খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল চালু করুন:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০, ৭:১১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল চালু করুন:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে করোনা রোগীদের জন্য ঢাকার ন্যায় একটি পূর্ণাঙ্গ কোভিড হাসপাতাল চালু করার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে উত্তর কাট্টলীস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের কর্মপন্থা নির্ধারনী সভায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন প্রাচ্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রাম দ্রুত মৃত্যুপূরীতে পরিণত হচ্ছে। শত অনুনয়-বিনয়ের পরও রোগী ভর্তি করছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলো। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অসহায় স্বজনরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। এক পর্যায়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন রোগী। অথচ তারা একটু মানবিক হলেই অনেকগুলো তাজা প্রাণ বেঁচে যেতো অনায়াসেই। তাই আর কালবিলম্ব না করে আপনারা একটু মানবিক হোন। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় এতোদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো বেসরকারি হাসপাতালগুলো সেজন্য আপনাদের নিকট আমাদের অভিবাদন। অথচ করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে অদৃশ্য কারণে পিছনে হটতে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। অনেক দেন দরবার করেও তাদের মন গলানো যায়নি। কিন্তু মানবতার এক মহান পেশাকে ব্রত করে এ পেশায় এসেছিলেন তারা।

তিনি আঁকুতি জানিয়ে বলেন, আমরা হেলায় ফেলায় অনেক সময় নষ্ট করেছি, অনেক অমূল্য প্রাণও হারিয়েছি। তাই মানুষের জীবন মৃত্যুর এ সন্ধিক্ষণে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি বেসরকারি হাসপাতালকে শুধুমাত্র করোনা রোগীদের চিকিৎসায় উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য বিনীত আহবান জানান তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ব্যবসা বাণিজ্যের একটি উজ্জ্বল কেন্দ্রভূমি। ব্যবসায়িক কারণে প্রতিদিন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে আসা যাওয়া করছে। সে কারণে চট্টগ্রামে প্রতিদিন নতুন নতুন করোনা রোগী সংক্রমিত হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আপনাদেরকেই চালকের আসনে আসীন হতে হবে। এছাড়া সম্প্রতি চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামবাসীর মনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। যে কোন সময় সে ক্ষোভ থেকে অনাকাংখিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে। তাই নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসাসহ নিয়মিত চিকিৎসা প্রদানের কোন বিকল্প নেই। চট্টগ্রামবাসী আপনাদের কাংখিত ফি দিয়েই চিকিৎসা করতে প্রস্তুত, দয়া করে এ অধিকার থেকে কাউকে নিরাশ করবেন না।

তিনি চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবার পথে যারা অন্তরায় তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান।

তিনি মা ও শিশু হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করার জন্য সরকারের সদয় সহযোগীতা কামনা করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালকেও করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার আহবান জানান।

তিনি ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা নমূনা পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে শুরু করার সবিনয় অনুরোধ জানান। করোনা নমূনা পরীক্ষায় ইম্পেরিয়েল হাসপাতালকে এগিয়ে এসে কার্যক্রম শুরু করায় চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করেন তিনি।

তিনি সেবা সংস্থাসমূহকে করোনা মহামারীর ডামাডোলে নাগরিক সমস্যাসমূহ ভূলে না যাওয়ার করজোড়ে আবেদন জানান। দেখা যাচ্ছে যে দেশে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটছে। উকি দিচ্ছে আষাঢ়। নগরবাসীর মনে শুরু হয়েছে অজানা আতংক। আবার বুঝি জলাবদ্ধতায় অমূল্য সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। সম্প্রতি সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তাই করোনার পাশাপাশি জলাবদ্ধতাকেও অধিকতর গুরুত্ব দানের আহবান জানান তিনি।

বিশেষ করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে নগরীর বিভিন্ন খাল নালাকে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রূদ্ধ করা হয়েছে। এতে করে অল্প বৃষ্টিতেই নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। তাই দ্রুততার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষকে একসাথে কাজ করার অনুরোধও জানান তিনি। নচেৎ আগামী বর্ষায় চট্টগ্রামবাসীকে গভীর জলাবদ্ধতায় নিমগ্ন হতে হবে এবং এর দায় তখন কেউ এড়াতে পারবেন না। তাছাড়া মশক নিধন কার্যক্রমও স্থিমিত হয়ে গিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন জনাব সুজন। তিনি বলেন বর্ষা আসতে না আসতেই দেখা যাচ্ছে যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ধরা পড়ছে। তিনি মশক নিধন কার্যক্রমকেও অধিকতর গুরুত্ব দানের জন্য চসিক মেয়রের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেন। এছাড়া নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোড এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের অবশিষ্ট কাজও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করে জনগনকে জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি দানের আহবান জানান।

