ডোমারে শিশুর গলাকাটা, যুবকের গলিত ও গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার
২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পৃথক পৃথক ঘটনায় শিশুর গলাকাটা মৃতদেহ, যুবকের গলিত মরদেহ ও গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১০মে) সকালে ও দুপুরে পৃথক স্থানে এই তিনটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডোমার ও দেবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে লাশ প্রেরন করা হয়েছে।
রবিবার (১০মে) দুপুরে উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের লালার খামার এলাকায় কাজি নজরুল সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার ধারে শুকনো একটি ডোবায় জাকিরুল ইসলাম(২৫) নামে এক যুবকের গলিত মৃত্যুদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সকালে এলাকাবাসী গলিত লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।ডোমার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গলিত মৃত্যুদেহ উদ্ধার করে। নিহত জাকিরুল ডোমার পৌরসভার পূর্ব চিকনমাটি ভাটিয়া পাড়ার আব্দুল গনির ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত জাকিরুলের প্যান্ট ও স্যান্ডেল রাস্তার ধারে পরে ছিল এবং তার মৃতদেহ ডোবার ধারে জঙ্গলের মধ্যে চিৎ অবস্থায় পরে ছিল। নিহত জাকিরুলের শরীরে পচন ধরে পোকা ধরায় দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।
ধারনা করা হচ্ছে মৃতদেহেদটি তিন-চারদিন আগের। নিহত জাকিরুলের পরিবার সুত্রে জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার বিকালে সে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর বাড়ীতে ফিরেনি। খবর পেয়ে এখানে এসে তার লাশ শনাক্ত করে পরিবার।
একই দিনে দুপুরে হরিণচড়া ইউনিয়নের খানাবাড়ী গ্রামে একরামুল হকের বাড়ীতে মাহফুজা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূ পারিবারিক কলহে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার ১৮ মাসের একটি ছেলে শিশু সন্তান রয়েছে। নিহত মাহফুজা বেগম হরিনচড়া খানাবাড়ী এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।
জানাযায়, শনিবার বিকালে শাশুড়ী ও বউয়ের মাঝে ঝগড়া হয়। রাতে সকলেই এক সাথে খাবার খায়। সকালে অসুস্থ্য শশুরের জন্য ভাত রান্না করে সে। রবিবার সকাল ১০ টার পরে সকলের অগোচড়ে পাশ্ববর্তী দাদি শ্বাশুড়ি মহিমা বেগমের ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
খবর পেয়ে বিকেলে ডোমার থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করেন। ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সীমান্তের ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ার চিলাপাড়া বনবিভাগের একটি বেতবাগান থেকে মোবাশ্বের (৫) নামের এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার(১০মে)সকালে নীলফামারীর ডোমার থানা ও চিলাহাটি তদন্ত কেন্দ্র ও পঞ্চগড় জেলা দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এই লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পুলিশ নবম শ্রেনীর এক ছাত্র সিয়াম হোসেন মিঠু(১৫)কে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের নায়েক পাড়া গ্রামের আলমের ছেলে। আটক ছাত্রটি একই গ্রামের আশিকুর রহমানের ছেলে।
জানা যায়, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের নায়েক পাড়া গ্রামের আশিকুর রহমান স্বপনের ছেলে সিয়াম হোসেন মিঠু (১৫) একই গ্রামের আলমের ছেলে মোবাশ্বরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাইসাইকেলে নীলফামারী জেলার ডোমার থানার ভোগডাবুড়ি চিলাপাড়া গ্রামে ফুফা আব্দুল রশিদের বাড়িতে আসে।
এরপর দিন শুক্রবার বিকাল হতে ৫ বছরের শিশুটি নিখোঁজ হয়। শনিবার(৯মে) সন্ধ্যায় দেবীগঞ্জ থানায় জিডি করেন নিখোঁজ শিশুটির বাবা আলম।
এ ঘটনায় পুলিশ রাতে নবম শ্রেনীর ছাত্র সিয়াম হোসেন মিঠুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আটক মিঠু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ৫ বছরের শিশু মোবাশ্বেরকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দেবীগঞ্জ ও ডোমার থানা এবং চিলাহাটি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের যৌথ অভিযানে রবিবার (১০মে) সকালে ভোগডাবুড়ির বনবিভাগের একটি বেতবাগান থেকে গলাকাটা মোবাশ্বেরের লাশ উদ্ধার করেন।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি রবিউল হাসান সরকার জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মোবাশ্বেরকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে নবম শ্রেনীর ছাত্র সিয়াম হোসেন মিঠু। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করে পঞ্চগড় জেলার মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মোবাশ্বেরের বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
ডোমার থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান,চিলাহাটিতে এক শিশুর উদ্ধারকৃত মৃতদেহ পার্শ্ববতী উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় দেবিগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুর মৃত্যুদেহ নিয়ে যান।
দুপুরে এক যুবকের গলিত মৃতদেহ ও বিকেলে গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, এ ঘটনা পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুজে বের করে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি।
২৪ ঘণ্টা/এম আর/সুজন


আপনার মতামত লিখুন