খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নামাজের মাধ্যমেই ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ও শারীরিক পুনর্বাসন – ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
নামাজের মাধ্যমেই ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ও শারীরিক পুনর্বাসন – ডা. শাহাদাত

ডা: শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি ও স্পোর্টস মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডাঃ শাহাদাত হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লাইভে এসে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এই রমজান মাসেও তার নিজস্ব ফেইসবুক পেইজ(https://www.facebook.com/DrShahadatBNP/) থেকে তিনি এই সেবা চালিয়ে যাবেন সপ্তাহের প্রতি রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি বার রাত ১০টা থেক ১১.৩০ পর্যন্ত।

সাম্প্রতিক এক লাইভ সেশনে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দর্শকদের থেকে ফিজিওথেরাপির বিষয়ে কিছু প্রশ্ন পান।

তার উত্তরে তিনি জানান কিভাবে আমাদের প্রাত্যহিক নামাজের মাধ্যমেই ফিজিওথেরাপির ব্যায়াম করা যায়।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার মধ্যেই পড়ে আমাদের দেহ এবং রুহ একদিন আল্লাহ’র কাছেই ফেরত যাবে। তাই আমাদের দেহের যত্ন নেয়া আমাদের দায়িত্ব। বিশ্বাসের পরে,স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা হচ্ছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সবচাইতে বড় আশীর্বাদ এবং এর জন্য আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের জবাবদিহি থাকতে হবে।

শাহাদাত বলেন, শরীরকে সুস্থ রাখা এবং অসুস্থ শরীরকে ফিজিওথেরাপীর মাধ্যমে পুনর্বাসন করার একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে নামাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এন-এইচ-এস) এর রিসার্চ বলে।এন-এইচ-এস এর একটি রিসার্চ পেপার “ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড সালাহ(নামাজ)” এর আলোকে আজকে আমরা আলোচনা করবো।

ফিজিওথেরাপির উদ্দেশ্য শারীরিক পুনর্বাসনের সাহায্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করা। শারীরিক পুনর্বাসন একটি নিয়মিত হালকা ব্যায়াম কর্মসূচি যা আমাদের হাঁটাচলা ও শারীরিক নাড়াচাড়াকে শক্তিশালী করে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের মাংসপেশি ও জয়েন্টগুলিতে অসাড়তা হ্রাস করতে সহায়তা করে। এটি আমাদের মাংসপেশীর শক্তিও ক্রমশ বৃদ্ধি করে শারীরিক সুস্থতা উন্নতি করতে। যাদের হাঁটাচলা বা নাড়াচাড়ায় সমস্যা বা ব্যাথা অনুভব হয়, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পাদন করার জন্য। সেক্ষেত্রে নামাজ ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম এবং নামাজের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কিভাবে ফিজিওথেরাপিউটিক বেনেফিট হয় তা চলুন জেনে নিই।

তাকবির – তাকবিরের সময় কনুই বাঁকানো থাকে ও কাঁধের জয়েন্টটি আলতোভাবে প্রসারিত থাকে। তার পরে কাঁধের শোল্ডার ব্লেড এবং পিঠের নিচের অংশ তাদের স্বাভাবিক শিথিল অবস্থায় ফিরে আসে কেন্দ্রীয় মাংসপেশীর (কোর মাসল) সাহায্যে। এই মাংসপেশীগুলো মেরুদণ্ড সোজা রাখতে ও সোজা হয়ে দাড়াতে
সাহায্য করে। তাকবিরের এই ব্যায়াম বারবার করার ফলে কেন্দ্রীয় মাংসপেশী আরো শক্তিশালী হয়।

কিয়াম – কিয়ামের সময় আমাদের হাত পেটের উপর কোমরের কাছে নামানো থাকে ও আমাদের কাঁধ শিথিল অবস্থায় থাকে। তখন শ্বাসপ্রশ্বাসও থাকে স্বাচ্ছন্দ্যময়। দুপায়ের উপর সমান ভর পড়ে, যাতে কেন্দ্রীয় মাংসপেশী সক্রিয় থাকে।

রুকু – রুকুর সময় কোমর বাঁকানোর ফলে পিঠের নিম্নাংশের মাংসপেশী, উরুর ও পায়ের পেশী সম্পূর্ণরুপে প্রসারিত থাকে। কোমর ও পিঠ বাঁকানো নিয়ন্ত্রন করার ফলে কেন্দ্রীয় পেশীগুলোর ব্যায়াম হয়, রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে উঠার সময়।

সিজদা – সিজদার সময় পিঠের নিম্নাংশের মাংসপেশী সংকুচিত থাকে ও ঘাড়ের পেশীগুলো আমাদের মাথাকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় মাটিতে অবনত করতে ও মাটি থেকে উঠাতে সাহায্য করে। এসময় হাতেও শরীরের ওজন পড়ার ফলে, কাঁধের শোল্ডার ব্লেডেকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।এতে কাঁধ ও কাঁধের রোটেটর কাফকে
শক্তিশালী করে স্থিতিশীল রাখে।

