খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা বিদ্ধ সময় : খালেদা মুক্ত, ইতিহাস গড়লেন মুজিবকন্যা-রিয়াজ হায়দার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০২ অপরাহ্ণ
করোনা বিদ্ধ সময় : খালেদা মুক্ত, ইতিহাস গড়লেন মুজিবকন্যা-রিয়াজ হায়দার

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। রিয়াজ হায়দার চৌধুরী : সারা বিশ্বের আতঙ্ক-যন্ত্রণা-উদ্বেগের রঙ হয়ে গেল এক’ই। পারমাণবিক কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের কোন যুদ্ধ নয়, রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে অণুজীবের যুদ্ধ চালাচ্ছে যেন প্রকৃতি। তাই বিশ্ববাসীর অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হলো কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস ।

প্রিন্স চার্লস আক্রান্ত। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রাসাদ ছেড়েছেন । ইতালিতে হাজারে-হাজারে মরছে। ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইউরোপ জুড়ে বা ইরান কিংবা মধ্যপ্রাচ্য অথবা মার্কিন মুলুকের অবস্থা তথৈবচ। প্রকৃতির ভাষাও যেন পাল্টে যাচ্ছে। জীবজন্তুর আচরণেও অসংলগ্নতা স্পষ্ট হচ্ছে । বসন্তের সবুজ যেন ম্লান। মধ্যন্হে ঝাঁক বেঁধে টিয়া পাখির ওড়াউড়ি নজিরবিহীন।

এই গরমেও মধ্যরাতে কোথাও কোথাও ডাকছে শেয়াল। থেমে থেমে রাতের নৈঃশব্দে চিরচেনা কুকুরের ডাক বন্ধ হয়ে গেছে। রাত্রিতে বিড়ালের পায়চারি নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ কিংবা বিশ্ব মানচিত্রে বদলে যাচ্ছে অনেক কিছুই। প্রতিবেশী ভারতে মোদি বললেন, ২১ দিন বাড়ির বাইরে যেতেই পারবে না কেউ।

বাধ্যতামূলক ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখতে মোদি জি’র হুংকার শুধু নয়, মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ কিংবা পাশ্চাত্যের ভাষাও কঠোর। বাংলাদেশের অবস্থা কী আরো ভয়াবহ হতে চলছে? দশদিন সরকারি ছুটি পেয়ে ঢাকা,চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহর থেকে লঞ্চে ট্রেনে বাসে;গণপরিবহনে গ্রামে ফেরার যে অপরিণামদর্শিতার ছবি ভাইরাল হল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, তাতে স্পষ্ট’ই বুঝা যায় মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে না যে, করোনা ভাইরাস ঠিক কী রকমভাবে ছোঁয়াচে !

গণমাধ্যমে এসব নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন ঘরে ফেরাকে ‘আত্মঘাতী’ বলছেন , টকশোতে চায়ের পেয়ালায় উঠেছে ঝড়। তবে আমরা কি দেশের মানুষকে বুঝাতে ব্যার্থ হয়েছি? এর দায় নেবে কে ? এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েই সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক সেদিন’ই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার মুক্তিতে দলটির নেতাকর্মীরা রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন।

২বছর ১মাস ১৬ দিন সাজা কেটে বেগম খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুগ্রহে। এতিমখানা ও দাতব্য সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত বেগম জিয়ার কারাবন্দি সময়ে বিএনপি দফায় দফায় আন্দোলন করলেও কোন সুফল মেলেনি।

করোনায় সৃষ্ট সঙ্কট মুহূর্তে শেষ পর্যন্ত তার ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের আবেদনের পর বোন ও বোনজামাই দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে। বয়স বিবেচনায় মানবিক দিক চিন্তা করে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

করোনা ঝুঁকি সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত দলে দলে মিছিল করে হুমড়ি খেয়ে কর্মীসমর্থকরা বেগম জিয়ার জন্য তৈরি করলেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এনিয়ে খোদ বিএনপিতে প্রশ্ন উঠেছে, যারা এমন হুমড়ি খেলেন, একাধিক শীর্ষ নেতা বলছেন, তাঁরা মোটেও ভালো চাননি।

