বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪
ভোলার বোরহানউদ্দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার প্রতিবাদে মুসল্লিদের একটি সমাবেশে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
এসময়সংঘর্ষে চারজন নিহত ও শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় শনিবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বিপ্লব নামের এক যুবককে আটক করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ।
বিপ্লবের বিচারের দাবিতে রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বোরহানউদ্দিন হাই স্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছিল স্থানীয় জনতা।
বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত একটি সমাবেশ চলছিল। এসময় পুলিশ সমাবেশ সময়ের আগে শেষ করতে বলায় জনতা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে।
এতেই সংঘর্ষ বাধে। এসময় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আহত হন কমপক্ষে শতাধিক।
নিহতরা হলেন- মাহাফুজ, মিজান, শাহীন ও মাহবুব। গুলিবিদ্ধরা হলেন- বোরহানউদ্দিনের ছোটমানিকা এলাকার মিজানুর রহমান (৩০), নান্টু (৪০), মাকসুদুর রহমান (১৮), তানভীর (৩০), অলিউল্লাহ (৪০), সিদ্দিক (২৮), তাহের, শামীম ও সোহরাব।
নিহত মাহফুজুর রহমান বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিরাজ পাটোয়ারির ভাই।
ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
রোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহীন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাহফুজ ও মিজানের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছে।
অপরদিকে, ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তৈবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দুই ব্যক্তি মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বোরহানউদ্দিন হাই স্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত একটি সমাবেশে ছিল। পুলিশ সমাবেশ সময়ের আগে শেষ করতে বলায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।


আপনার মতামত লিখুন