তাশাহহুদ – তাশাহহুদ বা সালাম ফিরানোর আগে বসে থাকার সময় পায়ের পাতা ও পায়ের গোড়ালির পেশী প্রসারিত থাকে, পায়ের আঙ্গুলগুলো সম্প্রসারিত হয়, এবং হাঁটু ও কোমর সংকুচিত থাকে। পিঠের নিম্নাংশ ভালো পশ্চারে (অবস্থানে) থাকার ফলে কেন্দ্রীয় মাংসপেশী আরো শক্তিশালী হয়।

সালাম ফিরানো – সালাম ফিরানোর সময় মাথা ঘুরানোর ফলে ঘাড়ের রেইঞ্জ অফ মোশন বৃদ্ধি পায়। বারবার এই ব্যায়াম করার ফলে, ঘাড়ের পেশীগুলোও প্রসারিত হয়।

ফিজিওথেরাপির ভাষায় নামাজ বা সালাহ একটি হালকা থেকে মাঝারি ধরণের ব্যায়াম যা প্রতিদিন পাঁচবার ১০ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত করা হয়ে থাকে। এতে হৃদস্পন্দন বাড়ে, শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলির শক্তি এবং সহনশক্তি (স্ট্যামিনা) উন্নত হয়।

এই ব্যায়াম শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক (পেইনকিলার) এন্ডোরফিন নিঃসরিত হয় যা ভাল থাকার অনুভূতি দেয় ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ২০০০ সালে প্বেরকাসজিত বেনসন এবং ক্লিপারের রিসার্চে দেখা গেছে যে নামাজ বা প্রার্থনা একতি প্রাকৃতিক “শিথিলকরণ প্রতিক্রিয়া” যা শরীরকে হালকা করে। এটি মানসিক চাপকে হ্রাস করে যা প্রায়শই আমাদেরকে অসুস্থ করে ফেলে এবং ব্যথার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনগুলিও কম সক্রিয় থাকে যা এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে রক্তচাপ ও মানসিক উদ্বেগের উপর উপকারী প্রভাব ফেলে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় মঈনকে প্রধান আসামি করে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় মঈনকে প্রধান আসামি করে মামলা

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে (মঈন) এক নম্বর আসামি করে মামলা দায়ের করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ এপ্রির) রাতে সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ সাবেক যুবদল নেতা মঈনকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আট জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের শেরে বাংলা নগর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী। তিনি বলেন, হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের টিম কাজ করছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী আসামিদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি। পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামি মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।

আরো উল্লেখ করা হয়, এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে বলে ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব’ মর্মে হুমকি সূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয় : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয়, দেশের সম্পদ।

রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পেশাদারিত্বে কোনো আপস না করতে বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশ এবং দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষার যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময় এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচলাবস্থায় সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এরপর দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের সময় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দরবার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্ম, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন।

দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের তথ্য অনুসারে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা।

১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। তার বাবার নাম পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। ভারতের আরেক কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার আপন বড় বোন।

দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত মঞ্চ ব্যক্তিত্ব ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পী। শিশু বয়সে বাবার কাছেই প্রথম সঙ্গীতে তালিম নেন আশা মঙ্গেশকর। তারপর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সচিব গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবী বাদ দিয়ে স্বামীর ‘ভোঁসলে’ পদবি গ্রহণ করেন। তবে গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কারণে মঙ্গেশকর পরিবার তাকে ত্যাগ করে।

এই দম্পতির তিন সন্তান ছিল, তবে তবে তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সমস্যাসঙ্কুল। ১৯৬০ তালে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে গণপতি-আশা দম্পতির। তার ২০ বছর পর ১৯৮০ সালে ভারতের বিখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণ, যিনি নিজেও বলিউডের বিখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত সুরকার-গায়ক ছিলেন— তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আশা।

দীর্ঘ কয়েক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।

বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের অকালমৃত্যু এবং তার জেরে অভব-অনটনের কারণে পরিবারের হাল ধরতে বোন লতার মতো খুব অল্প বয়সে গান গেয়ে উপার্জনের পথে নামতে হয়েছিল আশাকে। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়েছিলেন তিনি। তার পরবর্তী আট দশকে বাংলা, হিন্দি, মারাঠিসহ ২০টি ভারতীয় ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসব গাণের বড় অংশই প্লেব্যাক বা সিনেমার গান।

ভারতীয় সঙ্গীতে অবদান ও কৃতিত্বের জন্য সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি।

শনিবার আশা ভোঁসলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় মোদি বলেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে ভর্তি শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”