গণস্বাস্থ্যের ডাঃ জাফরুল্লাহ অবশ্য বললেন, এক্ষেত্রে সরকার দায় এড়াতে পারে না। সরকার কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্বটি নিশ্চিত করতে পারতেন। কঠোরভাবে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। বন্দীদশা শেষে মুক্তির বিষয়টি বিএনপির দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতারা তাৎক্ষণিক সরকারকে প্রশংসা না করলেও বিলম্বে হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কেউ কেউ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস স্বীকার করেই বলেছেন, ‘এখানে আমাদের কোন কৃতিত্ব নেই, ম্যাডামের পরিবারের সদস্যদের কৃতিত্ব ছাড়া।’ করোনার বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দন্ড প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশটি যে মানবিক, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও এ নিয়ে চলতি মারি ও মড়কের দিনে রাজনৈতিক আলোচনা হতেই পারে।

সবছাপিয়ে এ কথায় সত্য যে, বাংলাদেশ জন্মের পরের ইতিহাসে কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারপ্রধানের মানবিকতার ক্ষেত্রে এটি অনন্য নজির। শুধু তাই নয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় রাজপথেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা মামলার সাক্ষ্যপর্বে যেখানে সাফ করেই সাক্ষীরা ঘটনাটির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার দিকেই অভিযুগের আঙুল তুলেছিলেন, সেই অভিযুক্তকেই মুক্তি দিয়ে নেতৃত্বের উদারতা ও মহানুভবতার পরিচয় দিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

সমকালীন বিশ্ব ইতিহাসেও সমুজ্জল। তবে যে দেশে জাতির পিতার মর্মান্তিক বিয়োগের দিনে জন্মদিন পালনের বিতর্কিত রেওয়াজ প্রচলিত, সে দেশে দিবস উদযাপনের প্রতিযোগিতার ভীড়ে এই ‘কারামুক্তি দিবস’টি বেগম জিয়া ও বিএনপি’র জন্য হবে বড়ই অস্বস্তির ।

কেননা, স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের এই দিনে ২৫ মার্চের কালরাত্রির দুঃসহ স্মৃতিই বাঙালি বয়ে বেড়াবে অনাদিকাল, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ঠিক এক’ই দিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে করোনার বিরুদ্ধে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

তিনি বললেন, ‘ঘরে বসেই এ যুদ্ধ জয় করুন। মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ রাখুন। দুর্যোগের সময় মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। মজুদদারদারদের সতর্কবার্তা, ৫হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ’ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী চলতি দুর্যোগে কার্যত একটি ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মনোবল অটুট রাখা, নির্দেশনা পালনের জন্যও বলেন ।

প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জনতার যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধজয়ের কথাটিও মনে করিয়ে দিলেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সঙ্গে ‘সরবরাহ চেইন’ অব্যাহত রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করবেন না । অতিরিক্ত কোনো ভোগ্য পণ্য কিনবেন না। মজুদ করবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর এমন দৃঢ় ঘোষণার বিপরীতে পাড়ার মুদি দোকানেও ‘পেনিক বাই’ এর প্রভাব। খাদ্যপণ্যের আকাল পরিস্থিতি তৈরি করছেন কিছু লোভাতুর মজুদদার-স্বার্থান্ধ মানুষ। এপরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তৃতার কথা মনে পড়ে খুব। লোভি চক্র ও মজুদদার, লুটেরা শ্রেণীর অপতৎপরতারদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামের মিলিটারি একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে স্পষ্টই বলেন, বাংলার দুঃখী মানুষের জীবনকে ওরা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

মজুতদার ঘুষখোর চোরাকারবারিদের তিন বছর ধরে আমি কঠোর বার্তা দিয়েছি। আমি শপথ করেছি, ওদের নির্মূল করবো। আপনারাও শপথ করুন ।

পুনশ্চ: এই বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও আশাবাদ জাগায় কক্সবাজারের সহযোদ্ধা সাংবাদিক আহমেদ গিয়াসের তথ্য। গিয়াস জানালেন একজন সাফিয়ার কথা। একজন রত্নগর্ভা মা’র কন্যা সাফিয়া। মা কক্সবাজার জেলার প্রথম করোনা রোগী। মা’র এমন দুর্দিনে ভয়ে পালাচ্ছেন সবাই। আত্মীয়স্বজন-চিকিৎসক-নার্স, এমনকি হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আতংকগ্রস্ত।

