খুঁজুন
, ,

সীতাকুণ্ডে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্মহত্যার ঘটনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2020, 6:31 pm
সীতাকুণ্ডে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্মহত্যার ঘটনা

কামরুল ইসলাম দুলু : সীতাকুণ্ডে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্মহত্যার ঘটনা। গত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে নয়টি এবং রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে একটি।

চলতি বছরে এইসব আত্মহত্যা জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। কারণ হিসেবে যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন, সম্পর্কের জটিলতা, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও দায়ী করছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।

বছরের প্রথম আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নে। ১০ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কহলে মির্জানগর জেলে পাড়ায় আত্নহত্যা করে অপু জল দাস (২৮)। দ্বিতীয় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ভালোবেসে বিয়ে করে স্বামীর যৌতুক দাবীতে নিজ ঘরে আত্নহত্যা করে তুষা আক্তার(১৮)।

২৮ ফেব্রুয়ারি সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকায় নিজ ঘর থেকে শারমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্বার করে পুলিশ। ১৭ই মার্চ ভাটিয়ারী ইউনিয়নে আত্মহত্যা করে মোহাম্মদ শামীম (৪০) নামের এক ভ্যান চালক। হাইওয়ে পুলিশ তার অটোরিকশাটি থানায় নিয়ে গেলে রাগে-ক্ষোভে সে আত্নহত্যা করে।

এর পরের মাসেই ৮ দিনের ব্যবধানে ঘটেছে তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা। ৪ মে এক ঘন্টার ব্যবধানে দুটি ইউনিয়নে দুই গৃহবধূ আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে সবার মাঝে। বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহেদা আক্তার (২৬) ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে আয়রিন আক্তার (২১) আত্নহত্যা করে। এর আট দিন পর গুলীয়াখালীতে শহিদুল ইসলাম (২৭) নামে আরেক যুবক আত্মহত্যা করে। এছাড়া জুন মাসে ঘটেছে দুটি আত্মহত্যার ঘটনা। ১৭ জুন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে আত্মহত্যা করে আলাউদ্দিন (৩১) নামে এক যুবক। তার দু দিনের মাথায় কুমিরাতে স্বামীর সাথে অভিমানে আত্মহত্যা করে অন্তঃসত্তা সুষ্মিতা (৩৫) নামের এক গৃহবধু।

সর্বশেষ ২৫ জুলাই মুরাদপুর ইউনিয়নে তানিয়া আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী মায়ের সাথে অভিমানে আত্মহত্যা করে।

সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন পারিবারিক অশান্তির, যার পেছনে করণ গুলো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দিকে মনোনিবেশ এবং পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া এবং সময় না দেওয়ার প্রবণতা। এমনকি দারিদ্রতা বেকারত্ব এবং মানসিক চাপের প্রভাব তো রয়েছে। মানসিক চাপমুক্ত থাকা এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা গেলে আত্মহত্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

ছয়মাসে ৯ জনের আত্নহত্যা, বিষয়টি উদ্ধেগজনক। অত্যাচারিত হতে হতে যখন কোনো মানুষ এমন একটা পর্যায় পৌঁছায়, যে অত্যাচারের প্রতিকার পাওয়ার কোনো রাস্তা থাকে না, তখন অনেকে আত্মাহুতি দিয়ে ফেলেন। আত্নহত্যা রোধ করতে হলে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সেটা হতে পারে ধর্মীয়ভাবে, পারিবারিকভাবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

এব্যাপারে সীতাকুণ্ড নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব লায়ন মো.গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডে চলতি বছরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৯ টি যা অস্বাভাবিক। বর্তমান যারা হতাশ, আর ভবিষ্যৎ অন্ধকার সে তখন আত্নহত্যা বা আত্নহননের পথ বেঁচে নেয়। যাঁরা আত্নহত্যা করে তারা এক ধরনের মানসিক রোগী। তাই এ ধরনের লোকদের সামাজিকভাবে সচেতন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে এ পথ হতে ফিরিয়ে আনতে হবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।