খুঁজুন
, ,

জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলীর তিন পুলিশ ফাঁড়ি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 18 January, 2021, 11:38 am
জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলীর তিন পুলিশ ফাঁড়ি

বিশেষ প্রতিনিধি : সঙ্কটে ‘জনগণের বন্ধু’ পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলী থানাধীন তেইশ স্পটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে মানুষের সেবায় অবদান রাখছেন তিন পুলিশ ফাঁড়ি-শাহমীরপুর, শিকলবাহা ও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি। থানা থেকে ২৩ কিলোমিটার দুরে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি, ১২ কিলোমিটার দুরে শাহমীরপুর ও অদূরে ইন্ডাস্ট্রিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা শিকলবাহায় সীমিত লোকবল নিয়ে চলছে তিন পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম।

যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ফাঁড়ি পুলিশকেও পালন করতে হয় চেকপোষ্টসহ আরো গুরু দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব ও সেবার বিবেচনায় ফাঁড়ি পুলিশের সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট নয়। রয়েছে আবাসন সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব, পরিবহন সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভুগলেও সেবা প্রদানে পিছিয়ে নেই কর্ণফুলী থানার তিন পুলিশ ফাঁড়ি।

সাধারণত থানার আকার, জনবসতি ও অপরাধ প্রবণতার উপর ভিত্তি করে পুলিশি কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার জন্য ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ফাঁড়ি মূলত, মূল পুলিশ স্টেশন থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষা করা অসুবিধা হয় বলে, স্থানীয়ভাবে আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য ফাঁড়ি গঠন করা হয়।

ফাঁড়ি থানার অন্তভুর্ক্ত এবং থানার অফিসার ইনচার্জের অধীনে থাকে। যেখানে থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশি কার্যক্রম চালাতে হয়। পুলিশ ফাঁড়িতে কোন মামলা রুজু করা যায় না, তবে জিডি করে থানায় প্রেরণ করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ির সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন একজন এস.আই অথবা সার্জেন্ট।

সম্প্রতি, কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বন্দর তিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ যথাক্রমে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ নাছির উদ্দিন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দু রহিম মিয়া ফাঁড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন কওে চলেছেন। বৃদ্ধি করেছেন পুলিশের সুনামও ভাবমূর্তি।

কর্ণফুলী থানা পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ দমনে ফাঁড়িগুলো প্রতি মাসে মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আয়োজন করেছেন মাদক বিরোধী সমাবেশ। তৃণমূল মানুষের সাথে জনসংযোগ বাড়াতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন বিট পুলিশিং কার্যক্রমে। সাধারণ মানুষকে অপরাধীদের তথ্য প্রদানে উৎসাহিত ও থানামুখী করতে সামাজিক অনুষ্ঠানেও বাড়িয়েছেন অফিসারদের অংশগ্রহণ।

এছাড়াও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার, ক্রাইম ও মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে অপরাধী আটক, নদীপথে অবৈধ তেলচোর দমন, মাদক পাচার রোধে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদ্যসরা। এমনকি ফাঁড়ি এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত ও সন্ত্রাস দমনের মতো একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক কর্মকান্ড দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছেন। পাহাড় জঙ্গল আর নদীঘেষা উপজেলা হলেও যথা-সম্ভব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্ণফুলী থানা পুলিশ সক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শহরের দক্ষিণপাড় হলেও বাদ যায়নি সেবার পরিধিও।

সিএমপি কমিশনার এর নির্দেশে সাধারণ মানুষ ও শীতার্তদের মাঝে ফাঁড়িতে শীতবস্ত্র বিতরণ, করোনাকালে খাদ্য উপহার, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও করোনা রোগীর জন্য ঔষধ ও ফলমূল বিতরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সিএমপি’র কর্ণফুলী থানা পুলিশের পরিধি বাড়ে। নতুন করে পটিয়ার অধীনে থাকা শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬টি ওর্য়াড, বড়উঠান ইউনিয়নের ৫টি ওর্য়াড মিলে মোট ১১টি ওর্য়াড যুক্ত হয় কর্ণফুলী থানায়। আনুষ্ঠানিকভাবে যা কার্যকরও শুরু হয়।

ফলে শিকলবাহার পুলিশ ফাঁড়ির অধিক্ষেত্র দাঁড়ায় দ্বীপ কালার মোড়ল, বাংলা পাড়া, মাষ্টারহাট, সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, সিডিএর টেক, ওয়াহেদিয়া পাড়া ও তালতলা টাওয়ারের গোরা। শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির অধীন ফকিরনিরহাট, কাঁচাবাজার, খাদ্য ফ্যাক্টরী, শাহমিরপুর মাজার, শাহমীরপুর বড় বাড়ি, কেইপিজেড গেইট ও দৌলতপুর ডাক পাড়া। এছাড়াও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির নজর রাখতে হয় কেইপিজেডের বিভিন্ন অংশসহ জাগিরপাড়া, উত্তর বন্দর, ডিএসি ও ইসিএল এলাকা।

এরমধ্যে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির দৃষ্টিনন্দন একটি কাজ সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন। বহু বছর আগের ঘেরাবেড়াহীন ফাঁড়ির সেমিপাকা ঘরটি ছিলো এক সময় জরাজীর্ণ। এখন চতুর্পাশে সুউচ্চ বাউন্ডারি দেয়াল তুলে সুরক্ষিত করে পুলিশী সেবাঘর হিসেবে তৈরি করেছেন। সংস্কার করেছেন ভেতরের অংশও। যদিও এর আগে বহু পুলিশ অফিসার ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কেউ সাহস করে কাজটি করতে আগাতে পারেননি আর্থিক বিবেচনায়। অথচ বর্তমান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সেটি করে দেখিয়েছেন।