তিনি বলেন বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে করোনা কেন্দ্রিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বহুল জনবসতিপূর্ণ এই দেশে করোনাভাইরাস সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা হবে মারাত্মক রকমের দুর্যোগ। আর এই ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাই হবে সবচেয়ে বড় কারণ। হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদিকে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।

তিনি করোনা কেন্দ্রিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক অভিজ্ঞ কোন প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দানের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপরও নজর দানের জন্য চসিক মেয়রের প্রতি আহবান জানান।

এছাড়া করোনাকালীন সময়ে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের স্বাভাবিক আয়ের পথ অনেকটা রূদ্ধ হয়ে গিয়েছে। জনগন অনেকটা কষ্ট করে তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপন পরিচালনা করছে। দেখা যাচ্ছে যে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর জনগন বিভিন্ন এনজিও’র উপর নির্ভরশীল। এসব এনজিওতে তারা টাকা জমা রাখে আবার প্রয়োজন সময়ে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করে। ইতিমধ্যে জনগনের দূদর্শার কথা চিন্তা করে ছয় মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। তারপরও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে উঠা বিভিন্ন এনজিও সুদ এবং ঋণের কিস্তির জন্য তাদের গ্রাহকদের হয়রানি করছে। এক্ষেত্রে ঐসব এনজিও বিভিন্ন অমানবিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছে। যা ঐসব গ্রাহকদের জন্য মরার উপর খরার ঘাঁ।

সুজন এসব এনজিওকে আগামী তিন মাস পর্যন্ত সকল প্রকার সুদ এবং ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার উদাত্ত আহবান জানান।

তিনি এসব এনজিওদের গ্রাহকদের প্রতি সংযত আচরণ করার অনুরোধ জানান নচেৎ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুশিয়ারি দেন।

তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা করোনা চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। করোনা চিকিৎসায় পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক এবং নার্স দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করার আহবান জানান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত ঐ সব হাসপাতাল থেকে যাতে আশেপাশের এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখারও অনুরোধ জানান।

সুজন পর্দার অন্তরালে থেকে যে সকল ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি করোনা চিকিৎসায় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া আরো যে সকল সামর্থ্যবান শিল্পপতি এবং শিল্পগ্রুপ হাত গুটিয়ে বসে আছেন তাদেরকে চট্টগ্রামবাসীর এ দূর্যোগে পাশে থাকার করজোড় অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর এ বিপদে আপনারা যদি উদারতার হাত প্রশস্ত করেন চট্টগ্রামবাসীও আপনাদের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়বে আর না হয় চট্টগ্রামবাসী আপনাদের ব্যাপারে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত থাকবে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান মিয়া, নিজাম উদ্দিন, নূরুল কবির, মোরশেদ আলম, মোঃ শাহজাহান, হাফেজ মোঃ ওকারউদ্দিন, শেখ মামুনুর রশীদ, শিশির কান্তি বল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ বাবলু, জমির উদ্দিন মাসুদ, মোঃ ওয়াসিম, উৎপল দত্ত প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই-ই আশা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।

ইসলমাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসমাইল। সাক্ষৎেকারে বাকাই বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই— কেউই এমনটা আশা করেনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব দেওয়ার পর আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।

বক্তব্যের শুরুতেই জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানকে ‘অসাধারণ স্বাগতিক’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার কোনো ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়; বরং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি চুক্তিতে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।

টানা ২১ ঘণ্টার এই আলোচনাকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট একে ইরানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির। আমরা আমাদের সীমারেখা (রেড লাইন) এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া সম্ভব, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী তারা অত্যন্ত নমনীয় ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি।

নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক ইস্যুটিকে এই আলোচনার মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে এই মর্মে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায় যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এছাড়া দ্রুত অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম এমন কোনো প্রযুক্তি বা সরঞ্জামও তারা অর্জন করতে পারবে না।

ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ইরানের আগের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের মধ্যে সেই সদিচ্ছা আছে কি না? আমরা এখন পর্যন্ত সেই সদিচ্ছার প্রমাণ পাইনি। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসায় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি এখন ওয়াশিংটনের পথে রওনা দিচ্ছে।

পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার

পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে পাহাড়ি-সমতলের সব মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সুরক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে নজির রয়েছে, তা বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দেশের বিভিন্ন ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়সহ সব নাগরিকের সমান অগ্রগতি, বিকাশ, নিরাপত্তা ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের সমান অধিকার।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) বনানীতে এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জনসাধারণকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, চাংক্রান, বিষু ও চাংলান উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চল এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান উপলক্ষ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে জানাই বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।”

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সবার ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আমাদের জাতীয় উৎসবেরই অংশ। এসব উৎসব জাতীয় জীবনে শান্তি ও আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের ঐতিহ্যকে গৌরবময়, প্রাচুর্যময় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি ও মিলনের অমিয় বাণী মিশে আছে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যে।

বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব এবং বাংলা নববর্ষ সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে বলেও শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।