খুঁজুন
, ,

হাসপাতালে-হাসপাতালে ঘুরেছি/আকুতি মিনতি করেও চিকিৎসা জুটেনি, বাঁচাতে পারলাম না বাচ্চাকে!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 17 June, 2020, 8:10 am
হাসপাতালে-হাসপাতালে ঘুরেছি/আকুতি মিনতি করেও চিকিৎসা জুটেনি, বাঁচাতে পারলাম না বাচ্চাকে!

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। বিশেষ প্রতিবেদন : চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানা এলাকায় অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয়েছে চার বছরের শিশু শাওন। তার নাক দিয়ে ব্লিডিং শুরু হলে স্বজনরা তাকে নিয়ে প্রথমে ছুটে যান নিকটস্থ বেপজা হাসপাতালে।

অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে শিশুটিকে নিয়ে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ছুটে গেলেন স্বজনরা। সেখানেও চিকিৎসা জুটেনি। এরপর আহত শিশুটিকে নিয়ে স্বজনরা ছুটে গেলেন সাউথ পয়েন্ট হাসপাতালে। সেখানেও জুটেনি তার চিকিৎসা!

অবশেষে তাকে নিয়ে শেষ ভরসাস্থল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও ততক্ষনে শিশু শাওনের দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শিশুর স্বজনদের কঠিন কথাটি শুনালেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বললেন শিশু শাওন আর বেঁচে নেই।হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা পায়নি শাওন

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটলেও আহত শিশুটিকে নিয়ে তার একটু সুচিকিৎসা ব্যবস্থার করার জন্য স্বজনরা বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সময় নষ্ট করেছেন শুধুমাত্র এ হাসপাতাল টু ওই হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে। এমন শংকটাপণ্ন অবস্থার পরও কোন হাসপাতালের মন গলাতে পারেনি শিশু শাওনের পরিবার।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চার বছরের শিশু বাচ্চার চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার এমন অভিযোগ করে শাওনের বাবা জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ছেলে শাওন আজ মঙ্গলবার দুপুরে পতেঙ্গা এলাকায় অটোরিকশার সাথে ধাক্কা খেলে গুরুতর আহত হয়। তার নাক দিয়ে ব্লিডিং শুরু হলে তাকে প্রথমে নিকটস্থ বেপজা হাসপাতালে নেয়া হয়।

এরপর তাকে নিয়ে নগরীর আরো দুটি হাসপাতালে ঘুরেছি। কোনো হাসপাতাল ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার পৌনে ৩টার দিকে যখন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলো তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক জানালেন শিশু শাওন আর নেই! এক ঘণ্টার মধ্যে যদি তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হতো তাহলে শাওন সুস্থ হয়ে যেতো বলে দাবী তার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু শাওনের স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠে হাসপাতালের পরিবেশ। শিশুটির বাবা জাহিদ হোসেন কান্না করতে করতে গণমাধ্যমকে বলেন, এত আকুতি মিনতি করেও আমার বাচ্চাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমার শিশু পুত্রটির এমন কি অপরাধ ছিলো যে চিকিৎসা না পেয়ে মরতে হলো। এর চেয়ে ব্যর্থতা কি হতে পারে।

এদিকে হাসপাতালের স্ট্রেচারে রাখা শাওনের মরদেহ নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন স্বজনরা। নানা তার নাতি হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে গড়াড়ড়ি খাচ্ছেন। এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।

জানা যায়, গ্রামের বাড়ি রংপুর হলেও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় থাকেন শিশু শাওনের পরিবার। শাওনের মরদেহ রংপুর নিয়ে যাবে এবং সেখানেই দাফন কাজ সম্পন্ন করবে বলে জানালেন নিহত শাওনের পরিবার।

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির পর থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসার অভাবে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও একটি আইসিইউ বেডের অভাবে মৃত্যু হয়েছে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর।

হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে স্বজন হারানোর অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার পরিবারও। হাইকোর্টের আদেশ, সরকারি নির্দেশ, মেয়রের হুমকি জনগণের প্রবল প্রতিবাদেও এই করোনাকালে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর যেন মন গলছে না!

২৪ ঘণ্টা/রাজীব প্রিন্স

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।