খুঁজুন
, ,

ন্যাশনাল অলিম্পিয়াড বিজয়ী মেধাবী সুশান্ত; মায়ের মৃত্যুর পর চেপেছিল ডিপ্রেশন ভূত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 15 June, 2020, 12:13 am
ন্যাশনাল অলিম্পিয়াড বিজয়ী মেধাবী সুশান্ত; মায়ের মৃত্যুর পর চেপেছিল ডিপ্রেশন ভূত

বহুদিন ধরে বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আচার আচরণও ইন্ট্রোভার্টের মত। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনই মুখ খুলতে চাননি তিনি। তখনই মানসিকভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।

সম্ভব ছিল না কারও পক্ষে বোঝা। খুব কম কথার মানুষ ছিল বলেই জানত বন্ধুরা। মানসিক অবসাদ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। যারা মানসিক অবসাদে ভোগা মানুষদের পাগল বলে দাবি করে, তারা খুনির মতনই সমান দোষী। ছাত্র হিসেবে বিরল, অভিনেতা হিসেবেও তাই, কীভাবে সুশান্ত ঢোলে পড়লেন মানসিক অবসাদের কোলে।

ছাত্র হিসেবে তাঁর তুলনা হয় না। স্কুল-কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকার বড়ই প্রিয় ছিল সে। পাটনার সেন্ট ক্যারেন স্কুল এবং নয়া দিল্লির কুলচি হংসরাজ মডেল স্কুলে পড়াশুনা করেছিলেন তিনি।

কেবল স্কুলজীবনেই নয় কলেজেও তাঁর পড়াশুনা নিয়ে রীতিমত সুনাম ছিল। পাটনা থেকে দিল্লি আসার সময় তাঁর মা প্রয়াত হন। মায়ের চলে যাওয়া ভিতর থেকে শেষ করে দিয়েছিল তাঁকে।

সুশান্ত সিং রাজপুত(আত্মহত্যার পর)

কেবল স্কুলজীবনেই নয় কলেজেও তাঁর পড়াশুনা নিয়ে রীতিমত সুনাম ছিল। পাটনা থেকে দিল্লি আসার সময় তাঁর মা প্রয়াত হন। মায়ের চলে যাওয়া ভিতর থেকে শেষ করে দিয়েছিল তাঁকে।

তবে হাল ছাড়েননি সুশান্ত। মন দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যান তিনি। ফিজিক্সে ন্যাশানাল অলিম্পিয়াডের বিজেতা ছিলেন তিনি। তবে মোটা মোটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বইয়ের মাঝে হাতছানি দিয়েছিল থিয়েটারের স্টেজ।

বইগুলো খোলা রেখেই কখন যে থিয়েটার এবং নাচের জগতে পাড়ি দেন নিজেও বোঝেননি। এদিকে পড়াশুনোয় মারাত্মক ক্ষতি হতে শুরু করল। অবশেষে লেখাপড়াকে একেবারে উপড়ের ট্রাঙ্কে তুলে দিয়ে নতুন পথচলা শুরু।

দিল্লি টেকনলজিকাল বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন শামক দাওয়ারের ডান্স ক্লাসে ভর্তি হন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে লাগল তাঁর।

অভিনয়ের প্রতি প্যাশন অনুভব করে তিনি বলেছিলেন, “আমি এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা খুঁজে পেয়েছিলাম। দর্শকের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে, নাচের মাধ্যমে কথোপকথনে বুঝলাম এটাই করতে চাই আজীবন।”

আজীবন আর হল কই। কীসের কারণ এত তাড়াতাড়ি হাল ছেড়ে দিলেন সুশান্ত। শেষ ছবি ‘ছিছোড়ে’ আত্মহত্যা, মানসিক অবসাদ নিয়ে গল্প বুনেছিল।

সেই ছবির হিরোরই ঝুলন্ত দেহ এই ভাবে বান্দ্রার বাড়িতে পাওয়া যাবে কেউ ভাবেনি। শামাকের ডান্স ট্রুপে নাচ করার সুযোগ হতেই ৫১ তম ফিল্মফেয়ারে ব্যাকআপ ডান্সার হিসেবে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে পারফর্ম করেন।

অভিষেক কাপুরের কাই পো ছে ফিল্মের হাত ধরে বলিউডে পদার্পণ সুশান্তের। রাজকুমার রাও এবং অমিত সাধের অভিনয়কে ছাপিয়ে গেল সুশান্তের প্রতিভা।

একের পর এক বড়ো ব্যানারের ছবির প্রস্তাব আসতে শুরু করল তাঁর কাছে। সুদ্ধ দেশি রোমান্স, পিকে, ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সী, এমএস ধোনি, রাবতা।

তবে অধিকাংশ ছবিই বক্স অফিসে তেমন কামাল দেখাতে পারল না। সেই কারণেই কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অভিনেতা। নাকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানাপোড়েনেই তাঁকে ঠেলে দিল মৃত্যুর দিকে। স্যুইসাইড নোট ছিল না ঘরে। তাই কারণটা বোধহয় রহস্যেই মাঝেই চাপা পড়ে গেল।
তবে অধিকাংশ ছবিই বক্স অফিসে তেমন কামাল দেখাতে পারল না। সেই কারণেই কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অভিনেতা। নাকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানাপোড়েনেই তাঁকে ঠেলে দিল মৃত্যুর দিকে। স্যুইসাইড নোট ছিল না ঘরে। তাই কারণটা বোধহয় রহস্যেই মাঝেই চাপা পড়ে গেল।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিভাবান অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।

সব কিছু শেষ হওয়ার আগেও ১৭ বছর আগে মারা যাওয়া মাকেই আঁকড়ে ধরেছিলেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত। নিজের সমস্ত আবেগ উজাড় করে দিয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর যখন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র, সেইসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর করা শেষ পোস্টেই চোখ আটকে যাচ্ছে। পড়লে বোঝা যাচ্ছে, মন ভাল ছিল না সুশান্তের।

কৈশোরে মাকে হারিয়েছিলেন সুশান্ত। তারকা হয়ে যাওয়ার পরেও সেই আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। একাধিক বার সংবাদমাধ্যমে নিজেই সে কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাকে নিয়ে পোস্টও করতেন তিনি।

গত ৩ জুন ইনস্টাগ্রামে শেষ পোস্টটিও মাকে নিয়েই করেন সুশান্ত। মায়ের সঙ্গে নিজের ছবির কোলাজ পোস্ট করে লেখেন, ‘‘চোখের জলে ঝাপসা হচ্ছে স্মৃতিগুলো /অথচ স্বপ্নের নিরন্তর আনাগোনা স্মিত হাসির মতো ঠোঁটে লেগে থাকে / বহমান জীবন,এই দুইয়ের সঙ্গে বোঝাপড়া…মা।’’

ঠিক কী কারণে সুশান্ত আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অবসাদে ভুগছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। এর আগেও মায়ের উদ্দেশে তাঁর করা পোস্টে অবসাদের ছায়া ধরা পড়েছে। ২০১৭-য় টুইটারে মায়ের উদ্দেশে হাতে লেখা একটি চিঠি পোস্ট করেন তিনি। তাতে তিনি লেখেন, ‘‘চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে, আমিও কথা দিয়েছিলাম, যাই হোক না কেন মুখে হাসি ধরে রাখব। মনে হচ্ছে আমরা দু’জনেই ভুল ছিলাম মা।’’

রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।