রোগী হাসপাতাল ছেড়েও পালিয়েছেন। জরুরী বিভাগেও কমেছে রোগী। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে আছেন মাত্র একজন। মেয়ে সাফিয়া। মানুষের সাথে প্রকৃতির এই যুদ্ধে মানবতার অবিচল দুঃসাহসী সাফিয়াদের এখন বড় বেশি প্রয়োজন।

(লেখক: সহ-সভাপতি, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাধারণ সম্পাদক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রাম) 

২৪ ঘন্টা/ আর এস পি

Feb2

পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আবদুল্লাহ আল নোমান পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড়ে যৌথ অভিযানে ডিবি ও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।

পুলিশ জানায়, তাদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অপহৃত শিশুর পরিবারের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা মুক্তিপণের চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ চিরকুটটি আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্ত শুরু করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার হয় মুক্তিপণের সেই চিঠি।

নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশীরাই শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরাই পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকও করেছিল।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ভোরে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পাশের ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল উজবেকিস্তান। তবে নবাগতদের সেই রঙিন স্বপ্নকে লাতিন আমেরিকার মাঠের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল কলম্বিয়া। উজবেক ডিফেন্সের সব প্রতিরোধ ভেঙে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা লাতিন ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে কলম্বিয়া। এরপরও প্রথম গোলে র জন্য ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এসময় গোল করে দলকে লিড এনে দেন ড্যানিয়াল মুনোজ। লুইস দিয়াজের দেওয়া পাসে গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ বাড়াতে থাকে উজবেকিস্তান। সেই সুবাদে ৬০তম মিনিটে আসে সমতাসূচক গোলটি। গোলটি করেন আববোসবেক ফয়জুললভ।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির। এরপর উজবেকিস্তানের জালে আরও দুবার বল পাঠায় কলম্বিয়া। ৬৫তম মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস দিয়াজ। আর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ব্যবধান ৩-০ করেন জেমিনটন ক্যাম্পাজ।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করল কলম্বিয়া। সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান তাদের। আর টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।

৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হারাল ঘানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হারাল ঘানা

পানামা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার খুব কাছে ছিল। ঘানাকে রুখে দেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। কিন্তু যোগ করা সময়ে আচমকা গোল হজম করল দলটি। তাতে ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে জয়শূন্যই থাকতে হলো তাদেরকে।

বদলি গোলকিপারের বীরত্বের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গোল করে ঘানা। তাতে ১-০ ব্যবধানে জিতে ‘এল’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতল তারা।

২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ঘানা যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে। টরন্টোতে কালেব ইয়েরেঙ্কির একমাত্র গোল গড়ে দেয় ম্যাচের পার্থক্য। বেঞ্চ থেকে উঠে এসে তাকে গোল বানিয়ে দেন ব্রান্ডন থমাস আসান্তে।

অথচ পুরো ম্যাচজুড়ে পানামার দাপট ছিল। ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। ১১টি শটও নিয়েছিল পানামা, বিপরীতে ঘানার আটটি। ঘানার বদলি গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে শেষ ৪৫ মিনিট গোলপোস্টে থেকে তিন সেভে পানামাকে হতাশ করেন।

এর মধ্যে তিনি বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া দুটি শট ঠেকান। দলের উদ্ধারকর্তা হিসেবে ম্যাচে ছাপ রাখেন আসারে। তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বসে পানামা। থমাস আসান্তে আলগা বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে ঢোকেন এবং গোলমুখের সামনে বল ঠেলে দেন। সেখান থেকে ইয়েরেঙ্কি জাল কাঁপান।

ঘানা তাদের মিডফিল্ডার থমাস পার্টিকে ছাড়া মাঠে নামে। ইংল্যান্ডে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ফুটবলারকে ভিসা দেয়নি কানাডা।

প্রথমার্ধে গোলে নেওয়া একমাত্র শট এসেছিল দুই মিনিটের মধ্যে। পানামা ফরোয়ার্ড সিসিলিও ওয়াটারম্যান নিচু ক্রস পান আমির মুরিলোর কাছ থেকে। বক্সের মাঝ থেকে শট নেন তিনি। কিন্তু আতি জিগি ডানপাশে ডাইভ দিয়ে বল ফিরিয়ে দেন।

এই গোলকিপার কয়েকটি সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর পর হাফটাইমে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে নেমে নায়কের ভূমিকা পালন করেন আসারে।