খুঁজুন
, ,

১০ জেলার রেড জোন ঘোষিত এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 June, 2020, 6:48 am
১০ জেলার রেড জোন ঘোষিত এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, কুমিল্লাসহ দেশের ১০টি জেলায় যেসব এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে সেসব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এই ছুটি ২১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

রবিবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে এই ছুটির কথা জানানো হয়। সাধারণ ছুটি চলাকালীন সাপ্তাহিক ছুটিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঠানো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকার সংক্রমক রোগ আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দেশের কিছু এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রেড জোনভুক্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

এই আদেশে বলা হয়েছে, রেড জোন এলাকায় বসবাসরত সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত, আধা-শায়ত্ত্বশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান, সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই সাধারণ ছুটি প্রযোজ্য হবে। রেড জোনভুক্ত এলাকায় বসবাসকারী এবং ওই এলাকায় কর্মরত অন্য এলাকা থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতাভুক্ত থাকবেন।

তবে জরুরি পরিষেবা এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে অনুযায়ী যেসব এলাকায় সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে সেগুলো হল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাট্টালি এলাকা (বিসিক শিল্প নগরী ব্যতিত)। বগুড়া পৌরসভার চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, নারুলী, জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর, মালতিনগর, ঠনঠনিয়া , হাড়িপাড়া ও কলোনী এলাকা। চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পরাণপুর গ্রামের রিফিউজি কলোনী ও ৭ নং ওয়ার্ডের থানা পাড়া এলাকা।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ক্যাথলিক মিশন রোড, রুপশপুর, সবুজবাগ, মুসলিমবাগ, লালবাগ, বিরামইপুর এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কালীঘাট রোড ও শ্যামলী এলাকা।

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর, কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর এবং কুলাউড়া পৌরসভার মাগুরা রোড ও মনসুর এলাকা।

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তরে বালু ব্রীজ, দক্ষিণে কায়েতপাড়া, পূর্বে কায়েতপাড়া এবং পশ্চিমে কাঞ্চন পৌরসভা।

হবিগঞ্জের হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, চুনারুঘাট উপজেলার ৩ নম্বর দেওরগাছ ইউনিয়ন, ৭ নম্বর উবাহাটা ইউনিয়ন, ৯ নম্বর রাণীগাঁও ইউনিয়ন এবং চুনারুঘাট পৌরসভা। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভা এলাকা।

মুন্সীগঞ্জ জেলার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন মাঠপাড়া এলাকা।

কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অর্ন্তগত ৩ নং ওয়ার্ডের কালিয়াজুরি, রেসকোর্স শাসনগাছা, ১০ নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা, কান্দিপাড়া, পুলিশ লাইন, বাদুরতলা, ১২ ওয়ার্ডের নানওয়ার দিঘীর পাড়, নবাব বাড়ি চৌমুহনী, দিগাম্বরীতলা এবং ১৩ নং ওয়ার্ডের টমটম ব্রীজ, থিরাপুকুরপাড় ও দক্ষিণ চর্থা এলাকা।

যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, পিয়ারা ও বঘুটিয়া ইউনিয়ন এবং অভযনগর পৌরসভার ২, ৪,৫,৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা, চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা, ঝিকরগাছা উপজেলার ঝিকরগাছা পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা, কেশবপুর উপজেলার কেশবপুর পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা, যশোর পৌরসভার ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা এবং সদর উপজেলার আরবপুর ও উপশহর ইউনিয়ন, শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও শার্শা ইউনিয়ন এবং ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়ন।

মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর পৌরসভার ১,২,৩,৪,৫,৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা, সদর উপজেলার বাহাদুরপুর, দুধখালী, ঝাউদি, মস্তফাপুর, রাস্তি ও কেন্দুয়া ইউনিয়ন, শিবচর উপজেলার শিবচর পৌরসভার ১,৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা এবং শিবচর, দ্বিতীয় খন্ড, বহেরতলা দক্ষিণ, বাঁশকান্দি, ভদ্রাসন, কাদিরপুর, মাদববেরচর ও পাঁচ্চর ইউনিয়ন। কালকিনি উপজেলার কালকিনি পৌরসভার ১,৪,৫,৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা এবং ডাসার, গোপালপুর, আলীনগর ও শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন। রাজৈর উপজেলার রাজৈর পৌরসভার ১,২,৩,৫, ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা এবং বদরপাশা, আমগ্রাম, কবিরাজপুর ও হোসেনপুর ইউনিয়ন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।