপ রায় গুরুতর অসুস্থতায় একটি পা হারিয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তার একমাত্র সন্তান দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় থাকা এই ব্যক্তি সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, সন্তানের পড়াশোনার খোঁজও নেন।

এছাড়াও সহায়তা পেয়েছেন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বিধবা মাছুমা, হৃদরোগে আক্রান্ত বাঁশখালীর মাবিয়া খাতুন, স্বামীহারা ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাহার, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য আবেদনকারী আর্জিনা আক্তার এবং চট্টগ্রাম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যার আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

গণশুনানীতে আসা আবেদনকারীরা জানান, জেলা প্রশাসক তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বুধবার আয়োজিত এই গণশুনানীতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আগত সেবাপ্রত্যাশীদের আবেদন, অভাব ও অভিযোগ শোনা হয়। সর্বশেষ আজকের গণশুনানীতে ৭৪ জন সেবাপ্রত্যাশীর সমস্যা শোনা হয় এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় অসুস্থ ৯ জন ব্যক্তি ও ১ জন শিক্ষার্থীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪৮ জন দুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়া গুঁড়া সম্বলিত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া কিছু আবেদন ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সেবাপ্রত্যাশীদের জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গণশুনানি কার্যক্রম এখন শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়—এটি ধীরে ধীরে মানুষের প্রত্যাশা ও নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে একজন মানবিক জেলা প্রশাসকের স্পর্শে বদলে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন।

‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আজ (বুধবার) সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।