খুঁজুন
, ,

রাউজানের সাংসদ পুত্র ফারাজ করিম করোনায় আক্রান্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2020, 8:28 pm
রাউজানের সাংসদ পুত্র ফারাজ করিম করোনায় আক্রান্ত

রাউজান প্রতিনিধি : রাউজানের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র তরুন সমাজসেবক ফারাজ করিম চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনা পরীক্ষার জন্য রাজধানীতে ফারাজ করিম চৌধুরীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার বিকেল চারটার দিকে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। জ্বর ও হালকা কাশি থাকলেও সাংসদপুত্রের অন্য কোনো উপসর্গ নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় আইসোলেশনে আছেন তিনি।

নিজের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজে এক স্ট্যাটাস এ ফারাজ করিম চৌধুরী লেখেন,” কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম আমার করোনা রেজাল্ট পজিটিভ। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ খেলেও আমি ভরসা করছি মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের উপর। হতে পারে গতবছর আমার নিউমোনিয়া হওয়ায় এবং বর্তমানে কোভিড এর কারণে আমার নিঃশ্বাস হালকা ভারী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আমি পুরোপুরি একা আছি।

আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রম পরিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে সকল কিছু আমি ফোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবো। আমার জন্য চিন্তা করবেন না তবে হ্যাঁ, অবশ্যই দোয়া করবেন। যারা আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাদের জন্য যথেষ্ট।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর থেকে রাউজানসহ চট্টগ্রামে করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শুরু থেকেই বেশ কিছু মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন ফারাজ করিম।

শুরুতেই মাস্ক, ডেটল, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন উপকরণ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে বিতরণ করার পর রাউজানের প্রত্যন্ত জনপদে উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে এলাকার হত দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষসহ নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবার সমূহের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিগত রমজান মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীর জন্য প্রতিদিন দুই হাজার করে মোট ৬০ হাজার প্যাকেট সেহেরির খাবার বিতরণ কর্মসূচি সারাদেশে প্রশংসিত হয়।

রাউজানে করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়তে থাকায় রাউজানের প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপজেলার ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সুলতানপুর আইসোলেশন সেন্টারে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করা হয়।

বর্তমানে সাংসদপুত্রের উদ্যোগে সুলতানপুর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টার গঠনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

একজন সাংসদপুত্র হয়ে শুধু রাউজান নয় দেশের বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বোচ্চার থাকেন তিনি।

এছাড়া উপজেলায় মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে হেল্পডেস্ক গঠন করে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি।

দেশে চলমান করোনার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুবরণকারী সকল ধর্মের মানুষের দাফন-কাফন ও সৎকার কাজের জন্য নিজ উদ্যোগে গঠন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আশার আলো।

মানবিক কাজে বরাবরের মতো প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করা উদীয়মান এই রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবকের করোনা পজেটিভ আসার সংবাদে সাংসদপুত্রের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অগুণিত মানুষ। সবার প্রত্যাশা করোনামুক্ত হয়ে মানবিক এই যোদ্ধা আবার সামিল হবেন নতুন কোনো উদ্যোগ নিয়ে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/নেজাম

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।