এমনকি শিকলবাহায় মাদকের আস্তানায় হানা, ইছানগর এলাকায় জুয়ার আসর গুড়িয়ে দেয়া, একই গ্রামে জাগির হাজীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় বোয়ালখালি থেকে ডাকাত গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসেন শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন। জানা যায়, এই পুলিশ কর্মকর্তা অতীতে তিন সিএমপি কমিশনারের সময়কালে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় শ্রেষ্ঠ উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভাল কাজের স্বীকৃতি সব সময় আনন্দের। এ কৃতিত্ব আমার একার নয়। থানার অফিসার ইনচার্জ ও দায়িত্বরত সকল পুলিশ ফোর্সদের’। তবে ফাঁড়ির বাউন্ডারি কাজটির সৌন্দর্য বাড়াতে প্রথমে সাহস যুগিয়েছিলেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) এস এম মোস্তাক আহমেদ খাঁন স্যার। মূলত স্যারের সহযোগিতায় কাজে নেমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু মানুষের সার্বিক সহযোগীতায় আজকের এ প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।’

এরপরেও কিছু বহিরাগত লোক এসে এলাকায় নানা ঘটনা ঘটিয়ে যায়। যে সব ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু তিন পুলিশ ফাঁড়ির কিছু কাজ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে পুলিশের প্রতি।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা তুলে ধরছি-গত ১৫ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ফরিদা বেগম (২৮) নামক এক নারীকে গলাটিপে হত্যা করে স্বামী নুরুল ইসলাম (৩২) পালিয়ে যায়। পরে সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ ইয়াসির আরাফাত এর সুকৌশলে ঘটনা সংগঠিত হওয়ার মাত্র দু’ঘন্টার মাথায় শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ি টিম পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

এরআগে গত আগষ্ট মাসে বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকার নুরুল আনোয়ারের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে চোরেরা লুটপাট চালিয়ে ২০ভরি স্বর্ণ অলংকার, টাকা পয়সা ও এলইডি টিভি নিয়ে যায়। পরে নাসরিন আক্তার বুলু বাদি হয়ে (অজ্ঞাতনামা আসামি করে) কর্ণফুলী থানায় জিআর ৪/২৭৭ মামলা দায়ের করেন। ক্লুলেজ এই মামলার দায়িত্ব দেয়া হয় শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোঃ নাছির উদ্দিন কে। পরে তিনি তথ্য উপাত্ত যাচাই করে পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ শাহাজাহান (৩৪), মোঃ জাবেদ হোসেন প্রকাশ কালু (২৪) ও রতন সেন (৪২) গ্রেপ্তার করেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে চুরি হওয়া মালামাল ও স্বর্ণ উদ্ধার পুর্বক আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন।

একই রকম আরেকটি ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বর মাসে বন্দর ফাঁড়িধীন সাহাব উদ্দিনের দোকান চুরি হয়। চোর চক্র দোকানে থাকা মোবাইল ও সিএনজি নিয়ে যায়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষনিক সকির আহমেদ নামে এক ড্রাইভারসহ (চট্টমেট্টো-ধ-১১-০০-২৩) সিএনজি আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে চুরির ঘটনায় জড়িত শুক্কুর ও রিয়াদ নামে দুজনকে আটক করা হয়। দুজনের দেওয়া তথ্যমতে আবার নগরীর বাকোলিয়া থেকে শওকত নামে আরো ১ জনকে আটক করেন। তথ্য দেন এ ঘটনায় আনোয়ারার গহিরা এলাকার মুনছুর আলম জড়িত। পরে পুলিশ তাকেও নিয়ন্ত্রণে নেন। ক্লুলেজ চুরির ঘটনা থেকে পুলিশ একে একে পাঁচ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং মালামাল উদ্ধার করেন।

পুলিশী সেবার বিষয়ে কথা হলে শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উক্ত ইনচার্জ মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ নিজের জীবন বিপন্ন করে জনগণের সেবায় মাঠে ছিল। পুলিশের এ মানবিকতা শুধুমাত্র দেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি দেশের মানুষকে নির্মোহভাবে ভালোবাসতে হবে। সব উপায়ে সর্বোতভাবে পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সিনিয়র স্যারদের নির্দেশে সেটাই করতে চেষ্টা করছি মাত্র।’

কর্ণফুলী জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ ইয়াসির আরাফাত বলেন, সিএমপির কর্ণফুলী থানার অবস্থানটা মূলত একটু প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার ভেতরে। প্রশাসনের অবস্থান জনবহুল ও লোকচক্ষুর সামনে রাখা হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে সেটা হয়তো সত্য। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিক ভোগান্তি কমাতেই তিন পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ভালো কাজ করছেন। থানার পরিধি বাড়ায় ভবিষ্যতে আরো পুলিশ স্টেশন হবে। আশা করি জনগণ তাদের কাঙ্খিত সেবা পাবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বন্দর, পটিয়া ও আনোয়ারা থানা ভেঙে গঠিত হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আরেকটি স্টেশন কর্ণফুলী থানা। যেটি ২০০০ সালের ২৭ মে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদ এর পুরাতন ভবনে কার্যক্রম শুরু করেন।

২৪ ঘণ্টা/জে জাহেদ

 

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।