খুঁজুন
, ,

কর্ণফুলীর বর্তমান চিত্র ভয়াবহ-আর ক্ষতি হতে দেওয়ার সুযোগ নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 October, 2019, 7:37 pm
কর্ণফুলীর বর্তমান চিত্র ভয়াবহ-আর ক্ষতি হতে দেওয়ার সুযোগ নেই

.jpg

দেশের লাইফ লাইন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলীর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, কর্ণফুলীর বর্তমান চিত্র ভয়াবহ। এভাবে যদি চলতে থাকে অদূর ভবিষ্যতে এ নদী থাকবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। এখন যে অবস্থায় আছে তা আর ক্ষতি করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।

শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নগরের ফিরিঙ্গিবাজারে অভয়মিত্র ঘাটে চ্যানেল আইয়ের ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ‘দেশের অর্থনীতির হার্ট কর্ণফুলীর দখল-দূষণমুক্তসহ ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে পূর্বেও অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান চৌধুরী ফরিদের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে নদীপাড়ের দখল, পানি দূষণ, বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও মাছের বিলুপ্তি, ভরাট, লাইটারেজ জাহাজের অলস বসে থাকা, সিলট্রেশন, নব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে সুপারিশ উঠে আসে।

ভূমিমন্ত্রী আরো বলেন, সবই সরকার করে দেবে এমন নয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭-৮ শতাংশে থাকছে। রিজার্ভ বেড়েছে। কর্মসংস্থান বেড়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে ব্যাপক। এর সঙ্গে যদি আমাদের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে সাসটেইবেল হবে না।

কর্ণফুলীর বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মধ্যে একমাত্র গড গিফটেড পোর্ট চট্টগ্রাম বন্দর। ২ হাজার ১০০ বছরের বেশি এ বন্দরের বয়স। কর্ণফুলী নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে ঘিরে সরকারের অনেক পরিকল্পনা আছে। কর্ণফুলী নদী বন্দরের ব্যবহারের বিষয় আছে।

বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নদী রক্ষায় দ্রুত যা যা করার করতে হবে। ড্রেজিং ভেরি ইমপর্টেন্টে। এগ্রেসিভলি কাজ করেন। আমরা তো আছি। আমি চাই আপনি থাকাবস্থায় একটি ম্যানুয়াল তৈরি করে যান। যাতে সাসটেইবেল হয়। দরকার হলে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসতে হবে। বন্দরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বালু এখন গোল্ডের মতো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বালুর দাম বেশি। অনেকে নানা ভাবে নদীর বালু নিয়ে যাচ্ছে। বন্দরকে দায়িত্ব নিতে হবে কর্ণফুলী নদী রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে।

তিনি বলেন, নিজেদের ইচ্ছেমতো চলা আর ঠিক হবে না। সবাই মিলে কর্ণফুলীকে রক্ষা করতে হবে। এটি আমাদের অহংকার, আমাদের প্রাণ। এটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কর্ণফুলীর দুই পাড়ের শিল্পকারখানা সরাতে হবে। সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে। না হলে হবে না। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

লাইটারেজ জাহাজের যত্রতত্র পার্কিং বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাগরের সঙ্গে এ নদীর লিংক আছে। আমাদের বাণিজ্য বাড়ছে। লাইটারেজ জাহাজ বাড়ছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও এত জাহাজ ছিল না নদীতে। কেন? হতে পারে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে জাহাজ আসবে নদীতে। কিন্তু পার্কিংয়ের জন্য এ নদী নয়। নেভিগেশনে সমস্যা হচ্ছে। সিলট্রেশন হচ্ছে। দূষণ হচ্ছে। বন্দর চেয়ারম্যানকে বিষয়টি কড়াভাবে দেখতে হবে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা নিন।

তিনি বলেন, হালদা নদী একটি বিস্ময়। মৌসুমে মাছ ডিম ছাড়তে আসে। আবার চলে যায়। এটা প্রাকৃতিক বিষয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে শুনেছি।

