বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, আসামি ৫ হাজার-আটক ১৫
ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলায় ১৫ জনকে আটক করার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
রোববার দিনগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ১৮, তারিখ ২০-১০-২০১৯। এতে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ সাব্বির হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো উপজেলায় পুলিশের পাশাপাশি, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।এক পর্যায়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়া কেন্দ্র করে দিনভর এ সংঘর্ষ হয়।
এতে অন্তত দুজন ছাত্রসহ চারজন নিহত এবং ৩০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত ৪৫ জনকে ভোলা সদর ও ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে।
এদিকে ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কাউসার জানান, ফেসবুকে এ কটূক্তির ঘটনায় হিন্দু বিপ্লব চন্দ্র শুভ, মো. শাকিব ও লিমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নং ১৭) দেয়া হয়। এ মামলায় তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।


আপনার মতামত লিখুন