খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাবা-ছেলেকে হাতুড়িপেটা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
যশোরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাবা-ছেলেকে হাতুড়িপেটা

নিলয় ধর,যশোর প্রতিনিধি:যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর খবির-উর-রহমান কলেজের এক কর্মচারী ও কলেজের জন্য তার জমিদাতা বাবাকে হাতুড়িপেটা করেছে দুর্বৃত্তরা।

অভিযোগ, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী ও তার ভাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারীর নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো, ওই কলেজের ৫৫ শতক জমিদাতা শেখ আবু বক্কার (৬৭) ও তার ছেলে কলেজটির কর্মচারী শেখ মো. রিপন (৪২)।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারী অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো কলেজের আহত কর্মচারী শেখ রিপনকে ঘটনার জন্য দায়ী করছে।

আহত শেখ রিপন জানান, মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে তিনি কলেজগেটে ছিলেন। এ সময় কলেজের সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, তার ভাই জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারী ও সহযোগী ডা. মিজানুর রহমান খোকনসহ ১৪-১৫ জন কলেজ চত্বরে ঢুকে তাকে হাতুড়ি ও রড দিয়ে বেদম পেটায়। খবর পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা শেখ আবু বক্কার ঘটনাস্থলে এলে তাকেও বেদম পেটানো হয়েছে। পরে খাজুরা ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে সাহায্য করে।

বর্তমানে বাবা ছেলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রিপন অভিযোগ করে, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে সভাপতি নুর মোহাম্মদ লোকজন নিয়ে কলেজের ভেতর সভা করতে আসেন। ওই সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে ‘অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া গেট খোলা যাবে না, বলে শেখ রিপন তাদের জানিয়েছেন। এরপর সভাপতিসহ অন্যরা সেখান থেকে ফিরে যান।

মঙ্গলবার কলেজে ৮৫ লাখ টাকার বহুতল ভবন নির্মাণের জন্যে প্রকৌশলীরা জমি মাপতে এসেছিলেন। তারা ফিরে যাওয়ার পর এ হামলা চালানো হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ শামছুর রহমান জানান, তার কলেজের নারীঘটিত একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক আনিছুর রহমান। তার সঙ্গে শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন, প্রদীপকুমার ও বেল্লাল হোসেন রয়েছেন। ওই চক্রকে হাত করে মোটা টাকার বিনিময়ে আনিছুর রহমান অধ্যক্ষ পদে আসীন হতে চান। এই সব ষড়যন্ত্র নিয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী অঘটন ঘটাচ্ছেন।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারী।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, কলেজের নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার ভাই কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী কর্মচারী রিপনকে ডেকে অধ্যক্ষের সামনে শনিবার কলেজের কক্ষ খুলে না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। ওই সময় কর্মচারী তর্ক শুরু করে। তখন আওয়ামী লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারীর মোটরসাইকেল-চালক একই উপজেলার হলিহট্ট গ্রামের সোবহানের ছেলে জিয়া থাপ্পড় মারেন রিপনকে। তখন রিপনও পাল্টা হামলা করায় উপস্থিতদের রোষের শিকার হন। একপর্যায়ে রিপন দৌঁড়ে কলেজ চত্বর থেকে বেরিয়ে প্রায় ২০০শত গজ দূরে তার বাবা আবু বক্কারের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেন। আবু বক্কার ওই সময় কাচি দিয়ে ঘাস কাটছিলেন। রিপনকে ধাওয়াকারীদের সঙ্গে তার (আবু বক্কার) ধস্তাধস্তি হয়। এতে বক্কার রক্তাক্ত জখম হন।

ধাওয়াকারীদের মধ্যে জিয়া ও বেতালপাড়ার জয়নালের ছেলে শাহিনও জখম হন দাবি করে চেয়ারম্যান বলেছেন, এর মধ্যে জিয়া যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

এদিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) জুম্মন জানিয়েছেন, কলেজে হট্টগোলের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তখন আহত বাবা-ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। তিনি আহতদের স্বজনদের কাছে হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চান। তাকে জানানো হয়, হামলাকারীরা চলে গেছে।পরে অধ্যক্ষকে খাজুরা পর্যন্ত পৌঁছে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তারা।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’

অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানা এলাকায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, র‍্যাব-০৭, সিএমপি এবং বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) উক্ত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাকিব শাহরিয়ার।

উক্ত অভিযানে আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং, গুলবাগ আবাসিক এলাকা, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই হতে সিএম সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল পণ্য বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ প্রায় ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০,০০০ পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে খুলশী থানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ২টি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৬০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬,৭৭,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫,৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।