খুঁজুন
রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা বিদ্ধ সময় : খালেদা মুক্ত, ইতিহাস গড়লেন মুজিবকন্যা-রিয়াজ হায়দার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০২ অপরাহ্ণ
করোনা বিদ্ধ সময় : খালেদা মুক্ত, ইতিহাস গড়লেন মুজিবকন্যা-রিয়াজ হায়দার

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। রিয়াজ হায়দার চৌধুরী : সারা বিশ্বের আতঙ্ক-যন্ত্রণা-উদ্বেগের রঙ হয়ে গেল এক’ই। পারমাণবিক কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের কোন যুদ্ধ নয়, রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে অণুজীবের যুদ্ধ চালাচ্ছে যেন প্রকৃতি। তাই বিশ্ববাসীর অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হলো কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস ।

প্রিন্স চার্লস আক্রান্ত। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রাসাদ ছেড়েছেন । ইতালিতে হাজারে-হাজারে মরছে। ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইউরোপ জুড়ে বা ইরান কিংবা মধ্যপ্রাচ্য অথবা মার্কিন মুলুকের অবস্থা তথৈবচ। প্রকৃতির ভাষাও যেন পাল্টে যাচ্ছে। জীবজন্তুর আচরণেও অসংলগ্নতা স্পষ্ট হচ্ছে । বসন্তের সবুজ যেন ম্লান। মধ্যন্হে ঝাঁক বেঁধে টিয়া পাখির ওড়াউড়ি নজিরবিহীন।

এই গরমেও মধ্যরাতে কোথাও কোথাও ডাকছে শেয়াল। থেমে থেমে রাতের নৈঃশব্দে চিরচেনা কুকুরের ডাক বন্ধ হয়ে গেছে। রাত্রিতে বিড়ালের পায়চারি নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ কিংবা বিশ্ব মানচিত্রে বদলে যাচ্ছে অনেক কিছুই। প্রতিবেশী ভারতে মোদি বললেন, ২১ দিন বাড়ির বাইরে যেতেই পারবে না কেউ।

বাধ্যতামূলক ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখতে মোদি জি’র হুংকার শুধু নয়, মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ কিংবা পাশ্চাত্যের ভাষাও কঠোর। বাংলাদেশের অবস্থা কী আরো ভয়াবহ হতে চলছে? দশদিন সরকারি ছুটি পেয়ে ঢাকা,চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহর থেকে লঞ্চে ট্রেনে বাসে;গণপরিবহনে গ্রামে ফেরার যে অপরিণামদর্শিতার ছবি ভাইরাল হল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, তাতে স্পষ্ট’ই বুঝা যায় মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে না যে, করোনা ভাইরাস ঠিক কী রকমভাবে ছোঁয়াচে !

গণমাধ্যমে এসব নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন ঘরে ফেরাকে ‘আত্মঘাতী’ বলছেন , টকশোতে চায়ের পেয়ালায় উঠেছে ঝড়। তবে আমরা কি দেশের মানুষকে বুঝাতে ব্যার্থ হয়েছি? এর দায় নেবে কে ? এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েই সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক সেদিন’ই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার মুক্তিতে দলটির নেতাকর্মীরা রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন।

২বছর ১মাস ১৬ দিন সাজা কেটে বেগম খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুগ্রহে। এতিমখানা ও দাতব্য সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত বেগম জিয়ার কারাবন্দি সময়ে বিএনপি দফায় দফায় আন্দোলন করলেও কোন সুফল মেলেনি।

করোনায় সৃষ্ট সঙ্কট মুহূর্তে শেষ পর্যন্ত তার ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের আবেদনের পর বোন ও বোনজামাই দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে। বয়স বিবেচনায় মানবিক দিক চিন্তা করে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

করোনা ঝুঁকি সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত দলে দলে মিছিল করে হুমড়ি খেয়ে কর্মীসমর্থকরা বেগম জিয়ার জন্য তৈরি করলেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এনিয়ে খোদ বিএনপিতে প্রশ্ন উঠেছে, যারা এমন হুমড়ি খেলেন, একাধিক শীর্ষ নেতা বলছেন, তাঁরা মোটেও ভালো চাননি।

গণস্বাস্থ্যের ডাঃ জাফরুল্লাহ অবশ্য বললেন, এক্ষেত্রে সরকার দায় এড়াতে পারে না। সরকার কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্বটি নিশ্চিত করতে পারতেন। কঠোরভাবে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। বন্দীদশা শেষে মুক্তির বিষয়টি বিএনপির দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতারা তাৎক্ষণিক সরকারকে প্রশংসা না করলেও বিলম্বে হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কেউ কেউ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস স্বীকার করেই বলেছেন, ‘এখানে আমাদের কোন কৃতিত্ব নেই, ম্যাডামের পরিবারের সদস্যদের কৃতিত্ব ছাড়া।’ করোনার বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দন্ড প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশটি যে মানবিক, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও এ নিয়ে চলতি মারি ও মড়কের দিনে রাজনৈতিক আলোচনা হতেই পারে।

