করোনায় হেরে গেলেন আরো এক চিকিৎসক/শেষ যাত্রা নিজ কর্মস্থল মেট্রোপলিটন হাসপাতালেই
২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : করোনায় হেরে গেলেন চট্টগ্রামের আরো এক চিকিৎসক ডা নূরুল হক। মানুষের জীবন রক্ষার এই করোনাযোদ্ধা ইন্তেকাল করলেন নিজ কর্মস্থল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে। আজ বুধবার সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)।
করোনা উপসর্গ থাকা ডা. নুরুল হকের শরীরে অক্সিজেন সিস্যুরেশন কমে গেলে তাকে গত ১৪ জুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিও’তে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি আজ ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে চীর বিদায় নিয়েছেন।
চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনের মৃত্যুবরণ করা ৩৭ তম চিকিৎসা যোদ্ধা ডা নূরুল হক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. নুরুল হক মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম দৈয়ার পাড়ার সন্তান।
তিনি গত ১৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছিলেন। নূরুল হকের স্ত্রী, ৫ বছর বয়সী সন্তান ও আড়াই বছর বয়সী কন্যা সন্তান ছাড়াও মা, এক ভাই ও ৫ বোন রয়েছে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলা চট্টগ্রাম ব্যুরোতে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক আবুল হাসনাত তথ্যটি নিশ্চিত করেন। তিনি এ চিকিৎসকের মৃত্যুতে দুঃথ প্রকাশ করে তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, সহজ-সরল নির্লোভ, তরুণ মানবিক এই চিকিৎসক ছিলেন অনেকের মতো আমারও চিকিৎসক ও চিকিৎসা পরামর্শক।
আর তাঁকে ফোন করা হবে না। বলা হবে না নূরুল হক ভাই কেমন আছেন? এইতো মৃত্যুর দু’দিন আগেও একটু সুস্থ বোধ করলে ফোনে তার সাথে শেষ কথা হয়। জানালেন, এখন কিছুটা ভালো আছেন।
সর্বশেষ ডা. নূরুল হক আমার ফোনের জবাব দিয়েছিলেন হাসপাতাল বেডে শুয়ে মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে ১৫ জুন সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে। ৪৩ সেকেন্ড কথা হয় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে। তখন বলেছিলেন, এখন ভালো লাগছে।
মৃত্যুর সপ্তাহখানেক আগে কথা প্রসঙ্গে করোনা পরিস্থিতিতে নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে অনেক অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন এই চিকিৎসক।
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক ডা. মো. সেলিম বলেন, গত ১৪ জুন থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আমাদেরই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুরুল হক। গতকাল থেকে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ ভোরে তিনি মারা যান।
তিনি বলেন মৃত্যুর আগে তার করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে জানা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা। তবে তার মধ্যে করোনার অনেক উপসর্গ ছিল।
প্রসঙ্গত: এই মানুষটা গত আড়াইমাস ধরে করোনা আক্রান্ত অন্তত ২০ জন মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। আক্রান্তদের সংস্পর্শ থেকে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন করোনা উপসর্গে। সপ্তাহখানেক আগে বলছিলেন, লক্ষণ বলছে আমি করোনা আক্রান্ত। অল্প সময়ের ব্যবধানেই চলে গেলেন।
চমেকের ছাত্র জীবন থেকেই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সাথে নিজেকে জড়ান ডা. নূরুল হক। ডাক্তারী পাশের পর ওই হাসপাতালই ছিল বলতে গেলে তার ঘর-বাড়ী। কখনো অপারেশন থিয়েটার, কখনো আইসিইউ ইউনিট, কখনো জরুরী বিভাগে। সবখানে ছিল ডা. নূরুল হক। ফোন ধরতে না পারলে নিজেই ফোন ব্যাক করতেন।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে দিক। তার অবোধ দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রী সহ স্বজনদের ধৈয্য ধারণ করার তওফিক দিক।
২৪ ঘণ্টা/রাজীব প্রিন্স


আপনার মতামত লিখুন