পলিথিনের কারণে কর্ণফুলীতে ড্রেজার মেশিন অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ছবি দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, পলিথিনের এই যদি অবস্থা হয়। এটা কার দায়িত্বে পড়ে। যত বেশি পারি সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

সমন্বয়ের অভাব আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে সবাই কথা বলে ধাপে ধাপে কাজ করলে সময় বাঁচবে, টাকা বাঁচবে। সিটি করপোরেশন বলেন সিডিএ বলেন সবাই কিন্তু সরকারের টাকা খরচ করছে। আলটিমেটলি জনগণের টাকা যাচ্ছে। প্রপার সমন্বয় থাকলে শুধু কর্ণফুলী নয়, সাসটেইনেবল সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো। কর্ণফুলী নদী রক্ষায় ড্রেজিংসহ যা যা করা দরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবেন বলে জানান মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কর্ণফুলী আমাদের অস্তিত্ব। কর্ণফুলীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। কর্ণফুলী নদী কেন, কী কারণে, কী জন্য দূষণ হচ্ছে এটি কমবেশি সবাই জানি। সবাই বুঝি। সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করলে দখল-দূষণ থেকে নদী রক্ষা পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত, নাগরিক দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করবো। তাহলে বাসযোগ্য, সাসটেইবেল সিটি ফিরে পাবো। চার বছর মেয়রের দায়িত্ব পালনের তিক্ত ও ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা হচ্ছে নগরবাসীর সম্পৃক্ততা-সহযোগিতায় অনেক ঘাটতি আছে। কর্ণফুলীর জন্য বন্দরকে দায়ী করা হয়। ক্যাপিটাল ড্রেজিংতো করতে পারছে না। পলিথিনের লেয়ার জমে গেছে। কোনো মেকানিজম কাজ করছে না। তাই নাগরিকদের ভূমিকা বেশি। জনসচেতনতা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, বন্দর ও কর্ণফুলী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদী না থাকলে বন্দর থাকবে না। ১ নম্বর জেটির নিচের দিকে নব্যতা বেড়েছে। আগে জাহাজ আসতো ৮ দশমিক ৭ মিটার ড্রাফটের। এখন জাহাজ আসে সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের। কারণ আমরা ড্রেজিং করে নব্যতা বাড়িয়েছি। উপর দিকে নব্যতা বাড়াতে অনেক প্রতিবন্ধকতা। কারণ এখানে মাটিটা মাটি না, গার্বেজ। পলিথিনের উৎস বাসাবাড়ি। এটি ড্রেজিংয়ে বড় বাধা।

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা আছে। মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। যেখানে ৫৬টি রিকমন্ডেশন আছে। একটি চসিক, সিডিএ, ওয়াসা, ডিসি অফিস ও বন্দর মিলে মনিটরিং করবে। মূল কথা ড্রেজিং লাগবে। আমরা বিদেশি ফার্মকে দিয়ে একটি স্টাডি করাচ্ছি। কতটা সোজা করা যায় নদীকে। নদীকে সুন্দর করতে হলে কিছুটা ভাঙা লাগবে।

সীমানার ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা আছে। এখানে যেসব বিজনেস ও শিল্প আছে সেগুলো কোথায় রিলোকেটেড হবে সেই স্টাডি আমি পাইনি। তারাও আমাদের অর্থনীতির অংশ।

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক বলেন, পলিথিন সরকার নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আসছে কোথা থেকে। পলিথিনের উৎস কারখানা। সেখানে বোমা মারলে উড়ে চলে যাবে। কারখানায় তালা মারলে হবে না। একেবারে উচ্ছেদ করতে হবে। আমরা আসলে উৎসটা ধরি না।