সবছাপিয়ে এ কথায় সত্য যে, বাংলাদেশ জন্মের পরের ইতিহাসে কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারপ্রধানের মানবিকতার ক্ষেত্রে এটি অনন্য নজির। শুধু তাই নয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় রাজপথেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা মামলার সাক্ষ্যপর্বে যেখানে সাফ করেই সাক্ষীরা ঘটনাটির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার দিকেই অভিযুগের আঙুল তুলেছিলেন, সেই অভিযুক্তকেই মুক্তি দিয়ে নেতৃত্বের উদারতা ও মহানুভবতার পরিচয় দিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

সমকালীন বিশ্ব ইতিহাসেও সমুজ্জল। তবে যে দেশে জাতির পিতার মর্মান্তিক বিয়োগের দিনে জন্মদিন পালনের বিতর্কিত রেওয়াজ প্রচলিত, সে দেশে দিবস উদযাপনের প্রতিযোগিতার ভীড়ে এই ‘কারামুক্তি দিবস’টি বেগম জিয়া ও বিএনপি’র জন্য হবে বড়ই অস্বস্তির ।

কেননা, স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের এই দিনে ২৫ মার্চের কালরাত্রির দুঃসহ স্মৃতিই বাঙালি বয়ে বেড়াবে অনাদিকাল, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ঠিক এক’ই দিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে করোনার বিরুদ্ধে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

তিনি বললেন, ‘ঘরে বসেই এ যুদ্ধ জয় করুন। মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ রাখুন। দুর্যোগের সময় মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। মজুদদারদারদের সতর্কবার্তা, ৫হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ’ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী চলতি দুর্যোগে কার্যত একটি ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মনোবল অটুট রাখা, নির্দেশনা পালনের জন্যও বলেন ।

প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জনতার যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধজয়ের কথাটিও মনে করিয়ে দিলেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সঙ্গে ‘সরবরাহ চেইন’ অব্যাহত রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করবেন না । অতিরিক্ত কোনো ভোগ্য পণ্য কিনবেন না। মজুদ করবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর এমন দৃঢ় ঘোষণার বিপরীতে পাড়ার মুদি দোকানেও ‘পেনিক বাই’ এর প্রভাব। খাদ্যপণ্যের আকাল পরিস্থিতি তৈরি করছেন কিছু লোভাতুর মজুদদার-স্বার্থান্ধ মানুষ। এপরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তৃতার কথা মনে পড়ে খুব। লোভি চক্র ও মজুদদার, লুটেরা শ্রেণীর অপতৎপরতারদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামের মিলিটারি একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে স্পষ্টই বলেন, বাংলার দুঃখী মানুষের জীবনকে ওরা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

মজুতদার ঘুষখোর চোরাকারবারিদের তিন বছর ধরে আমি কঠোর বার্তা দিয়েছি। আমি শপথ করেছি, ওদের নির্মূল করবো। আপনারাও শপথ করুন ।

পুনশ্চ: এই বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও আশাবাদ জাগায় কক্সবাজারের সহযোদ্ধা সাংবাদিক আহমেদ গিয়াসের তথ্য। গিয়াস জানালেন একজন সাফিয়ার কথা। একজন রত্নগর্ভা মা’র কন্যা সাফিয়া। মা কক্সবাজার জেলার প্রথম করোনা রোগী। মা’র এমন দুর্দিনে ভয়ে পালাচ্ছেন সবাই। আত্মীয়স্বজন-চিকিৎসক-নার্স, এমনকি হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আতংকগ্রস্ত।

রোগী হাসপাতাল ছেড়েও পালিয়েছেন। জরুরী বিভাগেও কমেছে রোগী। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে আছেন মাত্র একজন। মেয়ে সাফিয়া। মানুষের সাথে প্রকৃতির এই যুদ্ধে মানবতার অবিচল দুঃসাহসী সাফিয়াদের এখন বড় বেশি প্রয়োজন।

(লেখক: সহ-সভাপতি, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাধারণ সম্পাদক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রাম) 

২৪ ঘন্টা/ আর এস পি

Feb2

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নব-নির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন (এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম বাদে, তিনি ১৯ মিনিট পর মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন)। এদের মধ্যে বিএনপি জোটে ৩৬ জন বৈধ প্রার্থী, জামায়াত জোটের ১২ জন বৈধ প্রার্থী ও স্বতন্ত্রদের জোটের এক বৈধ প্রার্থীরসহ মোট ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে তাদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন – সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, ইঞ্জি: মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও ইঞ্জি: মাহবুবা হাকিম।

এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ২৬১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রোববার (০৩ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৪ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩১৩ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ৪৯১ জন।

এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৮১৬ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০ জন।

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতি ফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা বা বৈঠক।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে। বিগত সরকারের সময় দেশকে একটা আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বলে দেশে দারিদ্র বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সরকার।