খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাউজানে আইসোলেশন সেন্টার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করলেন সাংসদপুত্র ফারাজ করিম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
রাউজানে আইসোলেশন সেন্টার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করলেন সাংসদপুত্র ফারাজ করিম

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম):বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে বাংলাদেশে। সারাদেশের মতো রাউজানেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চট্টগ্রাম জেলার সর্বশেষ উপজেলা হিসেবে রাউজানে করোনা অাক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় পর এ পর্যন্ত শতাধিক ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।

বাংলাদেশে প্রথম আক্রান্ত ধরা পড়ে চলতি বছরের ৮ মার্চ। এরপর আর থেমে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিভিল সার্জন কার্যালয় চট্টগ্রামের ১৭ জুনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭৬৩ জন। চট্টগ্রাম মহানগর সহ সবকটি উপজেলায় সমানতালে দিনের পর দিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে করোনা চিকিৎসা সেবায় বেহাল অবস্থা প্রতীয়মান। আই.সি.ইউ, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর মিছিল দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জনমনে। শুধু তাই নয়, ক্রিটিক্যাল ক্রাইসিসের রোগীরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে হন্য হয়ে ঘুরেও ভর্তি হতে পারছে না। এই দায়িত্ব যেন কারো নয়। অনেকে মনে করছেন অভিভাবকহীন চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের এই করুণ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উপজেলার দূরদূরান্তের অসহায় অসুস্থ মানুষগুলো চিকিৎসা সেবা নিয়ে যখন দুর্দশাগ্রস্থ করোনাকালীন এই দুঃসময়ে রাউজানকে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ভাবলেন রাউজানের সাংসদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী।

করোনা ক্রান্তিলগ্নের শুরু থেকেই বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিয়েছেন একের পর এক মানবিক উদ্যোগ।

তার প্রশংসনীয় বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ছিল রাউজানে কর্মহীন মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগাড়ী করে বিনামূল্যে মাছ ও শাকসবজি সরবরাহ, পুরো রমজান মাসব্যাপী চট্টগ্রামের প্রতিটি হাসপাতালে প্রতিদিন ২ হাজার ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে সেহেরীর খাবার সরবরাহ।

এছাড়াও, হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছেন স্বাস্থ্য সামগ্রী। দায়িত্ব নিয়েছেন রাউজানে মৃত্যুবরণকারী করোনা রোগীদের দাফন ও অন্তষ্টিক্রিয়ার। সবকটি উদ্যোগই ছিল মহৎ। প্রশংসা কুড়িয়েছেন সর্বমহলে।

এতসব কিছু করার পরও থেমে যাননি তিনি। এবার নিয়েছেন এক নতুন উদ্যোগ। রাউজানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিপূর্ণ আইসোলেশন সেন্টার তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি রাউজানের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। যিনি ১০ টাকা দিতে পারবেন তাকেও আহবান করেছেন যিনি ১০,০০০ টাকা দিতে পারবেন তাকেও আহবান করেছেন।

প্রতিনিয়ত তিনি তার ফেসবুক পেইজে মানুষের কাছে টাকা, স্বাস্থ্য সামগ্রী, অক্সিজেন সিলিন্ডার, বেড ইত্যাদি চেয়ে যাচ্ছেন। কারণ তিনি জানেন এতবড় কর্মযজ্ঞ কখনো একার পক্ষে সম্ভব না। আহবান করেছেন রাউজানের ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। নিজের মাতৃভূমিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে আকুল আবেদন করে যাচ্ছেন। আশার আলো এটাই যে রাউজানের সর্বস্তরের মানুষ ও ডাক্তার, নার্স তাকে দারুণভাবে সাড়া দিয়েছেন। তার ফেসবুক ওয়ালে লক্ষ্য করলেই তা বুঝা যায়। একজন রাজমিস্ত্রি কমেন্ট করে তার একদিনের বেতনের টাকা আইসোলেশন সেন্টারের জন্য দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন ফারাজ ভাই এ পর্যন্ত যে কয়টি উদ্যোগই নিয়েছেন সবকয়টিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এই উদ্যোগও বাস্তবায়িত হবে। স্বাস্থ্যসেবা পাবে রাউজান সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার অনেক অসহায় রোগী। অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে মারা যাবেনা অনেক প্রিয়জন। সেই প্রত্যাশা সকলের।

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, “রাউজানের সাংসদ এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী ও তার জ্যেষ্ঠ সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় সুলতানপুর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করার যাবতীয় কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”

এই কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়কারী রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌর প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, “সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা আগামী জুলাই মাসের শুরুতেই আমাদের আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। এজন্য আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।”

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।