তিনি আরো বলেন কর্ণফুলী হচ্ছে বাংলাদেশের ফুসফুস, কর্ণফুলী বাঁচাতে হবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবাই মিলে এটা করবো। নিজেদের বাঁচতে হবে। নিজেদের বাঁচাতে হলে পারিপার্শ্বিক সব কিছুতে লক্ষ্য রাখতে হবে। সচেতন হতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি বাঁচবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, কর্ণফুলী নদী দিয়ে দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। ৪০০-৫০০ বছর আগে কর্ণফুলী ছিল কোর্ট বিল্ডিংয়ের নিচে। ক্রমে দক্ষিণে সরে এসেছে। সরকারের টাকা আছে। কর্ণফুলী বাঁচাতে যদি ৬ মিটার খনন করতে হয় তবে উন্নত ড্রেজার আনতে হবে। দেশের মানুষের মধ্যে আইন না মানা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এর জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে যাতে আইন মানে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাকলিয়ায় ২০ ইঞ্চি ড্রেজার লাগানোর পর আধ ঘণ্টা পর পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। শুধু পলিথিন নয়, ফিশিং নেট, গৃহস্থালি বর্জ্যে ড্রেজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরপর চীন থেকে আনা হলো ৩২ ইঞ্চি ড্রেজার। সেটিও ব্যর্থ হলো। এরপর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরিপ করে দেখা গেলো ৪২টি খাল দিয়ে প্রতিদিন ৮-৯ হাজার মেট্রিকটন বর্জ্য নদীতে পড়ছে।

জোয়ার-ভাটার নদী হলে এখানে নৌযান চালানো যেত না। সিটি করপোরেশনের পানি যাচ্ছে বর্জ্যসহ। খালের মুখে বর্জ্য সার্ক করে পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা বিশ্বের সব জায়গায় আছে। কর্ণফুলী না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। কর্ণফুলী মরে গেলে পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ভূমিমন্ত্রীর বদান্যতায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ টাকা পেয়েছি। আরএস মূলে অবৈধ স্থাপনা আছে ২ হাজার ১১২টি, বিএস মূলে ৭৫টি। আদালতের রায়ে আরএস মূলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। ৫ দিনে ২৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ১০ একর জমি উদ্ধার করেছি। নিম্নআদালতে একটি মামলা রয়েছে। এখনো ১২টি মামলা রয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ২৫ কোটি টাকা চেয়ে রেখেছি। কর্ণফুলী আপনাদের নদী। দখলদারদের তালিকা নদী কমিশনের ও জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে রয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলবো, উচ্ছেদ করা জায়গা মাস্টারপ্ল্যান করে দ্রুত শাসনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, কর্ণফুলীর সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদের সম্পর্ক আছে। হ্রদটির নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে, সে ব্যাপারে কেউ নজর দিচ্ছি না। স্যুয়ারেজ সিস্টেম না থাকায় নগরের ৫০ হাজার স্যানিটারি ল্যাট্রিনের আড়াই হাজার টন বর্জ্য নদীতে পড়ছে। এর বাইরে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কসাইখানা, লাইটার জাহাজের বর্জ্য, পাহাড়ি বালু নদীতে পড়ছে। কর্ণফুলী ও হালদা এখনো বেঁচে আছে জোয়ার-ভাটার কারণে। কিছু দিন পর এ নদী খালে পরিণত হবে। দুর্বিষহ অবস্থা নেমে আসবে।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি এমএ সালাম বলেন, কর্ণফুলী সুন্দর রাখতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। পাহাড় খেয়ে ফেলেছি আমরা। কর্ণফুলী খেয়ে ফেললে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিল্প বাড়বে, এটা বন্ধ করা যাবে না। শিল্পকে সবুজ করার জন্য ব্যবসায়ীদের কমিটমেন্ট থাকতে হবে।

হালদা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, কর্ণফুলীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ বন্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় জরুরি। চসিক, সিইউএফএল, কেপিএম ও ওয়াসা দূষণ বন্ধে উদ্যোগী হতে হবে। কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু করলে নগরের অর্ধেক যানবাহন কমে যাবে।

