খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল চালু করুন:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 13 June, 2020, 7:11 pm
চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল চালু করুন:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে করোনা রোগীদের জন্য ঢাকার ন্যায় একটি পূর্ণাঙ্গ কোভিড হাসপাতাল চালু করার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে উত্তর কাট্টলীস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের কর্মপন্থা নির্ধারনী সভায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন প্রাচ্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রাম দ্রুত মৃত্যুপূরীতে পরিণত হচ্ছে। শত অনুনয়-বিনয়ের পরও রোগী ভর্তি করছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলো। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অসহায় স্বজনরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। এক পর্যায়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন রোগী। অথচ তারা একটু মানবিক হলেই অনেকগুলো তাজা প্রাণ বেঁচে যেতো অনায়াসেই। তাই আর কালবিলম্ব না করে আপনারা একটু মানবিক হোন। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় এতোদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো বেসরকারি হাসপাতালগুলো সেজন্য আপনাদের নিকট আমাদের অভিবাদন। অথচ করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে অদৃশ্য কারণে পিছনে হটতে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। অনেক দেন দরবার করেও তাদের মন গলানো যায়নি। কিন্তু মানবতার এক মহান পেশাকে ব্রত করে এ পেশায় এসেছিলেন তারা।

তিনি আঁকুতি জানিয়ে বলেন, আমরা হেলায় ফেলায় অনেক সময় নষ্ট করেছি, অনেক অমূল্য প্রাণও হারিয়েছি। তাই মানুষের জীবন মৃত্যুর এ সন্ধিক্ষণে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি বেসরকারি হাসপাতালকে শুধুমাত্র করোনা রোগীদের চিকিৎসায় উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য বিনীত আহবান জানান তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ব্যবসা বাণিজ্যের একটি উজ্জ্বল কেন্দ্রভূমি। ব্যবসায়িক কারণে প্রতিদিন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে আসা যাওয়া করছে। সে কারণে চট্টগ্রামে প্রতিদিন নতুন নতুন করোনা রোগী সংক্রমিত হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আপনাদেরকেই চালকের আসনে আসীন হতে হবে। এছাড়া সম্প্রতি চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামবাসীর মনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। যে কোন সময় সে ক্ষোভ থেকে অনাকাংখিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে। তাই নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসাসহ নিয়মিত চিকিৎসা প্রদানের কোন বিকল্প নেই। চট্টগ্রামবাসী আপনাদের কাংখিত ফি দিয়েই চিকিৎসা করতে প্রস্তুত, দয়া করে এ অধিকার থেকে কাউকে নিরাশ করবেন না।

তিনি চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবার পথে যারা অন্তরায় তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান।

তিনি মা ও শিশু হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করার জন্য সরকারের সদয় সহযোগীতা কামনা করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালকেও করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার আহবান জানান।

তিনি ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা নমূনা পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে শুরু করার সবিনয় অনুরোধ জানান। করোনা নমূনা পরীক্ষায় ইম্পেরিয়েল হাসপাতালকে এগিয়ে এসে কার্যক্রম শুরু করায় চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করেন তিনি।

তিনি সেবা সংস্থাসমূহকে করোনা মহামারীর ডামাডোলে নাগরিক সমস্যাসমূহ ভূলে না যাওয়ার করজোড়ে আবেদন জানান। দেখা যাচ্ছে যে দেশে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটছে। উকি দিচ্ছে আষাঢ়। নগরবাসীর মনে শুরু হয়েছে অজানা আতংক। আবার বুঝি জলাবদ্ধতায় অমূল্য সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। সম্প্রতি সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তাই করোনার পাশাপাশি জলাবদ্ধতাকেও অধিকতর গুরুত্ব দানের আহবান জানান তিনি।

বিশেষ করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে নগরীর বিভিন্ন খাল নালাকে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রূদ্ধ করা হয়েছে। এতে করে অল্প বৃষ্টিতেই নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। তাই দ্রুততার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষকে একসাথে কাজ করার অনুরোধও জানান তিনি। নচেৎ আগামী বর্ষায় চট্টগ্রামবাসীকে গভীর জলাবদ্ধতায় নিমগ্ন হতে হবে এবং এর দায় তখন কেউ এড়াতে পারবেন না। তাছাড়া মশক নিধন কার্যক্রমও স্থিমিত হয়ে গিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন জনাব সুজন। তিনি বলেন বর্ষা আসতে না আসতেই দেখা যাচ্ছে যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ধরা পড়ছে। তিনি মশক নিধন কার্যক্রমকেও অধিকতর গুরুত্ব দানের জন্য চসিক মেয়রের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেন। এছাড়া নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোড এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের অবশিষ্ট কাজও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করে জনগনকে জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি দানের আহবান জানান।

