খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা নিয়ে আমরা কতটুকু সর্তক!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
করোনা নিয়ে আমরা কতটুকু সর্তক!

তাসফিক আব্দুল্লাহ চৌধুরী : কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব প্রথম চীনে দেখা গেলেও এটি এখন বিশ্ব মহামারিতে পরিণত হয়েছে চোখের পলকেই । কখন সমাপ্তি ঘটবে এই গুমোর বাধা পরিবেশের! সবার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে কোভিড় -১৯ বা করোনাভাইরাস। করোনা ভাইরাস সাধারণত পশু পাখির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। হঠাৎ করেই যে এই ভাইরাস মানুষের মাঝে দেখা দিতে শুরু করবে কে বলতে পারে। চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আজ থেকে প্রায় ৮৫ দিন আগে এই করোনা ভাইরাসের কথা জানিয়েছিল। আর এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পৃথিবীর উপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেলো। চীনের উহান প্রদেশে এটি প্রথম দেখা গেলেও বিশ্বের প্রায় ১৯৬ টিরও বেশি দেশ এর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিউনের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি, স্পেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানতে পারে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে মানুষ অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সপ্তাহখানেক পর প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর ক্রমেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি হিসেবে ঘোষনা করে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ৩০০০ এর বেশি, ইতালিতে প্রায় ১৫০০ জন, স্পেনেও সমান সংখ্যক লোক এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা লক্ষ পৌছেঁ গেছে । এর প্রভাবে ব্যবসা- বাণিজ্য, অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান থেকে শুরু করে সমাজের কোন কিছুই বাদ যায় নি।

গবেষকরা দিনরাত এক করে কাজ করছে এর প্রতিষেধক তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে আশার খবর শুনিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক করোনা ভাইরাসের টিকা আলফা ডি টু আবিষ্কার করেছে বলে দাবি করেছেন।

বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস তার জাল বিস্তার করা শুরু করেছে। ইতমধ্যে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পত্র- পত্রিকা পড়ে আমরা জানতে পেরেছি।

আইইডিসিআর এর ভাষ্যমতে, বাংলাদেশে এপযর্ন্ত ৩৯ জন করোনা রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ সরকার এর মাঝে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি চলমান থাকলে কয়েক লক্ষ মানুষ এর প্রভাবে মৃত্যুবরণ করবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র প্রতিসেধক হলো সচেতনতা। এই মুর্হুত্বে সচেতনতায় হলো আমাদের একমাত্র অস্ত্র করোনা মোকাবেলায়।

বিভিন্ন সংস্থা করোনা মোকাবেলা করতে সাধারণ মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ধরনের প্রচার পত্রের মাধ্যমে তারা এই কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় হোম কোয়ারান্টাইনের কোন বিকল্প নেই।

জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, দুই হাত সাবান বা সেনিটািজার দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। মানুস থেকে মানুষের দূরত্ব হবে তিন ফিট। প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসলে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার দিকে তাঁরা জোর দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। তাদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় অতিমাত্রায়। তারা মনে করেন, ‘আল্লাহ এই রোগ দিয়েছে আল্লহই আমাদের রক্ষা করবে। এসব সচেতনতার কি প্রয়োজন!’

যেদেশে একটা মাস্ক বেশি দামে বিক্রি হয়, জীবাণু নাশক সামগ্রীর অভাব দেখা দেয় সেই দেশ কতটুকু এর মোকাবেলা করতে পারবে তা সময়ই বলে দিবে। হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা লোকগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে ইচ্ছে মতো, কেউ আবার স্বপ্নের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রতিসেধক আবিষ্কার করে ফেলে, করোনা মোকাবেলায় স্কুল কলেজ বন্ধ দিলে পর্যটন স্থানগুলোতে লোকের ভিড় বেড়ে যায়। সারাবিশ্ব যেখানে করোনা ভয়ে কাপঁছে সেখানে আমরা এটাকে হালকা ভাবে নিয়ে চরম মুল্য দিতে হবে না তো? জাতি হিসেবে আমরা কতটুকু সচেতন সেই প্রশ্নটায় বার বার উঠে আসছে।

আমাদের দেশের রেল স্টেশন, পাবলিক যানবাহন গুলো জীবাণু নাশক স্প্রে করা অতিব জরুরি। পর্যটন স্থানগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত অতি দ্রুত। জীবাণু নাশক সামগ্রী, সাবান, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম যেন বৃদ্ধি না পায় তারজন্য বাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হবে। অলি-গলিতে মাইকিং করা উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য।

আমরা হয়তো হংকং, তাইওয়ানের মতো যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারব না। কানাডার মতো সকল মানুষের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান দিতে পারব না ঠিক কিন্তু আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে পারি। নিজে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি।

