খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ের সবজি চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে করোনায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 April, 2020, 9:05 am
ঠাকুরগাঁওয়ের সবজি চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে করোনায়

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :: প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্বপ্ন ভেঙে গেছে ঠাকুরগাঁও জেলার সবজি চাষিদের ।

জানা গেছে, বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে গায়ের ঘাম পানি করে ক্ষেতে সবজি চাষ করে ভরে তুলেছেন জেলার চাষিরা। সবজি চাষ করে জীবিকার চাকা সচল রেখেছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবার। প্রতিবছর এ জেলার উৎপাদিত ফসল ও শাক-সবজি এ জেলায় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে আসছে।

কিন্তু বর্তমান দেশের চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ(কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে চাষিদের স্বপ্ন যেন দূস্বপ্ন হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি বর্গা নেওয়া সবজি চাষীদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিওতে, সরকারীভাবে কৃষি ঋণ গ্রহণ করে, মহাজনদের কাছে উচ্চ সুদে ধার-দেনা করে কেউ আবার গৃহস্থালী পণ্য বিক্রি করে কিছু লাভের আশায় রাত-দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তরমুজ, করলা, লাউ, শসা, বেগুন ও টমেটো সহ রকমারী শাক-সবজি এবং ফসল উৎপাদন করে দিনাতিপাত করে আসছিল।

কিন্তু এবার কোভিট-১৯ এর কারনে এলাকার সবজি চাষীদের মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন যেন স্বপ্নেই থেকে গেল।

এ প্রসঙ্গে বড়দেশ্বরীহাটের বর্গা নেয়া কৃষক বেলাল হোসেন আমাদের প্রতিনিধিকে  জানান, তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ২ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, ভূট্টা ও মরিচ চাষ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত এক টাকাও বিক্রয় করতে পারেননি।

একই বেদনার কথা জানান ওই এলাকার চাষি মোঃ আব্দুল হাই। তিনি বলেন, প্রায় দেড় একর জমিতে সবজি চাষে প্রায় খরচ ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। ২১নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের চাষি মেজু আহম্মেদ জানান, আমি ২ একর জমিতে লাউ, শশা চাষ করি খরচ প্রায় জমির দামসহ ২লক্ষ টাকা। দাম না থাকায় আমি মানসিক ভাবে হতাস হয়েছি। একই অবস্থা জেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক শারীরিকভাবে করোনায় আক্রান্ত না হলেও আর্থিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে একাধিক কৃষক বেদনার কন্ঠে জানান।

করোনায় দেশ প্রায় স্থবির হওয়ার কারণে তাদের উৎপাদিত পচনশীল সবজি রাজধানী ঢাকা সহ বাহিরে সরবরাহ করতে না পারায় স্ব স্ব এলাকায় নাম মাত্র মূল্যে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সবজি ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিত বিবেচনা নিয়ে অনেকে আবার সবজি ক্ষেত ভেঙ্গে নতুন করে ভূট্রার আবাদে ঝুকে পড়ছেন।

এমতাবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে সবজি চাষীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোবাশ্বেরুল ইসলাম জানান , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার প্রতি বর্গ ইঞ্চি জমিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের উৎসাহিত করে আসছেন। কিন্তু আকস্মিক করোনায় লকডাউনের কারনে ক্রেতা-আড়তদার না থাকায় এলাকার উৎপাদিত সবজি ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছেন না চাষীরা।আবার কিছু কিছু বাজারজাতের ব্যবস্থা থাকলেও নাম মাত্র দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

তিনি বলেন, সবজী চাষীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ অথবা পৃথক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা না হলে উপজেলার কৃষকরা আগামী কয়েক বছরেও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমার আশংকা।

 

Feb2
Feb2

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 11:05 am
সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 7:47 pm
জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা’ এবং ‘চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গায় পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এতে অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের বিধান বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।