তিনি বলেন বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে করোনা কেন্দ্রিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বহুল জনবসতিপূর্ণ এই দেশে করোনাভাইরাস সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা হবে মারাত্মক রকমের দুর্যোগ। আর এই ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাই হবে সবচেয়ে বড় কারণ। হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদিকে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।

তিনি করোনা কেন্দ্রিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক অভিজ্ঞ কোন প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দানের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপরও নজর দানের জন্য চসিক মেয়রের প্রতি আহবান জানান।

এছাড়া করোনাকালীন সময়ে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের স্বাভাবিক আয়ের পথ অনেকটা রূদ্ধ হয়ে গিয়েছে। জনগন অনেকটা কষ্ট করে তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপন পরিচালনা করছে। দেখা যাচ্ছে যে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর জনগন বিভিন্ন এনজিও’র উপর নির্ভরশীল। এসব এনজিওতে তারা টাকা জমা রাখে আবার প্রয়োজন সময়ে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করে। ইতিমধ্যে জনগনের দূদর্শার কথা চিন্তা করে ছয় মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। তারপরও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে উঠা বিভিন্ন এনজিও সুদ এবং ঋণের কিস্তির জন্য তাদের গ্রাহকদের হয়রানি করছে। এক্ষেত্রে ঐসব এনজিও বিভিন্ন অমানবিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছে। যা ঐসব গ্রাহকদের জন্য মরার উপর খরার ঘাঁ।

সুজন এসব এনজিওকে আগামী তিন মাস পর্যন্ত সকল প্রকার সুদ এবং ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার উদাত্ত আহবান জানান।

তিনি এসব এনজিওদের গ্রাহকদের প্রতি সংযত আচরণ করার অনুরোধ জানান নচেৎ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুশিয়ারি দেন।

তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা করোনা চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। করোনা চিকিৎসায় পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক এবং নার্স দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করার আহবান জানান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত ঐ সব হাসপাতাল থেকে যাতে আশেপাশের এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখারও অনুরোধ জানান।

সুজন পর্দার অন্তরালে থেকে যে সকল ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি করোনা চিকিৎসায় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া আরো যে সকল সামর্থ্যবান শিল্পপতি এবং শিল্পগ্রুপ হাত গুটিয়ে বসে আছেন তাদেরকে চট্টগ্রামবাসীর এ দূর্যোগে পাশে থাকার করজোড় অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর এ বিপদে আপনারা যদি উদারতার হাত প্রশস্ত করেন চট্টগ্রামবাসীও আপনাদের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়বে আর না হয় চট্টগ্রামবাসী আপনাদের ব্যাপারে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত থাকবে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান মিয়া, নিজাম উদ্দিন, নূরুল কবির, মোরশেদ আলম, মোঃ শাহজাহান, হাফেজ মোঃ ওকারউদ্দিন, শেখ মামুনুর রশীদ, শিশির কান্তি বল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ বাবলু, জমির উদ্দিন মাসুদ, মোঃ ওয়াসিম, উৎপল দত্ত প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​কারাতের আসল শিক্ষা ভালো মানুষ হওয়া: মুহাম্মদ শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 8:36 pm
​কারাতের আসল শিক্ষা ভালো মানুষ হওয়া: মুহাম্মদ শাহেদ

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, জাপান কারাতে শুধু একটি মার্শাল আর্ট নয়; এটি শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অধ্যবসায়, সৌজন্য ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার একটি অনুশীলন। জাপানি কারাতে ঐতিহ্যে ‘সম্মান’ ও ‘শিষ্টাচার’-এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারাতে আমাদের শেখায়—শুধু শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়াই যথেষ্ট নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও জরুরি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মনোযোগ, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে কারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আজ ৭ সেপ্টেম্বর JKA WF Bangladesh Annual Karate Camp 2026 আয়োজনে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা জিমনেশিয়াম হলে বিকাল ৫ ঘটিকায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (JKA) JKA World Federation Bangladesh-এর আয়োজনে ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জাপানের ঐতিহ্যবাহী কারাতে সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সাংস্কৃতিক交流 বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও কারাতের মতো শৃঙ্খলাপূর্ণ অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পরিশেষে, কারাতে শিক্ষার্থীদের বলব—জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় হলো নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান এবং নিজের চরিত্রকে উন্নত করা। জাপান কারাতের এই সুন্দর ঐতিহ্য আরও বিস্তৃত হোক, আমাদের তরুণ সমাজ সুস্থ, সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে গড়ে উঠুক—এই প্রত্যাশা করছি।