আমাদের নিজের দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে। তবে আশা জাগানিয়া খবর হচ্ছে, দেশের কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মেধাবী ফার্মেসিষ্ট হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করে সচেতনতা সৃষ্টি করছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার কিট তৈরি করা শুরু করেছে এবং সরকার তাদের সহযোগিতা করার কথা ব্যক্ত করেছেন।

এই মহামারি মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এক হলে জয়, একা হলে পরাজয়।

তাসফিক আব্দুল্লাহ চৌধুরী
ইংরেজি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

Feb2

বিবেককে জাগ্রত না করলে মানবিক বাংলাদেশ অসম্ভব: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
বিবেককে জাগ্রত না করলে মানবিক বাংলাদেশ অসম্ভব: ডিসি জাহিদ

নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের বিবেক, মানবিকতা ও মূল্যবোধের জাগরণ। কেবল শিক্ষক, কর্মকর্তা বা অভিভাবক হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই যুগে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধেই নিহিত।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শনিবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্কাউটিংয়ের ভূমিকা” শীর্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সমাজে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মধ্যে ছুটছে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে আমরা নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হারিয়ে ফেলছি। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদ-পদবি নয়, তার মানবিক সত্তা।

তিনি বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে, চাঁদের যদি আলো না থাকে, সমুদ্রের যদি গর্জন না থাকে, তাহলে যেমন তাদের মূল্য থাকে না, তেমনি মানুষের যদি মানবিকতা না থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে তারও কোনো মূল্য থাকে না।”

রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েলের স্কাউট আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান মানুষ তৈরির লক্ষ্য থেকেই স্কাউটিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজও সেই দর্শন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আইনস্টাইনের একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী খারাপ মানুষের কারণে নয়, বরং ভালো মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক বা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভাবি, মানুষ হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে? মানুষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সনদ বা ডিগ্রি অর্জন নয়; বরং বড়দের সম্মান করা, ছোটদের ভালোবাসা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু বই থেকে শিক্ষা নেয় না; তারা তাদের শিক্ষকদের জীবনাচরণও অনুসরণ করে। আমরা কি আমাদের সন্তানদের সামনে এমন একজন মানুষকে দাঁড় করাতে পারি, যাকে দেখে বলতে পারব—তুমি তাঁর মতো হও?”

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ দেশের মানুষ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের কোনো বড় খনিজ সম্পদ নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ এই দেশের মানুষ। ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতই বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি।” এই মানবসম্পদকে দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিকভাবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেধা পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বহু মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের মেধা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে উৎসাহিত হবে।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে প্রযুক্তি একসময় মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির তথ্য মানুষের সাক্ষ্যের চেয়েও বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় মানুষের বিবেক, সততা ও নৈতিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে না চাইলে আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবতায়, তার মূল্যবোধে এবং তার দায়িত্ববোধে।”

মাদক ও সামাজিক অপরাধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ করে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সামাজিক প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ছাড়া মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে সৎভাবে কাজ করি, মানবিকতা ও বিবেককে জাগ্রত করি, তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমদ।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলার সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন।

অনুষ্ঠান শেষে স্কাউটিংয়ে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি স্কাউট গ্রুপ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা এবং আলহাজ্ব এয়াকুব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

রাউজানের দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা মাসুদ নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
রাউজানের দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা মাসুদ নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের বানিজ্যিক এলাকা চৌমুহনী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত খালেদ চৌধুরীর পুত্র।

স্থানীয়দের ধারণা, কর্ণফুলি নদীর বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এছাড়া তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিজ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম। এ সময় রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এই ঘটনায় যেই বা যারা জড়িত থাকুক তদন্তপূর্বক জড়িততের আইনের আওতায় নিয়ে এসে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। অপরাধীরা বিন্দুমাত্রও ছাড় পাবেনা। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্য বলেন, পুলিশী তদন্ত চলছে। একটু সময় দিতে হবে। আপনারা সহযোগিতা করলে খুব দ্রুত অপরাধীদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

বিরোধীদলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
বিরোধীদলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সামাজিক, মানবিক বাজেট দেওয়ার পরেও একটি খবরে দেখলাম মানুষের ক্ষতিকারক দিকগুলোর বিষয়ে দাম বাড়ানো হয় এই বাজেটে। এই কারণে এ বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবারের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন? লক্ষ্য বুঝতে পেরেছেন? তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, তাদের লক্ষ্য একটাই। সেটা হচ্ছে দেশের পথে অশান্তি তৈরি করা। মানুষকে বিভ্রান্ত করা।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব—এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

এ সময় তারেক রহমান জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।

প্রসঙ্গত, পাতলী খালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন তিনি। পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিয়াউর রহমান নিজে কক্সবাজারে এসে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তারই ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ। এতে বক্তব্য দেন— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।