কর্ণফুলী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, নদীকে ব্যবসার উপাদানে পরিণত করা হয়েছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং বন্ধ মানে হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর অর্ধেক অপারেশন করে ডাক্তারের চলে যাওয়ার মতো।

আইবিএফবি’র সভাপতি এসএম আবু তৈয়ব বলেন, মানুষের শরীরের নার্ভ ঠিক না থাকলে ব্যথা অনুভব হয়। পৃথিবীর নার্ভ হচ্ছে নদী, খাল, জলাশয়। কর্ণফুলী নামের সঙ্গে একটি মেয়ের কানের দুল হারানোর লোকগাথা আছে, কিন্তু এখন আমরা কর্ণফুলী নদীই হারাতে বসেছি।

স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে কর্ণফুলীর দখল ও দূষণ বন্ধে। সরকার র‌্যাংগস ভবন ভেঙে সড়ক করেছে, হাতির ঝিল করেছে, নদীপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে। কর্ণফুলীও বাঁচাতে পারবে।

কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, কর্ণফুলী চট্টগ্রামের নাভি। ভূমিমন্ত্রীর ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। তিনি বলেছিলেন, দখলদারদের চেয়ে সরকারের হাত অনেক বেশি লম্বা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সম্পাদক- সাংবাদিক আলীউর রাহমান। সেসময় চ্যানেল আইএর দর্শক ফোরামের সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল, মোহাম্মদ এনাম, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুখ, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রণি, কর্ণফুলী সাম্পান মাঝি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি পেয়ার আলী, সহ সভাপতি জাফর আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, চর পাথরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের আহম্মদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক আব্দুল হালিম দোভাষ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 2:57 pm
শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি দিদার ও আফসার, জোরারগঞ্জ থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বোরহান এবং হাটহাজারী থানার আজম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 9:25 am
গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিন

সারাদেশে গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। স্বাভাবিক সময়ে দেশি উৎস ও আমদানির মাধ্যমে পেট্রোবাংলা সরবরাহ দেয় তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। বর্তমানে ২১-২২শ ঘনফুট সরবরাহ দেওয়ায় সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও চলছে গ্যাসের জন্য হাহাকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা নিয়ন্ত্রণাধীন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করার সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করে ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ- ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে নিয়মিতভাবে সাড়ে ৯শ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআইইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটির পুরো অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে অর্ধেকে।

এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে গ্যাসের ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে পেট্রোবাংলার অঙ্গ ও নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর মধ্যে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লেজেগোবরে অবস্থা গ্যাস ব্যবস্থাপনায়।

সবশেষ ১ আগস্ট সামিট এনার্জির এফএসআরইউ থেকে ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। আর ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করার আশা প্রকাশ করেছে আরপিজিসিএল।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কেজিডিসিএলের অধীনে ৬ লাখ ২ হাজার ৪০৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান গ্রাহক হিসেবে আছেন। এর মধ্যে গৃহস্থালি ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬টি, বাণিজ্যিক সংযোগ ২ হাজার ৯১১টি, শিল্প সংযোগ রয়েছে ১ হাজার ১৯৯টি, কেপটিভ পাওয়ার ২০৯টি, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ৭০টি, চা-বাগান দুটি, সার কারখানা চারটি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংযোগ রয়েছে পাঁচটি। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

তবে মহেশখালীতে দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গ্যাসের সরবরাহ ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট কমলেও চট্টগ্রামে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। স্বাভাবিক সময়েও ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের কম-বেশি সরবরাহ পেতো কর্ণফুলী গ্যাস।

আমরা স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেতাম। আজ (রোববার) ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছি। যে কারণে নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।-কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী

কিন্তু ২ আগস্ট জাতীয় গ্রিড থেকে কেজিডিসিএল বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এতে রোববার (২ আগস্ট) পুরো চট্টগ্রামে গ্যাসের জন্য হাহাকার শুরু হয়। শিল্প থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে গৃহস্থালি- সবখানেই সারাদিন গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ভোক্তাদের।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেতাম। আজ (রোববার) ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছি। যে কারণে নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

রোববার সকাল থেকে সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কার, পিকআপভ্যানকে। আবার গৃহস্থালিতেও গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ও কেরোসিনের চুলার আশ্রয় নিতে হয়েছে নগরবাসীর।

জ্বলছে না চুলা
নগরীর হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা শ্যামলি নন্দী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে পরিবারের দিনের রান্নাবান্না সেরে অফিসে যাই। কিন্তু আজ দুদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম। সকালে চাপ একেবারে কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে ইলেক্ট্রিক চুলায় রান্নার কাজ সারতে হয়েছে।’

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকবছর হালিশহর কে ব্লক এলাকায় বসবাস করি। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসে সমস্যা হচ্ছে। আজ সকালে চাপ একেবারে কম থাকায় রান্নায় সমস্যা হয়েছে। সকালে বাচ্চাদের টিফিন ও অন্য রান্না করতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে।’

বিপাকে গ্যাসচালিত যানবাহন
সকাল থেকে নগরীর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়েছে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহনকে। দুপুরে দেখা যায়, নগরীর কদমতলী এলাকার ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে সিআরবি সাত রাস্তা হয়ে উল্টো কদমতলী মোড়ের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বেলাল হোসেন প্রায় ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে অটোরিকশা চালান। ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যার কারণে আমাদের লাইন ধরে বসে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছি না। গাড়ি না চালালেও গাড়ির মালিককে দিনের জমা বাধ্যতামূলক দিয়ে দিতে হবে। প্রতিদিন মালিকের গাড়ির জমা বাদ দিয়ে যা থাকে তা দিয়ে সংসার খরচ চালাতাম। এখন বসে থাকলেও আগে মালিকের জমা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আগে বলে দিতো, আজ গ্যাস পাওয়া যাবে না, আমরা আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিতাম। আমাদের দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।’

পাশে সিআরবি এলাকায় লাইনে গাড়ি রেখে শিরিষ তলায় অপেক্ষা করছেন আরেক চালক আকতার হোসেন। তিনি বলেন, ১০-১২ দিন থেকে গ্যাস নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আজ একেবারে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এখানে এক ঘণ্টা ধরে লাইনে বসে আছি।’

মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাগতে পারে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম

কদমতলী এলাকায় বেশ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ফুটপাতে অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য কৌশল নিয়েছে। দাম বাড়ালে বাড়াতো, আমাদের কষ্ট করতে হতো না।’

কথা হলে ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের বিক্রয় সহকারী মো. হৃদয় বলেন, ‘সকালে কিছুটা চাপ থাকলেও দুপুরের দিকে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য আমরা বসে আছি। লাইনে গ্যাস আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি চালু করবো।’

স্বাভাবিক হতে পারে ১০ আগস্ট
চলমান গ্যাস সংকট সমাধান হতে আরও এক সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে ভোক্তাদের। কথা হলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাগতে পারে।’

আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেয় পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

কথা হলে আরপিজিসিএল চট্টগ্রামের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা গেলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বর্তমানে সামিট এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৫শ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। রোববারও ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে।’

ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছরে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা, জানাবেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 8:41 am
ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছরে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা, জানাবেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে আসছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এফসিসি সাউথ এশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তার প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যমে অংশ নেননি। ফলে আসন্ন এই বক্তব্য ক্ষমতা ছাড়ার পর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব এতে অংশ নেবেন।

অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক।

এ ছাড়া প্যানেলে থাকবেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবসের (আইএপিসি) সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।

নতুন সরকার সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চলমান আদালতের কার্যক্রম নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।