ক্যাম্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে JKA Headquarters-Gi Technical Director ও ৮ম ডানধারী শিহান কাতসুতোশি শিনা বিশেষ কারাতে সেমিনার পরিচালনা করছেন। তাঁর সরাসরি নির্দেশনায় অংশগ্রহণকারী কারাতেকা ও প্রশিক্ষকরা জাপানিজ শটোকান কারাতের বিভিন্ন উন্নত কৌশল, কাতা, কুমিতে ও কারাতে টেকনিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

ক্রীড়া সংগঠক তানভির মল্লিকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন JKA WF Bangladesh’ এর কান্ট্রি হেড ও বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টুলু উস শামস্। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান মুহাম্মদ শাহেদকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো জানান (JKA) I JKA World Federation Bangladesh.

সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রতন তালুকদার ও মারিয়া চক্রবর্তী, অরূপ বড়ুয়া, জাফর আহমদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, নজরুল ইসলাম, মোঃ নওশাদ, মঞ্জুর আলম, হাবিব উল্লাহ খান রাজু, মোর্শেদ কামাল, একরাম ছিদ্দিকী, মঈন উদ্দীন খান রাজিব, শফিউল বাশার সামু, আবু কাউসার, ফারুক খান, মাহবুব আলম, ফারুক ও প্রশিক্ষাণার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ।

অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র্যাকিং

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 8:22 pm
অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র্যাকিং

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি ডিজিটাল, নিবন্ধিত ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুতই নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। এই নীতিমালার অধীনে প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে, যাতে একটি নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি তুলে দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক রিকশা চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে চালু থাকা ৫০টি এআই নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার সুফল ও অটোরিকশার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরে নোটিশ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর সড়কে লাল বাতি অমান্য করা, লাইন পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর মতো অনিয়ম অনেকাংশেই কমে এসেছে। কিন্তু হতাশাজনক বিষয় হলো, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলছে। এসব যানের কোনো নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় অনিয়ম শনাক্ত হলেও জরিমানা করা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, ঢাকা শহরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা প্রধান সড়কগুলোতেও ঢুকে পড়ছে। সঠিক কাঠামোগত নকশা না থাকায় প্রায়ই এসব বাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তবে কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই অটোরিকশা পুরো বন্ধ না করে তাদের কাঠামোগত পরিবর্তন, নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

নোটিশের বিপরীতে দেওয়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানগুলো গ্রামীণ ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম খরচ ও সহজ যাতায়াতের কারণে যেমন সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, তেমনি চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবা দাতাসহ একটি বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব রিকশায় যে ক্ষতিকারক লেড-এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং এর অনিরাপদ রিসাইক্লিংয়ের কারণে যে ধোঁয়া ও সিসা নির্গত হয়, তা বাতাস, মাটি ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এমনকি আশেপাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি শিল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশেই যুক্ত ছিল অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।

বর্তমান আইনি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ঢাকা শহরের ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ায় তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে, যা পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ পেয়ে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, তিনি রিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন কেবল ঢাকাতেই অন্তত ৩০০টি নতুন অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এদের পেছনে খরচ হচ্ছে, যা বর্তমান লোডশেডিংয়ের একটি প্রধান কারণ। তিনি বাহন জব্দ করা, ডাম্পিং কিংবা পুলিশের হয়রানি বন্ধ করে এগুলোকে ভেতরের গলির রাস্তায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, বিআরটিএ নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক জোনিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন। শেষ পর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এই সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঠিক কবে নাগাদ তৈরি ও বাস্তবায়িত করা হবে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া আলোচনার সূত্রে সংসদকে নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ও নীতিমালা এরইমধ্যে প্রণীত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক চূড়ান্ত হওয়া এই নীতিমালায় রূপরেখা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে কোনো চালকের কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়।

মন্ত্রী জানান, নীতিমালার অধীনে একটি ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে কিউআর কোড এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু থাকবে, যাতে একটি নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি তুলে দিয়ে ডিজিটাল পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারে কঠোর শর্ত দেওয়া হবে।

শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঈমানদারিতার সঙ্গে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অতি দ্রুত এই নীতিমালার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটাবে।